ইবির ইইই বিভাগে গ্রহণযোগ্য অ্যালামনাই কমিটি গঠনের দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের

ইবির ইইই বিভাগে গ্রহণযোগ্য অ্যালামনাই কমিটি গঠনের দাবি সাবেক শিক্ষার্থীদের

ইবি প্রতিনিধি:

সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে রাখা হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ সাবেক শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে হঠাৎ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ।

মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এসময় বিভাগটির বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা অংশগ্রহণমূলক ও একটি গ্রহণযোগ্য অ্যালামনাই কমিটি গঠনের দাবি জানান।

জানা গেছে, গত ৮ ও ৯ মার্চ ইইই বিভাগের রজত-জয়ন্তী ও প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগটির শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় ২২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী জগলুল পাশা কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেন। এ ছাড়া একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থী ও বিভাগটির শিক্ষক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান কমিটিতে তাকে দেওয়া পদ প্রত্যাখ্যানসহ এলামনাই কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দ্বিমত পোষন করে কমিটি স্থগিত করার আহ্বান জানান। তাদের দাবি, অধিকাংশ সাবেক শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে হঠাৎ করেই এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ দিকে এ ঘটনায় বিভাগের ১৯৯৬-১৯৯৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী এএনএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাদ্দেস হানিফ টলিনও তার পদ প্রত্যাখান করেন। তার অনুপস্থিতিতে ও তাকে না জানিয়েই এই পদ দেওয়ায় স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, ইইই বিভাগের কতিপয় এলামনাইয়ের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পন্থা অবলম্বন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সময় গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয় উল্লেখ করা হলেও সে বিষয়ে কোন এলামনাই পূর্বে কিছু জানতেন না দাবি তাদের। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় প্রধান বরাবর লিখিত বক্তব্যও প্রদান করা হয়ছে বলে জানান তারা।

তারা আরও দাবি করেন, ২২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতিসহ চারটি পদ একই ব্যাচ থেকে ও সাধারন সম্পাদকসহ দুটি পদ অন্য একটি ব্যাচ থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে ২৩ টি ব্যাচ থেকে অ্যালামনাই আছে। ছয়টি ব্যাচ থেকে কোন সদস্য নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

কমিটিতে শিক্ষকদের রাখা নিয়ে বক্তারা বলেন, আমরা আসলে কারোর বিরুদ্ধে বলছি না, আমরা বলছি ইস্যুর বিরুদ্ধে। কমিটি গঠনের পূর্বে সংবিধান, গঠনতন্ত্রসহ বেশকিছু নিয়ম মানতে হয়, কিন্তু সেগুলো অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি নির্বাচন কমিশন হিসেবে কারা ছিলো সেটাও আমরা জানিনা। আর যিনি যে প্রতিষ্ঠানের বেতন ভোগ করেন, তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি হতে পারেন না। কারণ অ্যালামনাইরা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী ডোনার গ্রুপ। যারা বিভাগে কন্ট্রিবিউট করে থাকে। সেখানে যদি শিক্ষকরা মেইন পোস্ট হোল্ড করেন, তবে সেটা ফলপ্রসু অ্যালামনাই হয় না।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, এই কমিটির নিয়ে যারা যত অভিযোগ তুলেছেন, এর কোনোটির সাথেই আমি একমত নই। যখন কমিটির গঠন করা হয় তখন অভিযোগকারীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যেহেতু বিভাগের সার্বিক কল্যাণের জন্যই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, তাই যারা কমিটি নিয়ে অসন্তুষ্ট, ইদের পর তাদের সঙ্গে বিভাগের একাডেমিক কমিটি বিষয়টি নিয়ে বসবে।

সর্বশেষ