Saturday, June 25, 2022
Homeঅর্থনীতিতামাকপণ্যে কর বৃদ্ধির সুপারিশ ৯৭ সংসদ সদস্যের

তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধির সুপারিশ ৯৭ সংসদ সদস্যের

তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধির সুপারিশ ৯৭ সংসদ সদস্যের

 

 

ঢাকা ২১ জুন ২০২২ :

 

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ এন্ড ওয়েলবিং’ এর উদ্যোগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের চূড়ান্ত বাজেটে অর্থমন্ত্রীর নিকট তামাকপণ্যে যুক্তিযুক্ত কর ও মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ জানিয়েছেন ৯৭ জন সংসদ সদস্য।

এই দাবি বাস্তবায়িত হলে, বাড়তি রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি অসংখ্যা মানুষকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো এবং তামাকের ব্যবহার থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

২১ জুন, ২০২২ মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে সাক্ষাত করে টার নিকট সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরিত এই চিঠি (ডিও লেটার) হস্তান্তর করেন পার্লামেন্টারি ফোরামের সাচিবিক সংস্থা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং পরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

এসময় আবু হেনা মোঃ রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধির বিষয়টি এখন মাননীয় সংসদ সদস্যদের এখতিয়ার এবং বিবেচনাধীন রয়েছে। তাঁরা সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়টি উত্থাপন করার মাধ্যমে সুপারিশ করলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আমাদের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সমন্বয় করে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

চিঠিতে সংসদ সদস্যবৃন্দ তামাকপণ্যের মূল্যস্তর চারটি থেকে দুটিতে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেন। তাঁদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো-

১. সকল সিগারেট ব্রান্ডে অভিন্ন করভারসহ (সম্পূরক শুল্ক চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৬৫%) মূল্যস্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ (সম্পূরক) শুল্ক প্রচলন করে নিম্ন স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা, মধ্যম স্তরে ৭৩ টাকা, উচ্চ স্তরে ১২০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৫২ টাকা নির্ধারণ করা।

২. ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়িতে অভিন্ন করভারসহ (সম্পূরক শুল্ক চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৪৫%) সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ (সম্পূরক) শুল্ক প্রচলন করা ও জর্দা এবং গুলের কর ও দাম বৃদ্ধিসহ সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ শুল্ক (সম্পূরক শুল্ক চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৬০%) প্রচলন করা। 

এই চিঠিতে বলা হয়, উল্লেখিত প্রস্তাব ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে এসডিজির টার্গেট ৩.৪ অর্জনে- ‘২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা’র জন্য এই বাড়তি রাজস্ব ব্যয় করা যাবে। নিম্ন স্তরের সিগারেটের মূল্য বেশি বাড়ালে নিম্ন আয়ের সিগারেট ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা করা যাবে। তাঁদের আয়ের প্রায় ২১% ব্যয় হয় তামাক পণ্যের পেছনে। এই অর্থ তামাক পণ্যের পরিবর্তে শিক্ষায় ব্যয় করলে তাঁদের সন্তানদের পড়ালেখার মোট ব্যয় ১১% বাড়ানো সম্ভব হবে।

২০০৯ সাল থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সরকারের তামাকবিরোধী নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে তামাক ব্যবহার ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে ১৮.৫ শতাংশ হ্রাস (Relative reduction) পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখনও ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (৩ কোটি ৭৮ লক্ষ) তামাক (ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন) ব্যবহার করেন, ধূমপান না করেও প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিভিন্ন পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন (গ্যাটস্ ২০১৭)। তামাক ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক ক্ষতির (চিকিৎসা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হারানো) পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, তামাকপণ্যে কর বৃদ্ধির সুপারিশে স্বাক্ষরকারী সংসদ সদস্যগণ হলেন, অধ্যাপক ডা. আ. ফ. ম. রুহুল হক, আ, , , ফিরোজ, মোঃ শামসুল হক টুকু, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন,  মীর মোস্তাক আহমেদ, মো. এনামুল হক, অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, বেগম হাবিবুন নাহার, সিমিন হোসেন (রিমি), নুরুন্নবী চৌধুরী, ওমর ফারুক চৌধুরী, অ্যাড. মোঃ আবু জাহির, অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ, আনোয়ারুল আবেদীন খান, কাজী নাবিল আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, তানভীর ইমাম, এস, এম, জগলুল হায়দার, মোঃ মুজিবুল হক, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী, মোস্তাফা জব্বার, গোলাম কিবরিয়া টিপু, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্;

 কে এম খালিদ, নাসরিন জাহান রতনা, রওশন আরা মান্নান, মোছাঃ খালেদা খানম, বদরুদ্দোজা মোঃ ফরহাদ হোসেন, মোহাম্মদ হাছান ইমাম খাঁন, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, পংকজ নাথ, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, সামছুল আলম দুদু, মোঃ আক্তারুজ্জামান, আব্দুল মমিন মন্ডল, বেগম মেহের আফরোজ, মোঃ নজরুল ইসলাম বাবু, ছোট মনির, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, মোঃ ছানোয়ার হোসেন, সেলিমা আহমাদ, ডা. সৈয়দা জাকিয়া নুর, আয়েশা ফেরদাউস, মোঃ শফিউল ইসলাম, সেখ সালাহউদ্দিন, প্রান গোপাল দত্ত, মোঃ শিবলী সাদিক, শাহীন আক্তার, শিরীন আহমেদ, অ্যাড. সৈয়দা রুবিনা আক্তার, জিন্নাতুল বাকিয়া, সুবর্ণা মুস্তাফা, ওয়াসিকা আয়শা খান;

হাবিবা রহমান খান, নার্গিস রহমান, মোছাঃ শামীমা আক্তার খানম, পারভীন হক সিকদার, জাকিয়া তাবাস্‌সুম, আদিবা আনজুম মিতা, রুমানা আলী, নাহিদ ইজাহার খান, খাদিজাতুল আনোয়ার, হোসনে আরা, আন্জুম সুলতানা, সৈয়দা রাশিদা বেগম, গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, খঃ মমতা হেনা লাভলী, শবনম জাহান, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন, সেলিনা ইসলাম, মনিরা সুলতানা, সালমা চৌধুরী, নাদিরা ইয়াসমিন জলি, রত্না আহমেদ, নাজমা আকতার, শেরীফা কাদের, রুমিন ফারহানা, মোঃ আফতাব উদ্দিন সরকার, এম এ মতিন, ডাঃ সামিল উদ্দিন আহম্মেদ শিমুল, মোঃ হারুনুর রশীদ, আহমেদ ফিরোজ কবির, হাসানুল হক ইনু, মোঃ সাইফুজ্জামান, কাজী মনিরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, লুৎফুন নেসা খান।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular