আলপনা রিতু, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শংকরদহ গ্রাম। প্রায় তিন ফুট ভাঙলেই শংকরদহ বাঁধটি ভেঙে যাবে। আর এটি ভেঙে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৫০ হাজার পরিবার পানির নিচে তলিয়ে যাবে। হুমকির মুখে পড়বে ২০১৮ সালের ন্যায় শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়ক।

গত কয়েকদিন ধরে লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ বাঁধে তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বাঁধের ৬’শ মিটার অংশ তিস্তায় তিস্তায় বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার ভাঙন আতংকে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছে। সরিয়ে নিয়েছে শংকরদহ (পুরাতন) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এই বাঁধটি ভেঙে গেলে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হবে। সেই সাথে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে হুমকির মুখে পড়বে শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়ক। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি তীব্র বেগে এসে বাঁধে আঘাত করছে। ইতিমধ্যে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ২২ ফুট প্রস্থ বাঁধের ১০ থেকে ১৫ ফুট ধসে গেছে। বাঁধটির আর ২-৩ ফুট ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়বে। সেই সাথে হাজার হাজার পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে যাবে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ডাম্পিং করছে। তবে বস্তা সংকটও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করছেন।

লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার তলিয়ে যাবে। সেই সাথে শেখ হাসিনা তিস্তা সেতুর মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়ক ২০১৮ সালের ন্যায় ভাঙন হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে আজ ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছি আমরা।’ রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তীব্র ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ধার দেনা করে জিও ব্যাগ সরবরাহ করে ভাঙন ঠেকানোর জন্য কাজ করছি।