Wednesday, May 25, 2022
Homeজাতীয়ঈদুল ফিতর উদযাপনকালে দেশে ২৮৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৬ জন নিহত : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

ঈদুল ফিতর উদযাপনকালে দেশে ২৮৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৬ জন নিহত : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

ঈদুল ফিতর উদযাপনকালে দেশে ২৮৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৬ জন নিহত : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

ঢাকা ১২ মে ২০২২ :

                            

ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৪ দিনে (২৫ এপ্রিল- মে) দেশে ২৮৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫০০ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৩৮, শিশু ৫১। ১২৮ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫৬ জন, যা মোট নিহতের ৪১.৪৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৫৪ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ১৪.৩৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৯ জন, অর্থাৎ ১৩ শতাংশ।

এই সময়ে ৭ টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে এবং  জন নিখোঁজ রয়েছে। ১৭ টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং  জন আহত হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন টি জাতীয় দৈনিক, টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

যানবাহনভিত্তিক নিহতের চিত্র:

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৫৬ জন (৪১.৪৮%), বাস যাত্রী ৩২ জন (৮.৫১%), ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী ২০ জন (৫.৩১%), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ যাত্রী ১৫ জন (৩.৯৮%), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু) ৭৮ জন (২০.৭৪%), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ১৩ জন (৩.৪৫%) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান আরোহী ৮ জন (২.১২%) নিহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা সংঘটিত সড়কের ধরন:

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩২টি (৪৬.৬৪%) জাতীয় মহাসড়কে, ৮৭টি (৩০.৭৪%) আঞ্চলিক সড়কে, ৪১টি (১৪.৪৮%) গ্রামীণ সড়কে এবং ২৩টি (৮.১২%) শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

 

দুর্ঘটনার ধরন:

দুর্ঘটনাসমূহের ৬৭টি (২৩.৬৭%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১১২টি (৩৯.৫৭%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৬২টি (২১.৯০%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৩১টি (১০.৯৫%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১১টি (৩.৮৮%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন ও প্রকৃতি বিশ্লেষণ:

ঈদ উদযাপনকালে ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৬ জন নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৪১.৪৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৫.২২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়-

১. অন্য যানবাহনের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে ১৬.১৯%

২. মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১.৯৫%

৩. অন্য যানবাহন দ্বারা মোটরসাইকেলে ধাক্কা/চাপায় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯.০৪%

৪. অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২.৮%

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত চালক ও আরোহীদের মধ্যে ৫১.৪২ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।   

২০২১ সালের ঈদুল ফিতর উদযাপনকালে ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছিল। এই হিসেবে এ বছর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৫.৭৪% এবং প্রাণহানি বেড়েছে ১৬.৪১%

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন:

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ১৮.৯৫%, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৭.০৫%, যাত্রীবাহী বাস ১৮.৫৪%, মোটরসাইকেল ২৭.৬২%, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু) ১৯.৫৫%, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন- (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) ৪.৬৩% এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ৩.৬২%

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা:

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ৪৯৬টি। (ট্রাক ৫৬, বাস ৯২, কাভার্ডভ্যান , পিকআপ ২২, ট্রলি , লরি , ট্রাক্টর , মাইক্রোবাস ১৩, প্রাইভেটকার ১৬, অ্যাম্বুলেন্স , জীপ , মোটরসাইকেল ১৩৭, থ্রি-হুইলার ৯৭ (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু) স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ২৩ (নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-টমটম) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১৮ টি।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:

সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৪.৯৪%, সকালে ২৬.৮৫%, দুপুরে ২৪.৭৩%, বিকালে ২১.৯০%, সন্ধ্যায় ৮.১২% এবং রাতে ১৩.৪২%

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান:

দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৯.৩২%, প্রাণহানি ২৮.১৯%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮%, প্রাণহানি ১৭%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২০.৮৪%, প্রাণহানি ১৯.৪১%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৯.১৮%, প্রাণহানি ১০.১০%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৩০%, প্রাণহানি ৫.৫৮%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ২.৪৭%, প্রাণহানি ২.৩৯%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৪৮%, প্রাণহানি ১০.৬৩% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৬.৩৬%, প্রাণহানি ৬.৬৪% ঘটেছে।

ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ৮৩ টি দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৭ টি দুর্ঘটনায়  জন নিহত। একক জেলা হিসেবে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৯ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং নাটোর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৮ জন নিহত হয়েছে। শরীয়তপুর, খাগড়াছড়ি, নড়াইল, ঝালকাঠি, ঠাকুরগাঁও এবং নেত্রকোনা- এই ৬ টি জেলায় সামান্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানি ঘটেনি।

ঈদযাত্রা ও দুর্ঘটনা পর্যালোচনা: 

এবারের ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকা থেকে কমবেশি ৯০ লাখ মানুষ ঘরমুখী যাত্রা করেছে এবং দেশের অভ্যন্তরে প্রায়  কোটি মানুষ যাতায়াত করেছে। ঈদের আগে-পরে যথেষ্ট ছুটি থাকায় এবং সরকারের কিছুটা তৎপরতার কারণে ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে গণপরিবহনের টিকেট কালোবাজারী, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও পথে-ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের করের টাকায়, বৈদেশিক ঋণে আমাদের সড়ক নির্মাণ করা হয়। এই সড়কে চাঁদাবাজি করা হয় কীসের অধিকারে, কোন নৈতিকতায়? প্রশ্নটির উত্তর জরুরি।

ঈদযাত্রায় সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল ব্যাপক মোটরসাইকেলের ব্যবহার, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। গণপরিবহন সহজলভ্য ও সাশয়ী না হওয়া এবং যানজট এড়াতে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা করেছে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কারণ মোটরসাইকেল  চাকার যানবাহনের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মোটরসাইকেল দূরের যাত্রায় কোনোভাবেই গণপরিবহনের বিকল্প হতে পারে না। 

ঈদযাত্রা ও ঈদ উদযাপনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাপক সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে। কিন্তু যেসকল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেনি, শুধু আহত হয়েছে- সেসব দুর্ঘটনার অধিকাংশই গণমাধ্যমে আসেনি। ফলে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাচ্ছে না। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে যে পরিমাণ মানুষ ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন তা থেকে অনুমান করা যায় সারা দেশে আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার হবে। গত বছরের ঈদুল ফিতরের চেয়ে এ বছরের ঈদুল ফিতর উদযাপনকালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৮.৪১% এবং প্রাণহানি বেড়েছে ১৯.৭৪%। 

কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে তারা নিজেরা দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে এবং অন্যদের আক্রান্ত করছে। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও আমদানীর ক্ষেত্রে সরকার নানা প্রকার সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, ফলে দেশে মোটরসাইকেলের ব্যবহার ব্যাপকহারে বাড়ছে। এটা সরকারের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। বছরে  হাজার কোটি টাকার মোটরসাইকেলের ব্যবসা করতে যেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার জনসম্পদ নষ্ট হচ্ছে। সরকারের উচিত গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে এবং রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ করে মোটরসাইকেল নিরুৎসাহিত করা। অপ্রাপ্ত বয়স্করা যাতে মোটরসাইকেল চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা-সহ এ বিষয়ে পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রচারণার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। মোটরসাইকেল বাজারজাতকরণে উশৃঙ্খল ভাষাভঙ্গিতে চটকদার বিজ্ঞাপন নির্মাণ ও প্রচার বন্ধ করতে হবে।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ:

১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন;

২. বেপরোয়া গতি;

৩. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা;

৪. বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা;

৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল;

৬. তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো;

৭. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা;

৮. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা;

৯. বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি;

১০ গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

 

সুপারিশসমূহ:

১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে;

২. চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে;

৩. বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে;

৪. পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;

৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্ব রাস্তা (সার্ভিস রোড) তৈরি করতে হবে;

৬. পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে;

৭. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে;

৮. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে;

৯. রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে;

১০.গণপরিবহন উন্নত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে মোটরসাইকেল ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে;

১১. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে;

১২.“সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের জীবনে এখন নিত্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। “সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে মূলত সড়ক পরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও অব্যস্থাপনার কারণে। এই অবস্থার উন্নয়নে টেকসই সড়ক পরিবহন কৌশল প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular