ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাড়িফেরা মানুষের রেলে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গতকাল। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে প্রথম বিশেষ ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছেড়ে যায়। এরপর কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে প্ল্যাটফরম ত্যাগ করে। তৃতীয় ট্রেন সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেসও সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা ছেড়ে গেছে। এরপর একে একে নির্ধারিত সময়ে প্ল্যাটফরম ছেড়েছে বিভিন্ন ট্রেন। প্রথম দিনের ঈদযাত্রায় শিডিউল বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীরাও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে অনেকটা স্বস্তিতেই রাজধানী ছেড়েছেন। গতকাল সকালে কমলাপুর স্টেশন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম। কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিনা টিকিটে যাত্রা বন্ধ করতে দুই ধাপে চেক করা হচ্ছে। টিকিট স্ক্যান করে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই যাত্রীদের ভিতরে প্রবেশ করানো হচ্ছে। স্টেশনে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রথম অস্থায়ী গেট। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন রেলওয়ের কর্মীরা।

পরে প্ল্যাটফরমের মূল গেট দিয়ে প্রবেশের আগেও যাত্রীদের থেকে টিকিট দেখা হচ্ছে। যাত্রীদের কেউ টিকিট প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছে কেউ আবার মোবাইলেই টিকিট দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করছিলেন। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য রেলস্টেশনে পুলিশ, আরএনবি ও র‌্যাব-৩ এর অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে। ঈদযাত্রা শুরুর দিনে গতকাল যাত্রীদের তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। যাত্রীদের বক্তব্য, রেল কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে কড়াকড়ি করলেও শেষদিকে টিকিটবিহীন যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারে না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। এবারও অনলাইনে শতভাগ টিকিট বিক্রি হওয়ায় রেলযাত্রায় অনেকটা স্বস্তি এসেছে। প্রথম দিনের পরিস্থিতি নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আশা করি, যাত্রীদের আমরা সুন্দর ঈদযাত্রা উপহার দিতে পারব।

কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে রেলপথ মন্ত্রী জিল্লুল হাকিম বলেন, ঘরমুখো মানুষের ট্রেনে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিনা টিকিটে কেউ রেল ভ্রমণ করতে পারবে না। টিকিট তদারকি করতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাতে সময় মতো ট্রেন চলাচল করে সে জন্যও আগে থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিরতি যাত্রাও যাতে নিরাপদ ও আরামদায়ক হয় সে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা স্টেশনসহ প্রায় প্রতিটি পয়েন্টেই নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনযাত্রার টিকিট ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে শতভাগ অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ১০, ১১ ও ১২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে স্টেশন থেকে ছাড়া হচ্ছে।

সর্বশেষ