২১ আগস্ট এক নজরে বাংলাদেশ

২১ আগস্ট এক নজরে বাংলাদেশ

 

বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্রের মতবাদ পুঁজিবাদী বিশ্বের জন্য অনেক বড় থ্রেট ছিল :  শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :

          শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, একাত্তরের পরাজয়ের গ্লানি ও প্রতিশোধপরায়ণতা এবং শোষিতের গণতন্ত্রের মতাদর্শের কারণে বঙ্গবন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্রের মতবাদ পুঁজিবাদী বিশ্বের জন্য অনেক বড় থ্রেট ছিল। তার এই মতাদর্শের কারণে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের অনুপ্রেরণার  উৎস। তাই তাঁকে বিশ্ব মোড়লদের অনেক ভয় ছিল।

          আজ রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ‘১৫ই আগস্ট ২০২২: শোক থেকে শক্তির ক্রমউত্থান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

          আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মশিউর রহমান।

          মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর রক্তকেও অনেক বেশি ভয় ছিল ঘাতকদের। তাই তাঁর পরিবারের প্রায়  সবাইকে  হত্যা করে তাকে  নির্বংশ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাদের ভয় অমূলক ছিল না। তার প্রমাণ আজকের শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

          শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদেরকে অসাম্প্রদায়িক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায়  জোর দিতে হবে।

 

আওয়ামী লীগ জনগণের দল, আমাদের শক্তি জনগণের শক্তি : আইনমন্ত্রী

 

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :

          আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আমাদের শক্তি জনগণের শক্তি। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে। আগামী নির্বাচনেও জনগণের ভোটে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ। এজন্য অন্য কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।

          জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তৃতায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

          মন্ত্রী বলেন, তৎকালীন পূর্ব বাংলার অনেক বড় বড় নেতা পাকিস্তানের সামরিক জান্তাদের সাথে আপস করলেও বঙ্গবন্ধু কখনও আপস করেননি। এজন্য পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা বঙ্গবন্ধুকে ভয় পেতেন। বঙ্গবন্ধুকে ভয় পাওয়ার যুক্তিও ছিল। বঙ্গবন্ধু সবসময় নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করতেন। তিনি গেরিলা যুদ্ধে বিশ্বাস করতেন না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি সবসময় জনগণকে সাথে নিয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে বিশ্বাসী ছিলেন। কারণ তাঁর ছিল প্রবল দেশপ্রেম এবং ছিল জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা, বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

          মন্ত্রী দুঃখ করে বলেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তারা যাকে হত্যা করার সাহস পায়নি, সেই বঙ্গবন্ধুকে আমরা হত্যা করেছি। এই কলঙ্ক আমরা কোনোদিন মোচন করতে পারবো না।

          আনিসুল হক বলেন, জাতির পিতার আদর্শ, দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমরা বর্তমানে কঠিন সময় পার করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই কঠিন সময় অবশ্যই আমরা মোকাবিলা করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। তাঁর নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে  উন্নত বাংলাদেশ  বিনির্মাণ করতে পারবো।

          আলোচনা সভায় আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোঃ মইনুল কবির, আইন ও বিচার  বিভাগের  সচিব মোঃ গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহিদুল আলম ঝিনুক, সুপ্রীম কোর্টের  ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল মোঃ গোলাম রাব্বানী, অতিরিক্ত সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী,  যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম ও কাজী আরিফুজ্জামান,  উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব ও গাজী কালিমুল্লাহ বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শ নিয়ে আলোচনা করেন।

          অনুষ্ঠান শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

 

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে কাতারের শ্রম মন্ত্রীর বৈঠক

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :   

কাতারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের  সাথে কাতারের শ্রম মন্ত্রী আলী বিন সাইদ বিন সামিখ আল মাররি’র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় মন্ত্রীদ্বয় কাতারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্নয়ন, কাতারের শ্রম আইন, কর্মীদের সামগ্রিক সুরক্ষা ও দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া বৈঠকে কাতারে নার্সিং, হসপিটালিটি, নির্মাণ, সেবা এবং আইটি খাতে বাংলাদেশ হতে প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কর্মীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং দায়িত্বশীল। তারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষতা ও সফলতার সাথে অবদান রাখছে। এছাড়া বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রী কাফালা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ বিষয়ে কাতারের ইতিবাচক সংস্কারের প্রশংসা করেন।

বৈঠকে কাতারের শ্রম মন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কাতারের শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। এই আইনে দেশীয় শ্রমিকদের মতো বিদেশি শ্রমিকরা যাবতীয় সুবিধাদি পাবে। তিনি কাতারের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ কর্মী প্রেরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান নিয়োগকর্তারা বিদেশি শ্রমিকদের সাথে কোনো ধরনের আইন পরিপন্থী কাজ করলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, কাতারে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠন করা হয়েছে। কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পাওনা পরিশোধ করতে অসমর্থ হলে এই তহবিল থেকে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। একইসাথে তিনি কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের কাতারের আইন মেনে চলার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকারের বিষয়ে আরো সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।  

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন কাতার শ্রম মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্টেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি হাসান আল ওবাইদলি, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসিম উদ্দিন, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)’র মহাপরিচালক শহীদুল আলম এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন।

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড খালেদা ও তারেক : পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :

          পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান। আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানসহ পলাতকদের অচিরেই দেশে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে হবে এবং এদের দল বিএনপি’র বিচার করতে হবে। এই খুনি ও সাম্প্রদায়িক দল বিএনপিকে কানাডার আদালত সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে রায় দিয়েছিল।

          ২০০৪ সালের ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা ও সখিপুর থানায় আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

          ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় স্প্রিন্টার বয়ে বেড়ানো এনামুল হক শামীম বলেন, একাত্তরের লাখো শহিদের রক্তে যে মাটি ভিজেছিল, যে মাটি বঙ্গবন্ধুর রক্তে ভিজেছিল পঁচাত্তরে, সেই মাটিতে আবারো রক্তস্রোত, যা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে দেখেছে। সেদিন তাদের টার্গেট ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পঁচাত্তরের বুলেট ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে ফিরে আসে প্রাণঘাতী গ্রেনেড হয়ে। নেতাকর্মীরা প্রাণপণ লড়াই করে নেত্রীর সুরক্ষায় গড়ে তোলে মানবঢাল।

          উপমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত দেশ বিরোধী মহাপরিকল্পনা করে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। ‘৭৫ এ জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাস্টারমাইন্ড। আর ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হত্যা পরিকল্পনার মাস্টারমাইন্ড খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান। গ্রেনেড হামলার পর তারা মামলা পর্যন্ত করতে দেয়নি। তারা জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিল। তবে তারা সফল হয়নি, সফল হবেও না। বাংলার মাটিতেই তাদের বিচার হবে।’

          এসময় বক্তব্য রাখেন নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক, পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান খোকন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক সরকার।

 

সারের মজুত পর্যাপ্ত

তদারকি জোরদার ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ কৃষি সচিবের

 

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :

কেউ যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে ও দাম বেশি নিতে না পারে-সে বিষয়ে তদারকি জোরদার এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষিসচিব মোঃ সায়েদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে, কোথাও সারের সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।  

 আজ সচিবালয়ে ভার্চুয়ালি ‘সার্বিক সার পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ সভায় কৃষিসচিব এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলাই কৃষ্ণ হাজরা, বিএডিসির চেয়ারম্যান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সারা দেশের জেলা-উপজেলাসহ মাঠ পর্যায়ের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সংযুক্ত ছিলেন। সভায় প্রতিটি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকবৃন্দ সারের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। 

কেউ কেউ গুজব ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংকট তৈরি করছে কি না সে ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাদের বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করার আহ্বান জানান কৃষিসচিব।

আলোচনা শেষে সভায় সঠিকভাবে সার বিতরণ-বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের কতিপয় নির্দেশনা প্রদান করেন কৃষিসচিব। ডিলাররা যেন বরাদ্দকৃত সার যথাসময়ে উত্তোলন করে তা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং জোরদার করা। কোনো কোনো ডিলার বরাদ্দকৃত সার যথাসময়ে উত্তোলন না করার কারণে সার বিক্রির সময় রেশনিং করে থাকেন যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে কৃষকের মাঝে এক ধরনের কৃত্রিম আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। কোন ডিলার যেন নিয়মবহির্ভূতভাবে সার বিক্রিতে রেশনিং না করতে পারেন, সেজন্য ডিলারদের সতর্ক করাসহ তদারকি বৃদ্ধি করা।

রশিদ ছাড়া যেন সার বিক্রি না হয় তা নিশ্চিত করা। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার দোকানে লালসালুতে বা ডিজিটালি সারের মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখতে হবে। ডিলারে গুদাম ভিজিট করে সারের অ্যারাইভাল নিশ্চিত করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে কৃষি বিভাগ নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করবে এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। অধিক মূল্যে সার বিক্রির কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া গেলে সাথে সাথেই তা রিপোর্ট করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে উপজেলা কৃষি অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিলারদের নিয়ে সভা করে কৃষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সবাইকে সারের পর্যাপ্ততা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

সভায় জানানো হয়, চাহিদার বিপরীতে দেশে সব রকমের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে ইউরিয়া সারের মজুত ৬ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন, ডিএপি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টন, এমওপি ২ লাখ ৭৩ হাজার টন। সারের বর্তমান মজুতের বিপরীতে আমন মৌসুমে সারের চাহিদা হলো ইউরিয়া ৬ লাখ ১৯ হাজার টন, টিএসপি ১ লাখ ১৯ হাজার টন, ডিএপি ২ লাখ ২৫ হাজার টন, এমওপি ১ লাখ ৩৭ হাজার টন।

বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও সারের বর্তমান মজুত বেশি। বিগত বছরে এই সময়ে ইউরিয়া সারের মজুত ছিল ৬ লাখ ০৬ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ২ লাখ ২৭ হাজার টন, ডিএপি ৫ লাখ ৫৬ হাজার টন এবং এমওপি ১ লাখ ৯৬ হাজার টন।

 

২১ আগস্ট বিএনপির হত্যা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির ভয়াল নজির : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :   

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, ‘হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে জন্ম নেয়া বিএনপির হত্যা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির ভয়াল নজির হচ্ছে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। বিএনপি ও তাদের দোসররা, জামাত, জঙ্গিগোষ্ঠী যদি রাজনীতিতে দাপিয়ে বেড়ায়, তাহলে এই অপরাজনীতি বন্ধ হবে না।’

আজ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী একথা বলেন। ‘২০০৪ সালের ভয়াল ২১শে আগস্টে ঢাকায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হাওয়া ভবন ও তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ পরিচালনায় বেগম খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে তৎকালীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল বলেন তথ্যমন্ত্রী। 

গ্রেনেড হামলায় আহত এবং শরীরে স্প্লিন্টারবাহী মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অলৌকিকভাবে বেঁচেছেন। কিন্তু আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ২৪জন নিহত এবং ছয়জন সংসদ সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছিলেন, অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, আহতরা সবাই গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দল পার্লামেন্টে একটি নিন্দা প্রস্তাব আনতে দেয়নি বরং হাস্যরস করা হয়েছে। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলা হয়েছে যে আমাদের নেত্রী না কি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড বোমা নিয়ে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর কারাগার এবং আরো বিভিন্ন স্থানে গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। পরে জানা যায়, কারাগার থেকে কয়েদিদের ধরে এনে এই গ্রেনেড হামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল এবং হামলার আগে বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরও দেশে আনা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা বেঁচে গেছেন জানার পর সেই খুনিরা আবার বিদেশে চলে যায়। বেগম খালেদা জিয়া সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো এবং ডিজিএফআইকে তদন্ত করার অনুমতিও দেয়নি।’ 

‘জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান সেই হত্যার বিচার বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করে যেভাবে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন, যেভাবে সেনাবাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানদের বিনাবিচারে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন, যেভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা-নির্যাতন করা হয়েছিল, ২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করা, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে গ্রামের পর গ্রাম  নির্যাতন চালিয়ে যেভাবে সংখ্যালঘুদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল, যে কারণে আমাদের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খুলতে হয়েছিল, গ্রেনেড হামলা এবং এসব ঘটনাই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিএনপির কাছে এসবের জবাব চাই,’ বলেন ড. হাছান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তারা গুম, খুনের কথা বলে, অনেকে গুম হয়েছে বলে প্রচার করেছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে যে তারা ফিরে এসেছে। তারা তাদের নেতা সালাহউদ্দীন সাহেবও গুম হয়েছিলেন বলেছে পরে তাকে মেঘালয়ে খুঁজে পাওয়া গেছে। এবং আরো অনেককেই খুঁজে পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারার তাদের নেতা জামাল উদ্দীনকে তো বিএনপিই হত্যা করেছে। এরকম অনেক বিএনপি নেতাকে তারা নিজেরাই গুম করেছে। আজকে তারা গুম, খুনের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরোত্তর বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দলের ভিত জনগণ। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই বলীয়ান। আমরা জনগণের শক্তিতেই বিশ্বাস করি। জনগণের রায় নিয়েই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় সরকার পরিচালনা করেছে এবং ক্ষমতায় গেছে। আমরা মনে করি জনগণ ছাড়া অন্য কেউ সরকার টিকিয়েও রাখতে পারে না এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্বও দিতে পারে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার বক্তব্য ডিসটর্ট করা হয়েছে। আর তিনি ব্যক্তিগতভাবে কার সাথে কী বলেছেন, কী গল্প করেছেন, সেটার দায়ভার সরকার কিংবা দলের নয়।’

সাংবাদিকরা আরো এমন সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য তুলে ধরলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকলে দায়িত্বশীলভাবে কথা বলা দরকার। আমি নিজে কথা বলার সময় খুব সতর্ক থাকি।’ 

 

২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শহিদদের স্মরণে বায়তুল মোকাররম মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :   

২০০৪ সালের ২১শে  আগস্ট বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের সময় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি বিরোধী সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ বায়তুল মোকাররম মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান মিলাদ ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন। ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মোঃ মুশফিকুর রহমানসহ ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক মুসুল্লি মিলাদ ও দোয়ায়  অংশগ্রহণ করেন।  দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী।

দোয়া ও মোনাজাতে ২১শে আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় শহিদদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

 

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে : ভূমি সচিব

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :   

ভূমি সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর  ব্যবস্থা ভূমি সেক্টরে দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার পর দাখিলা সংগ্রহ করতে গিয়ে এখন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না জনগণের। অনলাইনে এলডি ট্যাক্স দেওয়ার সাথে সাথে অনলাইনেই দাখিলা পাওয়া যাচ্ছে। 

আজ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করার সময় ভূমি সচিব একথা বলেন।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সম্প্রতি পটুয়াখালীতে পাইলটিং শুরু হওয়া বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এ জরিপে যেমন সময় কম লাগবে, তেমনি দুর্নীতির সম্ভাবনাও কমবে। ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত করার পর খসড়া খতিয়ান প্রস্তুত ও প্রদানের কাজও ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে। বিডিএস-এ প্রস্তুত করা মানচিত্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্মার্ট ম্যাপ, যেখান থেকে ম্যাপে ক্লিক করেই সংশ্লিষ্ট প্লটের মালিকানার তথ্য পাওয়া যাবে।

ভূমি সচিব স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে বিভাগীয় কমিশনারদের আহ্বান জানান। এছাড়া, ই-নামজারি আবেদনের সময় সরকারের কাছে সংরক্ষিত দলিলাদি পুনরায় যেন আবেদনকারী থেকে চাওয়া না হয় সে ব্যাপারে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ প্রদান করেন সচিব। তিনি মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য রিপোর্টিং ড্যাশবোর্ড নিয়মিত পর্যালোচনা করার অনুরোধ জানান।

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর, ডিজিটাল রেকর্ড রুম, আন্তঃজেলা ভূমি বিরোধ, ভূমি অফিস নির্মাণ ও জনবল নিয়োগসহ প্রভৃতি ভূমি বিষয়ক আলোচনা হয় সমন্বয় সভায়। 

ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান সোলেমান খান, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বাংলাদেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিববৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একসূত্রে গাঁথা : রেলমন্ত্রী

 

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :   

 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রেল ভবনে আজ এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রী মোঃ নূরুল ইসলাম সুজন।

          রেলমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু একসূত্রে গাঁথা। আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে দেশকে গড়ে তোলা।  তিনি গরিব, দুঃখী, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সারাজীবন চেষ্টা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও সুষম সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সেটা চায়নি বলেই তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানিরা ধর্মকে ব্যবহার করে এদেশের মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। তাই তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যা নয়। মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য, গৌরবগাথা, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বিতর্কিত করার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

          মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ আজ এগিয়ে চলছে। একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণে রেল মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় অবদান রাখাই হবে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া। আমরা যে যে পদের দায়িত্বে আছি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সে দায়িত্ব পালন করাই হবে আমাদের সত্যিকারের দেশপ্রেম।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারসহ মন্ত্রণালয় ও রেল‌ওয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সোনার বাংলা অর্জনের জন্য সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার ও পরিশ্রম করে যেতে হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ঢাকা, ৬ ভাদ্র (২১ আগস্ট) :

 

সোনার বাংলা অর্জনের জন্য সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মনিয়োগ করতে নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ঘাসফুল শিশু-কিশোর সংগঠনের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সোনার বাংলা অর্জনের দায়িত্ব বঙ্গবন্ধু নতুন প্রজন্মকে দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, যতদিন পর্যন্ত আমাদের সোনার বাংলা অর্জিত হবে না, ততদিন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। এই পথ সহজ নয়, কিন্তু আমরা চাইলে অবশ্যই বিজয় লাভ করবো কারণ আমরা বিজয়ী জাতি।

ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনার বাংলা অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের একটি রোডম্যাপ দিয়েছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা সোনার বাংলা অর্থাৎ একটি উন্নত, সমৃদ্ধশালী, স্থিতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, অর্থনীতি গড়ে তুলবো, যেখানে ধনী-দরিদ্রের আকাশসম ব্যবধান থাকবে না, যেখানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য নিশ্চিত হবে।

ড. মোমেন  নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অর্জনের জন্য যা যা করার তিনি তা করে যাচ্ছেন এবং গত ১২ বছরে আমাদের অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে সর্বক্ষেত্রে।

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের হৃদয়ে আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টি করেছেন যে আমরা পারি। পদ্মাসেতু নিজেদের টাকায় তৈরি করে তিনি তার নমুনা দেখিয়েছেন, যা কেউ কল্পনা করে নাই।   

ড. মোমেন নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, তোমাদের স্বপ্ন যদি বড় হয়, তোমাদের অর্জনও বড় হবে। আর তা অর্জনের লক্ষ্যে সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার ও পরিশ্রম করে যেতে হবে।

ঘাসফুল শিশু-কিশোর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান আব্দুল্লাহ বিপ্লবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির শিশু-কিশোরদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অতিথিরা। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন সংগঠনটির শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

সর্বশেষ