Thursday, June 30, 2022
Homeজাতীয়জনশুমারি ও গৃহগণনা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী

জনশুমারি ও গৃহগণনা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী

জনশুমারি ও গৃহগণনা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী

 

জনশুমারি ও গৃহগণনা উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

 

ঢাকা ১৪ জুন ২০২২ :

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১৫ জুন ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ১৫-২১ জুন, দেশব্যাপী ষষ্ঠ ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেনে আমি আনন্দিত। এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে Computer Assisted Personal Interviewving (CAPI)-এর মাধ্যমে দেশের সকল গৃহ ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হবে যা দ্রুততম সময়ে  শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা পরিবীক্ষণে পরিসংখ্যানের অপরিহার্য গুরুত্ব অনুধাবন করে ৪টি পৃথক পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানকে একীভূত ও সুসমন্বিত করে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে বিবিএস-এর সার্বিক কর্মকাণ্ড সমন্বয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে পবিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘পরিসংখ্যান বিভাগ’, যার বর্তমান নাম ‘পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ’।

পরিসংখ্যান একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরিমাপক। আমি বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সঠিক, নির্ভরযোগ্য এবং সময়োপযোগী পরিসংখ্যান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আওয়ামী লীগ সরকার সকলক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য গ্রহণযোগ্য ও মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান সংগ্রহ এবং প্রকাশ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়া ও পরিজ্ঞাতকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে চাহিদা মাফিক উপাত্ত সরবরাহ এবং পরিসংখ্যান বিষয়ক কার্যক্রম সময়োপযোগী ও ত্বরান্বিতকরণে আমাদের সরকার সর্বদা সচেষ্ট। জাতীয় পরিসংখ্যানিক ব্যবস্থাকে আইনগত ভিত্তি প্রদানের জন্য ‘পরিসংখ্যান আইন-২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত জনশুমারি ও গৃহগণনা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশে পরিচালিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিসংখ্যানিক কার্যক্রম। বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করার মাধ্যমে মানুষের সর্বোচ্চ কল্যাণ সাধনই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি আশা করি, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন, নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নসহ অন্যান্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিবীক্ষণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। তাই শুমারিকর্মীগণকে সঠিক তথ্যপ্রদান ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সকল প্রকার সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আমি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

আমি প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

 

জনশুমারি ও গৃহগণনা উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির বাণী

 

ঢাকা ১৪ জুন ২০২২ :

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ১৫ জুন ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক ১৫-২১ জুন, ২০২২ সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেশব্যাপী ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ এর তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পূরণ ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনে প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

শুমারিতে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে তথ্যসংগ্রহ করা এবং তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তথ্যসংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে স্বল্প সময়ের প্রয়োজন হবে। এছাড়া শুমারির গুণগতমান রক্ষা করে দ্রুততম সময়ে শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গঠনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রে সুষম ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রমাণক নির্ভর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত থাকা আবশ্যক। রূপকল্প ২০৪১, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-সহ অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ এর তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা রাখি।

জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে জনশুমারি ও গৃহগণনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ সফল ও সার্থক হোক – এ প্রত্যাশা করি।

প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ এর সকল কার্যক্রমের সফল হোক – এ কামনা করছি।

জয় বাংলা, খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular