ড্রেজার স্থানান্তরের জন্য ১০টি টাগবোটের নির্মাণকাজ শুরু

 

সোনাকান্দা (নারায়ণগঞ্জ), ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১২ জুন ২০২১ :

 

ড্রেজার ও নন-প্রপেল্ড ভেসেলসমূহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তরের জন্য ১০টি টাগবোট সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বোলার্ড পুলের প্রতিটি টাগবোটের ওজন ১২ টন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এগুলো সংগ্রহ করছে। এজন্য ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এছাড়া আরো সাতটি টাগবোট সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাতে ব্যয় হবে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ টাগবোট সংগ্রহ করা হবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড ২০২৩ সালের মে’র মধ্যে টাগবোটগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করবে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি আজ নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দাস্থ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে এবং ১০টি বোলার্ড পুলের টাগবোটের (কিল লেয়িং) নির্মাণকাজের  উদ্বোধন  করেন।

উল্লেখ্য, বিআইডব্লিউটিএ’র  ড্রেজার-বহরের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং ড্রেজিং ক্যাপাসিটি ৩২৫.৬০ লক্ষ ঘনমিটার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ৩৫টি ড্রেজারসহ ১৬১টি জলযান সংগ্রহের প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পের  ৩৫টি ড্রেজারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দু’টি ২৮ ইঞ্চি, আটটি ২৪ ইঞ্চি, আটটি ২০ ইঞ্চি, নয়টি ১৮ ইঞ্চি, দু’টি ১২ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজার, দু’টি ট্রেইলিং সাকশন হোপার ড্রেজার, দু’টি ওয়াটার ইনজেকশন/জেটিং ড্রেজার, দু’টি সেল্ফ প্রপেল্ড পন্টুন মউনটেড গ্রাব ড্রেজার। ৩৫টি ড্রেজারসহ ১৬১টি জলযান সংগ্রহের জন্য ব্যয় হবে ৪৪৮৯.০৩ (চারহাজার চারশত ঊননব্বই কোটি তিনলাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল অক্টোবর ২০১৮ হতে জুন ২০২৩।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীপথ-রক্ষার বিষয়টি  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে অনুভব করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নৌপথ-খননের লক্ষ্যে সাতটি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোনো সরকার ড্রেজার সংগ্রহ করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে ৩৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও ৩৫টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ-খননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে সহকারী নৌপ্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার এডমিরাল এম শফিউল আজম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক,  নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এস এম মনিরুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলী  ড্রেজিং) এম এ মতিন উপস্থিত ছিলেন।