Saturday, June 25, 2022
Homeজাতীয়মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ প্রায় অচেনা হয়ে উঠেছে : পঙ্কজ ভট্টাচার্য 

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ প্রায় অচেনা হয়ে উঠেছে : পঙ্কজ ভট্টাচার্য 

মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ প্রায় অচেনা হয়ে উঠেছে : পঙ্কজ ভট্টাচার্য 

 

ঢাকা ২০ মে ২০২২ :

 

ঐক্য ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা  ২০ মে, ২০২২ মণিসিংহ ফরহাদ স্মৃতি ট্রাষ্ট-এ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের এডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক।

সাংগঠনিক প্রস্তাব ন্যাপের অংশ সমূহের ঐক্য কনভেনশন ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠানের সকলকে উদাত্ত আহŸান জানান।

সভায় করোনাকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দ যাদের কে হারিয়েছে তাদের স্মরণে দাড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আব্দুল মুনায়েম নেহেরু প্রেসিডিয়াম মেম্বার ঐক্য ন্যাপ।

সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য পারম্ভিক বক্তব্যে অধিকাংশ জনগণের মানসম্পন্ন খাদ্যলাভে অক্ষমতা, নারী নির্যাতন, পাচার আত্মহত্যা, বেওয়াবিশ লাশ পাওয়া যায়, কর্মহীন-বেকারত্ব, গরীবের সংখ্যা দ্বিগুন বৃদ্ধির উল্লেখ্য করে বলেন, রক্তপিপাষা, অর্থপাচারকারী, পিকে হালদার হয়ত ধরা পড়বে, হালদার পৃষ্টপোষকরা অক্ষত থাকবে।

আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ প্রায় অচেনা হয়ে উঠেছে। বর্তমান বাংলাদেশ কী মাফিয়া বাংলাদেশ হয়ে উঠছে না ? বাজার অর্থনীতি কী সিন্ডিকেট কবলিত নয় ? বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হবে না?

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে বাক-ব্যক্তি-সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল কালো আইনে গণতন্ত্র সংকুচিত ও বিপন্ন হবে আর নির্বাচনের অধিকারহীন জনগণ আস্থাহীন থাকবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর এর স্থায়ী সমাধান করাই হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সুরক্ষার নামান্তর। অন্যথায় প্রিয় স্বদেশ ধাবিত হবে অস্থির, অনিশ্চিত, অসাংবিধানিক পথে। সাধু সাবধান।

সভায় উস্থিত ছিলেন সভাতিমন্ডলীর সদস্য এস এম এ সবুর, নাসিরুল ইসলামে জুয়েল, আব্দুল মুনায়েম নেহেরু, রঞ্জিত কুমার সাহা, অলিজা হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশিদ ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগর সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম, মহানগর সাধারণ সম্পাদক সাহাবউদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির জেলা নেতৃবৃন্দ ৪২ টি জেলা থেকে উপস্থি ছিলেন।

সভাপতির প্রারম্ভিক ভাষণ : কেন্দ্রীয় কমিটির সভা : ২০ মে, ২০২২

আমাদের জীবদ্দশায় এইরূপ অস্থির-অনিশ্চিত-বিপন্ন সময় এবং করোনার মত করাল গ্রাস আর দেখিনি। দুই বছরের করোনা মহামারীর কারণে লকডাউনে থেকে আমরা গঠনতন্ত্র মেনে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা করতে পারিনি- জাতীয় সম্মেলন তো দূরের কথা। এই দুঃসময়ে জাতিকে মেধাহীন করে তুলেছে। যারা ছিলেন স্মরণীয় বরণীয় তাদের অনেকজনকে হারিয়েছি। হারিয়েছি আপনজনদের এই আপৎকালীন সময়জুড়ে, অতীতে যা দেখা যায়নি কখনও। তাঁদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করছি- এখনও আমরা বিপদমুক্ত নই। কিছু দেশে এই অতিমারী নিত্য নতুন ধরণ নিয়ে হানা দিচ্ছে- বাংলাদেশ পুণরায় বিপন্ন হতে পারে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশ-আন্দোলন, সংগঠনের কাজ-জনগনের জীবনের বহুমাত্রিক সমস্যা- সংকটের প্রতিকারে সর্তকতার সাথে নামতে হবে- এর কোন বিকল্প নাই।

মোটাদাগে জাতীয় সংকটের বহুরূপী রূপ-নি¤œরূপ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি- রকেটগতি, নিয়ন্ত্রনহীন- রক্তচোষা সিন্ডিকেট সরকারকে বাধ্য করে তাদের লুন্ঠন অবাধ করতে- সরকার তাতে “টলারেন্সের” নীতি মানতে বাধ্য হয়। ব্যবসায়ী মন্ত্রী টিপু মুন্সীকে দুঃখ করে বলতে হয়, “ব্যবসায়ীরা কথা দিয়ে কথা রাখেনি।” এই হোল সরকারী কর্তার আক্ষেপ। ব্যবসায়ী নির্ভর, জন নির্ভর নয়- এমন সরকারের এটাই নিয়তি হয়। আসুন দেখি জনচিত্র- পরিসংখ্যান কী বলে- শতকরা ৪১ ভাগ লোক স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারে না। শতকরা ২৮ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার- উচ্চতা স্বাভাবিকের চাইতে কম। শতকরা ৪০% নারী রক্তশূন্যতায় ভোগে, অপুষ্টির শিকার। মেহেরপুরে শতকরা ৭৬ ভাগ মানুষের উপযুক্ত মানের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সাধ্য নেই।

২০২০ সনে পরিসংখ্যানে দেখি শতকরা ২৯.০৫  ভাগ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে করোনার করাল গ্রাসে এবং অতিধনিক লুটেরা সিন্ডিকেটের অবাধ লুন্ঠন এবং সরকারের কঠোর প্রতিকার ব্যবস্থার অপারগতার কারণে, বিদ্যমান রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধাবস্থার সুবাদে রাঘব-বোয়ালদের পুটি-মোলাসহ ছোট মাছ গিলে খাওয়ার অবাধ সুযোগে দরিদ্রের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি, কর্মহীনতা দ্বিগুনের বেশি বৃদ্ধির আশঙ্কা হিসাবে  অর্থনীতিবিদের মতে ১৪ হাজার অতিধনিক পয়দা হচ্ছে প্রতিবছর।

মধ্যবিত্তের একাংশ নি¤œবিত্তে নেমেছেন, নি¤œবিত্তের বৃহদাংশ বিত্তহীনে নামছেন নিয়মিত। মারাক্তক ভাবে বেড়েছে মানসিক রোগ, মা-বাবা শিশুদের বিষ খাইয়ে নিজেরাও মরছেন, ট্রেনের নিচে শিশুকোলে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন, বিশেষ ভাবে করোনাকালীন অবরুদ্ধ জীবনে ঢাকা শহরের মহম্মদপুর, মিরপুরসহ চারটি থানায় ৪৫জন কিশোরী এক মাসের মধ্যে অপহরনের শিকার হওয়া থেকে কিশোরী অপহরনের দেশ ব্যাপী বিপুল সংখ্যা অনুমেয়। শিশু অপহরন রেকর্ড ভেঙ্গেঁ চলেছে। হাজার হাজার বেকার যুবকদের বিদেশী সোনালী স্বপ্ন দেখিয়ে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়ে দেশী বিদেশী মানবব্যবসায়ীরা তাদের প্রশান্ত মহাসাগর-ভূমধ্যসাগরে ডুবিয়ে মারছেন এবং নির্যাতনে হত্যা করছেন- বাংলাদেশ এক্ষেত্রে প্রধান সারিতে রয়েছে।  জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বলছে বাংলাদেশে করোনার মৃত্যু সংখ্যা যা সরকারীভাবে দেখানো হয়েছে তার পাঁচগুন অথ্যাৎ ৮০ হাজারের উর্ধ্বে।

ঈদের দুদিনপরে তেল আমদানীকারকদের আবদারে সরকার তেলের দাম একলাফে ৩৮ টাকা বাড়ালো- তেল বাজার থেকে উধাও হোল- ২০ দোকানের মধ্যে এক দোকানে আরও বেশী মূল্যে তেল গোপনে কিনতে হবে- কিংবা তেলের সাথে চা কিনতে বাধ্য করা অতি মুনাফার কারবারীরা কী শোষনের স্বাধীনতা ভোগ করবে- জেগেছে প্রশ্ন জনমনে।

তাহলে সরকার- প্রশাসনের দরকার কী?  তেল- মজুতদার- মুনাফাখোরদের সামনে সরকারও অসহায়। যদিও এখন কয়েক লাখ লিটার মজুতদারদের গুদামে আবিষ্কার হচ্ছে। অপরাপর ভোগ্যপন্যের বাজার ক্রমাগত প্রায় প্রতিদিন লাগামহীন- গুটি কয় ব্যক্তির সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে বাজার অস্থির- অসহায় ক্রেতা ও ভোক্তা তাদের দেখার কেউ নাই।

বাজেট :

সংসদে পেশ হচ্ছে আয় ছাড়া বেশী ব্যয়ের আগামী বাজেট সেখানে আয় বাড়ানোর সুষ্ঠু উদ্যোগ নেই, অপচয়, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধের সঠিক উদ্যোগ নেই, সাধ্য ও ক্ষমতা সরকারের নেই। ৬ লক্ষ ৭৭ কোটি টাকার বিরাট অংকের বাজেট কোন সুখবর দিতে পারছে না। সরকারের ভর্তুকী বাড়বে, বাড়বে মৃদ্রাস্ফীতি- যুদ্ধের কারণে তেল, গ্যাস, সার সহ কিছু পন্যের মূল্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যটি দেখুন- তিনি বলেছেন “ঋন নিয়ে হলেও ব্যয় করতে হবে, ব্যয় করলে অর্থের চলাচল বাড়বে- অর্থনীতি সচল হবে” বছরের সেরা রসিকতা অভাগা দেশবাসীকে এভাবে শোনানো হয়।

সংখ্যাগরিষ্ট দেশবাসীর সুরক্ষা কবচ হবে তার কোন আলামত দৃশ্যমান নয়। আমাদের স্পষ্ট দাবি দরিদ্র-অভাবী সংখ্যাগরিষ্ট স্বল্প বিত্তের স্বার্থে জাতীয় জরুরী ভিত্তিক জনবান্ধব বাজেট চাই- তথাকথিত মেগা প্রজেক্টের নামে ব্যবসায়ী ধনিক বান্ধব বাজেট চাই না। সব চেয়ে বড় কথা মাথাপিছু যে আয় ২৮০০ ডলারের উপরে দেখানো হচ্ছে তা দিয়ে প্রান্তিক মানুষের আয়-রোজগার জীবনমান বোঝা যায় না। মনে রাখা দরকার ৯০ বছর পূর্বে শ্রীলঙ্কার মাথাপিছু আয় ছিল বাংলাদেশের দ্বিগুন প্রায়। শ্রীলঙ্কা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

অনিবার্যভাবে আগামী বাজেটে খাদ্য ও নগদ সহায়তা বৃদ্ধি, যুব কর্মসংস্থানের জরুরী পরিকল্পনা, আদিবাসী, দলিত, শ্রমজীবি, ক্ষেতমজুর সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাঁচিয়ে রাখা, বাল্যবিবাহ, শিশু শ্রম, শিক্ষায়তন থেকে শিশু ঝড়ে পড়া রোধে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর ভাতা ন্যূনতম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের বছরে এক লাখ টাকা “এডুকেশন ক্রেডিট কার্ড” দেয়া নি¤œ ও মধ্যবিত্তকে রেশনিং এর আওতায় আনা জাতীয় জরুরীকালীন যুদ্ধ ও আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার বাজেট  আমরা দাবী করি।

মূদ্রাস্ফীতি বেড়ে চলেছে, অব্যাহত থাকবে, সরকারী হিসাবে মূদ্রাস্ফীতি দেখানো হচ্ছে ৬ শতাংশ- যা দ্বিগুন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ^বাজারে পন্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। ডলারের বিপরীতে টাকায় ৮০ পয়সা অবমূল্যায়ন হয়েছে টাকার মূল্য কমবে ধাপে ধাপে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হবে।
অস্থিতিশীলতা, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা চলছে দেশজুড়ে- দুনিয়াজুড়ে।

হাওরের কান্না ঃ

প্রায় বছরের মত হাওরের ধান পাহাড়ী পানির ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে কাঁচা-আধাকাঁচা ধান তলিয়ে যাবে- হারিয়ে যাবে কৃষকের স্বপ্ন- জাতির ধানের ভান্ডার ধ্বংস হবে এটা নিয়তি হয়ে উঠেছে।  প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণের নামে যে শত শত কোটি টাকা সরকারী দলের লোকেরা “দুর্নীতির নরক”  বানাবার ব্যবস্থাটি অটুট থাকে- কারও বিচার হয় না। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। হাওড়ে ব্রীজ বানাবার তোঘলকি ঘোষনা শুনি যা অযোক্তিক, হাওড়ে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ড্রেজিং করার বিকল্প হতে পারে না। বাঁধ নির্মানের দুর্নীতির বিচার এটাই হাওড় বাসীর গণদাবী। হাওড়ের কান্না বন্ধ, হাওড়ে নিয়মিত ড্রেজিং করে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়াও, হাওড়বাসীর পাশে থাকার জন্য জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলা অতিজরুরী।

পাহাড়ীদের কান্না ঃ

পাহাড়েও আদিবাসী অভাবী মানুষের আহাজারী- তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয়ায় বন-জঙ্গলের ফল-মূল খেয়ে বাঁচার অধিকার, জুম চাষের অধিকার হরণ করে হাজার হাজার একর বন পাহাড় যা ছিল তাদের জীবন জীবিকা তা থেকে শত শত ¤্রাে জাতি গোষ্ঠীর মানুষসহ অপরাপর জাতিগোষ্ঠীর আজ খাদ্যাভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি হবে- বান্দরবনের গহীন অরণ্যে এই কান্না- রাবার কোম্পানীয় লোকেরা প্রশাসনের কাছ থেকে বেআইনী লিজ নিয়ে বন-পাহাড় আগুন দিয়ে আদিবাসী খাদ্য আশ্রয়ের শেষ সম্বল কেড়ে নেবে- বিচার হবে না। বিরতিহীনভাবে চলবে সেনা-বর্ডার গার্ডের স্থাপনা, ট্যুরিজম ও ব্যবসায়ীর স্বার্থে পাহাড়ের পর পাহাড় দখলের প্রতিযোগিতা। দারিদ্র-উচ্ছেদ-দেশত্যাগ হবে পাহাড়ী আদিবাসীদের নিয়তি এটা মেনে নেওয়া যায় না। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ সিকি শতাব্দী ধরে অকার্যকর থাকবে এটাও লজ্জাজনক। চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরী জাতীয় কর্তব্য।

সড়কে ক্রনিক মৃত্যু ঃ

নিরাপদ সড়কের দাবীতে কিশোর বিদ্রোহ দুবার ঘটে ২০১৮ ও ২০২২ সনে আপদ-বিপদ ক্রমাগত বাড়লো নিরাপদ সড়কের সরকারী প্রতিশ্রæতি আইন কাগজেই থাকলো অদক্ষ চালকের লাইসেন্সবিহীন গাড়ী আর মুনাফালোভী ব্যবসায়ী এবং শাসক দলের ও পুলিশের চাঁদাবাজীর অভয়ারন্য হয়ে উঠেছে সড়ক।

পরিবহন ব্যবস্থা শুধুমাত্র ঈদ যাত্রায় সড়কে প্রাণ ঝড়ে ৬৫ জনের, মারা পড়ে শতকরা ৪৮জন মোটর সাইকেল আরোহী যাদের বড় অংশ বেকারত্বের জ¦ালায় যাত্রী বহনের ঝুঁকির জীবন বেছে নেয়। তদুপরি প্রতিদিন শিশু কিশোর যুবক-যুবতী মরছে বেঘোরে পানিতে ডুবে, পুকুর-নদী জলাশয়ে নিত্যদিন পাওয়া যাচ্ছে নরনারী শিশুর ক্ষতবিক্ষত লাশ। এদের হত্যার কারণ উৎঘাটিত হয় না- বিচারহীনতার রেওয়াজ এহেন হত্যাযজ্ঞের প্রশ্রয় দাতা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন:

দেশের তৃণমূলে ঘটে গেল স্থানীয় সরকারের একতরফা নির্বাচন- দলীয় প্রতিকের অযৌক্তিক ব্যবহারে আওয়ামী লীগ দলও বিভক্ত হোল। সরকারী দলের একাংশ বিরোধীতায় নামলো- ১০১ জন প্রতিদ্বন্ধী ও সমর্থক নিহত হলো। সরকারী দলে জানি দুশমনী দ্বন্ধের অবস্থা অব্যাহত রয়েছে- বংশ পরমপরায় চলবে আশঙ্কা। শাসকদলের অভ্যন্তরে চলছে নিত্যদিন চরদখলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ-হত্যাযজ্ঞ। পুলিশ প্রশাসন দায়সাড়া ভূমিকা পালন করে অথচ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে-দলনে এই বাহিনী অতি উৎসাহী।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা :

গত দূর্গাপূজায় প্রায় ৩৮ জেলায় ৭২টি মন্দির-মন্ডপে এবং সনাতনধর্মের মানুষের আবাস ও ব্যবসা কেন্দ্র নির্বিচার হত্য, ধ্বংস, লুন্ঠনের ঘটনার অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন কয়েক ঘন্টা পরে উপস্থিতি ও নিষ্ক্রীয়তা রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে- ঘটনা সমূহের বিচারহীনতার ধারা উগ্রসাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রায় অপ্রতিরোধ্য করে তোলা হয়েছে। দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  বলেন, “কোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হত্যা, মন্দির ধ্বংস হয়নি। দুজন সনাতন ধর্মের লোকের মৃত্যু হয়েছে। একজন হৃদযন্ত্রের ত্রিয়া বন্ধ হয়ে অপর জন পানিতে ডুবে মরেছে।” এহেন মিথ্যাচার উগ্রসাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদত দানের সমতুল্য অপরাধ।

সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে প্রধান দুই দলের দোস্তি :

স্বাধীনতা বিরোধী জামাত নির্ভর বিএনপি, কৌশলের নামে হেফাজত-আঁতাতের কারণে আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক শক্তির তোয়াজ দেশে সাম্প্রদায়িকতা তেজী ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিখছে হেফজতি সাম্প্রদায়িক ভেদ-বুদ্ধি-ঘৃণা-অসহনিষ্ণুতা ও বিভক্তি-বিভাজনের কুশিক্ষা তথা আতুর ঘর হয়ে উঠছে সাম্প্রদায়িকতার, রবীন্দ্রনাথ জীবনানান্দ পাঠ্য বই থেকে নির্বাসিত হয়েছে। ফলে বেড়েছে হেফাজতের হত্যা-ধ্বংসের রিহার্সেল আর জামাত তার প্রধান নেতাদের গণহত্যার অভিযোগে ট্রাইবুনালে মৃত্যুদঞ্জে দন্ডিত হলেও ব্যবসা-বাণিজ্য-সরকারী ও প্রধান বিরোধী দলেও অর্থের দৌলতে তারা পদ পদবী দখল নিতে এবং প্রশাসন-পুলিশসহ সর্বত্র প্রভাব সম্প্রদারিত করতে সমর্থ হচ্ছে- যা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত। তদুপুরি জামায়াত ইসলামী প্রতি গ্রামে সংগঠন গড়ে তোলার জরুরী মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। তাদের রয়েছে আই, এস, আই এবং আই, এস, এসের আন্তর্জাতিক সহায়তা ও মদত। ফলে সাম্প্রদায়িক উগ্র শক্তি কার্যত বাংলাদেশে প্রধান বিরোধী পক্ষ হয়ে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ উগ্র সাম্প্রদায়িকতার হুমকির মুখে।

আইন শৃঙ্খলা :

ধ্বস নেমেছে আইন শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে। তার প্রধান কারণ বাহিনীর রাজনীতি করণ বা দলীয় করণ। পুলিশ বাহিনীর পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ। একারণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রকৃত ন্যায়নিষ্ট ভূমিকা পালনের পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় নিষ্ক্রীয় থাকা এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসের পরোক্ষ মদতদান, ‘হেলমেট বাহিনীর’ হত্যা-ধ্বংসলীলা চার ঘন্টাব্যাপী চলতে দেয়া- সম্প্রতি নিউমার্কেটে সংঘটিত স্মরনাতীত কালের নৈরাজ্য-সহিংসতা-সন্ত্রাসের বহুমাত্রিকতাকে প্রশ্রয়দানের পেছনে পুলিশ-ছাত্রলীগ-অসৎ ব্যবসায়ীর ক্রয়স্পর্শ দেখা গেছে, ফলশ্রæতি-নিত্যদিনের লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজীর স্বার্থে বিরোধকে প্রকট করে তুলেছে যেমন তেমনি গণঅনাস্থা বাড়িয়ে তুলেছে পুলিশ বাহিনীর প্রতি, বিচার ব্যবস্থার উপর।

গণপ্রতিনিধিদের আইন হাতে তুলে নেয়া :

পাশাপাশি চলছে আইন, আদালত ও বিচার ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নোয়াখালী ১ আসনের সাংসদ এইচএম ইব্রাহিম তার এলাকায় দুষ্কৃতিকারী গণপিটুনীতে মেরে ফেলার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে নিজেকে ১নং আসামী হওয়ার ঘোষণা দেন, বরগুনা ২ আসনের সাংসদ হাসানুর রহমান তার কথা অমান্য করে আদালতে জনৈক ভুক্তভোগী মামলা করায় কোর্ট বারান্দা থেকে তাকে ধরে এনে মারধর করার মর্মার্থ দাঁড়ায় আইন রচয়িতার আইন-আদালত-বিচার ব্যবস্থা ধ্বংসের মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে প্রশ্রয় দান। সাবেক সাংসদ বদি যখন তার দলীয় সভায় সহকর্মীদের এমনকি প্রশাসনের কর্মচারীদের মারপিট করেন আর জাতীয় পার্টির জনৈক এমপি দলীয় নেতাকে প্রকাশ্যে দলীয় কার্যালয়ে পেটান, জীবননাশের হুমকি দেন- আইন হাতে তুলে নেয়ার আইন সভার বর্তমান ও সাবেকদের এই কীর্তি জঙ্গলের আইনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন- এরা কী আইনের উদ্ধে থাকবে- আর কর্তা ব্যক্তিরা আইনের শাসনের গালভরা বুলি আউড়াবেন?

মার্কিনী নিষেধাজ্ঞা :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কতৃক র‌্যাবের বর্তমান ও সাবেক ৭ জন কর্তা ব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা জারী নিয়ে ‘বিচলিত’ শাসকদল এবং ‘উল্লসিত’ প্রধান বিরোধীদল বিএনপির বাহাস দেখে জনগণ বিবেকবান মানবতাবাদী নাগরিক মাত্রেই হতাশ-ক্ষুব্দ-বিচলিত ও হতভম্ব। প্রথমত: ৭১এর পাকবাহিনীর গণহত্যার প্রধান পৃষ্টপোষক অস্ত্র-মদতদাতা-সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করার পরিবর্তে “বিচলিত-ভীত” অপর দিকে “উল্লসিত” হওয়া কোনোটাই ন্যায় সঙ্গত নয়। বিএনপি আমলে শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থে বিশেষায়িত বাহিনী র‌্যাবের অপব্যবহার-গুম-হত্যার কাজে অপব্যবহার এবং আ:লীগ আমলে অনুরূপ বেআইনী হত্যা-গুমের ঘটনাগুলো দেশের সংবিধান, প্রচলিত বিচার ব্যবস্থা ও আইনের মারাত্বত লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রম কোনক্রমেই যা মেনে নেয়া যায় না- এঘটনাগুলো রাষ্ট্রকে কার্যত অকার্যকর করে তোলার নামান্তর। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার্থে রাষ্ট্রকে জনগণের রাষ্ট্রে পরিনত করার স্বার্থে উক্ত বাহিনীর আইন-বিচার ব্যবস্থা-সংবিধান লঙ্ঘন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে- এক্ষেত্রে একদা গণহত্যার মদতদাতা মার্কিনী দ্বিচারিতাও দেশ-দুনিয়ার সামনে তুলে ধরা জরুরী প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে লুক্কায়িত আত্মঘাতি শক্তির মদতপ্রাপ্তি, প্রাধান্য ও বিস্তৃতি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর নিত্য আহাজারী “সবাই পায় সোনার খনি, আমি পাই চোরের খনি”,“ আমি ভিক্ষা করে আনি আমার জনগনের জন্য, চাটার দল তা খেয়ে ফেলে” এখন তা শুনি না।
এই আক্ষেপ নিয়ে তিনি দলের মধ্যে “আত্মসমালোচনা”,“আত্মজিজ্ঞাসা” ও “আত্মশুদ্ধির” উদাত্ত ডাক দিয়েছিলেন আজ তা একান্তভাবে- জরুরীভাবে প্রয়োজন। শাসকদল একদা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকে নিজেদের- তথা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের অস্তিত্ত¡ ও চেতনা রক্ষার্থে সংশোধিত হতে হবে। নতুবা অনিবার্য বিপর্যয়ের অশনী সংকেতের পথে দেশ অধ:পতিত হতে পারে। সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের পীঠস্থান হতেও পারে- পারে অসংবিধানিক পথে ধাবিত হওয়ার শঙ্কা। কী মহৎ স্বার্থে শিক্ষামন্ত্রীর বড় ভাই চরের জমি পরের জমি নিজস্ব করা নিয়ে প্রস্তাবিত চাঁদপুর বিশ^বিদ্যালয়ের ভূমিদস্যুতার জন্য ডিসিকে মামলা করতে হয়। তারপরও শিক্ষামন্ত্রী নিজে বিবেকযন্ত্রনা বোধ করেন না- নিজে শিক্ষা গ্রহন করেন না। বাণিজ্যমন্ত্রীর স্বগোতক্তি “ব্যবসায়ীরা কথা রাখেনি” কথাটি অক্ষমের আক্ষেপের নামান্তর” এটি জন নির্ভরতা নয়- ব্যবসায়ী বান্ধবতার নজীর। অপরজন রেলমন্ত্রী একজন ত্যাগী মানুষের ভাই- তার স্ত্রীর আত্মীয়রা বিনাটিকিটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেল কামরা থেকে ভ্রমন করবেন- তার বিরুদ্ধে টিকেট চেকারের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কারণে টেলিবার্তায় তার চাকরী কেঁড়ে নেবার অনৈতিক বেআইনী ঘটনা ঘটান রেলমন্ত্রীর স্ত্রী, যদিও রেলমন্ত্রী স্বল্প সময়ের মধ্যে হস্তক্ষেপ করে টিকেট চেকারের চাকরী বহাল করে সুবিবেচনার পরিচয় রাখেন। এটা কী যথেষ্ট? রাষ্ট্রের হেফাজতকারীদের আইনভঙ্গের এহেন ঘটনাবলী অব্যাহত রেখে- সরকারীদলের মধ্যে চর দখল- খুনাখুনি আইন হাতে তুলে নেয়ার প্রতিযোগিতার পরিনতি কতই ভয়ানক হতে পারে আজ তা গভীরভাবে ভাবতে হবে সংশ্লিষ্ট সহ সকলকে।

আন্তর্জাতিক সূচকে উন্নয়ন :

আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে, মাথাপিছু আয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভারতকে পিছনে ফেলে শীর্ষ স্থান নিয়েছে বাংলাদেশ (যদিও জনগনের মধ্যে আয় বৈষম্য প্রকট হয়েছে এক্ষেত্রে ঘর্মাক্ত রিক্সাচালকের ২৮০০ এর অধিক ডলারের মাথার পিছনে গামছার উপরের লেখা ব্যঙ্গ করার ছবিটার মমার্থও অসত্য নয়।) উচ্চ প্রবৃত্তির দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ এর আসন পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে অষ্টম নবম আসন অর্জন, চাল উৎপাদনে বিশে^ চতৃর্থ, সব্জী উৎপাদনে তৃতীয়, তৈরী পোষাক রফতানীতে বিশে^ দ্বিতীয়, বিশ^ ক্ষুধা সূচক বা আয় ও আয়ুতে ভারত-পাকিস্তান থেকে এগিয়ে থাকা, মাছ উৎপাদনে সাফল্য ইত্যাদি জাতীয় গৌরবের সূচকে বাংলাদেশ গৌরবান্বিত।

নেতিবাচক সূচক :

সরকার-প্রশাসনের-সরকারীদলের কোন উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখিনা যখন শব্দ দুষণে ঢাকা বিশে^র সেরা ও বায়ু দুষণে বাংলাদেশ এক নম্বর হয়। বসবাস যোগ্যতায় ঢাকা শহর বিশে^ নি¤œসারীতে অবস্থান, প্রতিবর্গকিলোমিটারে ১২৫২ জন মানুষ নিয়ে বিশে^র সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অমানবিক জীবন যাপন, নূন্যতম মুজরীতে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় সব চেয়ে পিছনে পড়া রাষ্ট্র স্ত্রী নির্যাতন-নারী নির্যাতনে চতুর্থ, বাল্যবিবাহে বিশে^ তৃতীয় স্থান অধিকার, সুষম উন্নয়নে সবচেয়ে নিচের সারিতে অবস্থান, জিডিপির মাত্র ৩ ভাগ ব্যয় হয় স্বাস্থ্যখাতে ফলে বিশে^ তলানীতে অবস্থান, সড়ক দূর্ঘটনায় বিশে^ ৪ নম্বরে অবস্থান, ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফের সূচকে নিচু সারিতে অবস্থান- এগুলো রুঢ় ও কঠিন বাস্তবতার নামান্তর। এগুলো অস্বীকারের সংস্কৃতি জাতিকে অন্ধকারের পথে ধাবিত করবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০ দেশের মধ্যে ১৬২, মুক্ত গণমাধ্যমের সূচকে বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে ১০ ধাপ পিছিয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে রিপোটার্স উইদাউট বর্ডারস। ইতোপূর্বে ডিজিটাল আইনে সাংবাদিক, গায়িকা বøগার, শিক্ষক, লেখক, ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের নামে বিশেষভাবে ভিন্ন মতাবলম্বী ও ধর্মাবলম্বীর মানুষকে জামিন অযোগ্য মামলায় আটক করার ঘটনা, ভুয়া ফেসবুক বার্তায় রামু-উখিয়ায় প্রায় সকল বৌদ্ধমন্দির ধ্বংস, নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির সহ শত শত সনাতন ধর্মীয় নর নারীর বসত বাড়ি ধ্বংস, লুট ইত্যাদির অমানবিক ঘটনার পরেও আমাদের রাষ্ট্রের নিয়ন্তাদের সুবুদ্ধি আসেনি- আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধে কোন উপলব্ধি তাদের হয়নি। বিচারহীনতা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। মনে হয় জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম আজ অব্ধি বেঁচে থাকলে তার শত বছরের পূর্বের বিদ্রোহী কবিতা ও অপরাপর লেখার জন্য তাকেও কারারুদ্ধ থাকতে হতো- লালনকেও বাদ দেয়া হোত না, সম্ভবত: একারণে যে, লাইনগীতি গাওয়ার জন্য একজন মহিলা শিল্পীকে বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করার ঘটনা ঘটে। তথাকথিত নিরাপত্তা আইনসহ আবার নতুন করে সংবাদ মাধ্যম ‘সংযত’ করার জন্য আইনের যে মুসাবিদা হয়েছে তা প্রচার মাধ্যমকে ‘অনুগত’ বানাতে এবং ‘অবাধ্যতার জন্য’ শাস্তি দিতে যে সব আইন সরকার চালু করতে চান তা অপরিনামদর্শীতার নামান্তর। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িকতার দেশটি দুর্নীতি পালন ও কর্তৃত্ব পরায়ন দেশে পরিনত করবে- শ্রীলঙ্কার অধ:পতন থেকে শিক্ষা নিন- সময় থাকতে আত্মরক্ষার পথে ফিরুন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, গণতান্ত্রিক অধিকার ও নির্বাচন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের জনগণের ক্ষমতার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

জাতীয় সংসদ :

জাতীয় সংসদ এক পক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের চেহারা নিয়েছে। জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়নি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন  ভূমিকা অনেকাংশে খর্বিত, মানবাধিকার কমিশনের মানব সুরক্ষার কার্যকর ভূমিকা পালনে অক্ষমতা, ক্রমাগত গণতন্ত্রের বাতাবরণ সংকীর্ণ করে তোলা, নির্বাচনের নিয়ন্ত্রক-প্রভাবক “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ” নির্বাচনে অপ্রয়োজনীয় পরিনত হওয়া-আমলা-প্রশাসন-পুলিশ নিয়ন্ত্রিত গণহীন নির্বাচন দেশ-দুনিয়ায় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী রাষ্ট্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। নির্বাচন ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আজ সংকট গ্রস্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আজ অন্ধগলিতে আটক। খুনি মুশতাক চক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে শুধু হত্যা করেনি-মুক্তিযুদ্ধে আদর্শ, চেতনা, চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হত্যা, সাম্প্রদায়িক পাকিন্তানী পথে ঠেলে দিয়েছে- নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে-গণতন্ত্র অনেকাংশে হয়েছে সংকুচিত। বিএনপি সে পথে হেটেছে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ নির্মানের কথা বলে নির্বাচন ব্যবস্থাটিকে আমলা নিয়ন্ত্রিত আঞ্জাবহ সংস্থায় পরিনত করেছে, ২০১৪ ও ২০১৮ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নির্বাচনী জাতীয় স্বাধীন সংস্থাটির প্রতি গণআস্থা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে, যার ফলে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের আলোচনার ডাকে আমন্ত্রিতদের উপস্থিতি ছিল অর্ধেক বুদ্ধিজীবি, শিক্ষক, নাগরিক, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক হাজির – আর উপস্থিতিদের মধ্যে অনেকে কমিশন নিয়ে আস্থার সংকটের কথা বলেছেন। সংকট উত্তরণে জাতীয় মতৈক্যের পরামর্শ দিয়েছেন- বিরোধী দলের একাংশ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যতীত নির্বাচনে অংশনিতে দ্বিমত ও অপারগতা প্রকাশ করে চলেছেন- সরকারী দল নিত্য নতুন কৌশলে নির্বাচনে বাজিমাত করতে চায়। এই অবস্থা তথা অচলাবস্থা- সংকটপূর্ণ অস্থির অস্থিতিশীল নৈরাজ্য ও প্রতিক্রিয়ার পথে দেশকে ঠেলে দেয়ার শঙ্কা বেড়েছে।

এহেন রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির দল সংগঠন কেবল নয়- সামাজিক সাংস্কৃতিক, পেশাজীবি, শ্রমজীবি ব্যক্তিবর্গ সহ  ‘মুক্তিযুদ্ধ বাঁচাও’,‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জাতীয় প্লাটফ্রম গড়ে তোলার ধৈর্যশীল কর্তব্য পালন করা হবে ইতিহাস নির্দিষ্ট জাতীয় কর্তব্য। অবাধ-নিরপেক্ষ জনগণের অংশগ্রহনের উপযুক্ত নির্বাচনের দাবীতে আন্দোলন- প্রয়োজনে নির্বাচনী সরকার সহ নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের- ইভিএম সহ সকল বিষয় পর্যালোচনার দাবী স্বোচার করতে হবে- বিদেশী প্রভুদের ভয়ে নয়- মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ফিরে পেতে এর বিকল্প নেই।

নিবন্ধন মামলা :
সাধ্যমতো দলীয় ও সমমনাদের নিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে জনগণের নির্বাচন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার  প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকে। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অর্জনের আইনগত লড়াই যা দায়ের করা আছে- তা সুনির্দিষ্ট করার জোর প্রচেষ্টা নিতে হবে। এজন্য জরুরী প্রয়োজন ২১ টি জেলায় পার্টি অফিস স্থাপনে (বর্তমানে কেন্দ্রীয় অফিস সহ ৬ টি অফিস আছে) জুন মাসেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রস্তাবিত দাবী

“জাতীয় গণঐক্যের” ন্যূনতম সনদ :

১. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ পুন:প্রতিষ্টা- রাষ্ট্রীয় ৪ মূলনীতি পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন পূর্ন গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি-সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, দলিত সহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার-নিরাপত্তা-সুরক্ষা।
২. বিত্তহীন, স্বল্পবিত্ত, মধ্যবিত্ত- বান্ধব গণমানষের বাজেট চাই, তথাকথিত অতি ধনিক-বড় ব্যবসায়ী বান্ধব উন্নয়ন বাজেট নয়। মজুতদার-মুনাফাখোর-রক্তচোষা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বিচার ও শাস্তির আওতায় আনুন। ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা উৎপাদকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি, মধ্যস্বত্ব ভোগীদের বাজার দখলদারী বন্ধে সরকারী নিয়ন্ত্রণ জরুরী। লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে কঠোর আইন, বিচার ও শাস্তি চাই। লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে লোপাট কাজে পি কে হালদার, ই-কমার্সের লুটেরাদের পেছনের শক্তির মদতদাতাদের চিহ্নিত ও মৃত্যুদন্ড দিন।
৩. কিশোরী ও শিশু পাচার এবং মানব পাচারের মৃত্যুদন্ডের শাস্তি যোগ্য আইন, বিচার ও শাস্তি চাই- নারী নির্যাতন বন্ধে জরুরী সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা- বিচার ও শাস্তির গ্যারান্টি চাই।
৪. সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা-সহিংসতা-অত্যাচার-উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র-প্রশাসনের জিরো টলারেন্সে অস্বীকৃতির সংস্কৃতি, দোষারোপের সংস্কৃতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বন্ধ করা।
৫. স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ও অন্যান্য সাম্প্রদায়িক উগ্রঅপশক্তি নিষিদ্ধ করা।
৬. শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, মানবিক, মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানভিত্তিক চর্চার উপযোগী করে গড়ে তোলার জাতীয় জরুরী ব্যবস্থা চাই।
৭. সকল মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার হরণকারী কালাকানুন প্রচার মাধ্যম, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্বকারী ডিজিটাল তথাকথিত আইন বাতিল কর।
৮. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বান্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের পৃথক ভূমিকমিশন, দলিত সহ বেদে প্রভৃতি সম্প্রদায়ের সমঅধিকার নিশ্চিত করা।
৯. বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, জাতীয় সংসদের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন প্রভৃতি স্বাধীন ভূমিকা পালনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
১০. দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি থামাও- সরকারী নজরদারী বাজার ব্যবস্থাপনা তদারকি নিয়মিত করতে হবে। ওয়াসা সহ শে^তহস্তী তূল্য, দুর্নীতি-লুটপাট এবং দূষিত পানি সরবরাহের প্রতিষ্ঠানের জনস্বার্থে জাতীয় স্বার্থে জরুরী ভিত্তিক প্রতিশেধক ব্যবস্থা চাই। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পায়তারা বন্ধ কর।
১১. মন্ত্রী পদমর্যাদাধিকারী, এম,পি, আমলা, র‌্যাব, পুলিশ বাহিনীর অসৎ ব্যবসায়ী-মহা দুর্নীতিতে যুক্তদের জমি-সম্পদ-দখলে, সংবিধান ও গণস্বার্থ বিরোধী হুমকি-ধমকি উচ্ছেদ কার্যক্রম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রæত বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা গণআস্থা অর্জনের পূর্ব শর্ত বিধায় জরুরী করনীয় ব্যবস্থা চাই।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ :

দ্বিতীয় বিশ^ যুদ্ধের পর বৈশি^ক প্রভাব সৃষ্টিকারী ঘটনা হোল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যেখানে ইউক্রেনের পক্ষে মার্কিন-বৃটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪৩টি দেশ অস্ত্র-সরঞ্জাম-অর্থ-গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে প্রক্সিযুদ্ধে তথা অঘোষিত তৃতীয় বিশ^যুদ্ধে নেমেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সমাজতান্ত্রিক শিবিরের ওয়ারশ প্যাক্ট বিলুপ্ত হলে রাশিয়াকে বিশ^ নেতৃত্ব আশ^স্ত করেছিলো বিরুদ্ধ সামরিক প্যাক্ট ন্যাটোর অস্তিত্বও বিলুপ্ত হবে। কিন্তু পশ্চিমা নেতারা কথা রাখেনি বরং রাশিয়ার সীমান্তবর্তী ইউক্রেনকে ন্যাটোভুক্ত করে রাশিয়ার উপর নগ্ন সামরিক খবরদারী ও অস্তিত্ব সংকট সৃষ্টির কারণে রাশিয়া ইউক্রেনকে ন্যাটোভুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য করার জন্য এই যুদ্ধে নামতে প্ররোচিত করে মার্কিন সহ পশ্চিমা শক্তিরা। যুদ্ধের যাবতীয় উস্কানী দিয়ে রাশিয়াকে বিশ^ মঞ্চে একঘরে করার এমনকি পারমানবিক যুদ্ধের পথে বিশ^কে ঠেলে দেয়ার অর্বাচীন উস্কানীও তারা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার উপর একতরফা অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক প্রচার মাধ্যম, ক্রীড়াসহ সর্বক্ষেত্রে ‘স্যাংশন’ জারী করে এক চরম যুদ্ধউন্মাদনায় মেতে উঠে। যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি রক্ষার্থে বিশ^ নেতৃত্ব ও জাতিসংঘ দেওলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের ভূরাজনীতিতে দ্রæতগতিতে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এমনকী দক্ষিণ এশিয়াসহ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটিয়েছে, উপমহাদেশের একটি প্রধান রাষ্ট্র ভারত নির্দলীয় থাকায় পশ্চিমা চাপে রয়েছে, কাছাকাছি ভূমিকার জন্য বাংলাদেশ ও অদৃশ্য চাপে পড়েছে আর পাকিস্তানে ঘটেছে ক্ষমতার পটপরিবর্তন। এ যুদ্ধ যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক- ফলাফল যাই হোক না কেন- বিশে^র ভূ-রাজনৈতিক একাধিক প্রতিদ্বন্দী শক্তির উত্থান, একাধিক মূদ্রাব্যবস্থা এবং দ্বন্ধময় বিশ^ ব্যবস্থার পথে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। বিশ^ নেতৃত্বের দেওলিয়াপনা এবং শান্তির বদলের শত্রæতার কবলিত হবে বিশ^ ব্যবস্থা। যুদ্ধাস্ত্র প্রতিযোগিতা, ন্যাটো সম্প্রসারণের অজুহাতে বিশ^কে যুদ্ধাবস্থায় ঠেলে দেয়া বন্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিতি সৃষ্টি, দারিদ্র বৃদ্ধির অবস্থা থেকে দুনিয়ার মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা, অস্তিত্ব রক্ষার্থে দেশে দেশে দাবী সোচ্চার করা অতি জরুরী।

শ্রীলঙ্কার লঙ্কাকান্ড :

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বৈশি^ক অর্থনৈতিক ধাক্কায় জ¦ালানী তেলের অভাবে শ্রীলঙ্কার বিপন্ন অর্থনীতির কারণে বিশেষত: পর্যটক শিল্প ধ্বংসের কিনারায় চলে যায়। দুর্নীতিবাজ শাসকগোষ্ঠীর দুঃশাসনে, তামিল বিরোধী উগ্র সিংহলী জাতিয়তাবাদীদের গণতন্ত্র সংকোচন উচ্চাভিলাষী তথাকথিক উন্নয়ন যা জনগণের জীবনে উন্নতির বদলে অবনতি-দারিদ্র এবং দেশটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত হয়। ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের রাষ্ট্রটি ফুসে উঠে- উত্তাল হয়, কারফিউ, হত্যার আশঙ্কা তুচ্ছ করে নেমেছে পথে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবক-পেশাজীবি-শ্রমজীবি জনগন।

ক্ষমতার পরিবর্তন- সংকট সমাধানের পথে- গণতন্ত্রের পথে শ্রীলঙ্কা পথ সন্ধানের এই পর্বটি থেকে বাংলাদেশকেও শিক্ষা নিতে হবে। বিশেষত: চীনের লগ্নপূজি সুদে আসলে যে পর্যায়ে পৌছেছে তা পরিশোধ-অযোগ্য হওয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দরটি চীনকে ৯০ বছরের জন্য লীজ দিতে শ্রীলঙ্কা সরকার বাধ্য হয় যা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষনীয় বিষয়।

গণ-আন্দোলন :

(ক) জাতীয় দাবী (পূর্ব উল্লেখিত) তে বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষীয় জাতীয় রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-শ্রেণীর জনগনের জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা- এজন্য সমমনা অংশ, শক্তি, শ্রেণী, পেশার ব্যক্তির সাথে জাতীয়ভাবে মত বিনিময় অব্যাহত রাখা। নানান ধরণের ঐক্যের- যুগপথ সহ নানান কায়দায় গণআস্থার প্রতীকি উদ্যোগ, সামাজিক, শ্রেণী, পেশার ঐক্য উদ্যোগ নিতে হবে।

(খ) ন্যাপের অংশ সমূহ ঐক্যের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য কনভেশন ডিসেম্বর, ২০২২ এ অনুষ্ঠানের বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহন। এজন্য জেলায় ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলে সমমনাদের স্থানীয় ঐক্য উদ্যোগও নিতে হবে।

নিবন্ধন :

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অর্জনে আইনগত সংগ্রাম অব্যাহত রাখা। সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়া দরকার।

নির্বাচন :

সামরিক শাসনামলে ও বিএনপি আমলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে দেয়- আওয়ামী লীগ ও বাম প্রগতিশীল শক্তি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে তা রুখে দেয়, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচনের ব্যবস্থাটি মোটামুটি রক্ষা পায় যার সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগও। অথচ আওয়ামী লীগ আমলে দু দু বার (১৪ ও ১৮ সনে) নির্বাচন ব্যবস্থায় ভোটার জনগণের ভোটাধিকার খর্ব হবে- কৌশল ও কারসাজির নির্বাচনে পরিনত হবে তা কাঙ্খিত ছিল না। ফলে জনগণ শুধু ভোট বিমুখ নয়- রাজনীতি-রাজনৈতিক দলের প্রতিও আস্থাহীন হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা অগণতান্ত্রিক-অসাংবিধানিক-উগ্রসাম্প্রদায়িক- স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির জন্য সুবর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকৃত অবাধ- নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, জনগণের ভোটের অধিকার তথা “রাষ্ট্রীয় মালিক” হিসাবে ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা অর্জনের সংগ্রাম চালু রেখে সমমনাদের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহন, আজকের ঐতিহাসিক কর্তব্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular