শ্যালক-দুলাভাই মিলে ভুয়া দুদক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার-৩

হাসানুজ্জামান সুমন, বিশেষ-প্রতিনিধি:

ভুয়া দুদক কর্মকর্তা ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি-লালবাগ বিভাগের একটি টিম।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মোঃ রিয়াজ, ফিরোজ খান ও মোঃ হাসান মুন্না। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। গ্রেফতারকৃতরা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই।
গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটের ২৯টি সিম কার্ড, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টারের ৩টি আইডি কার্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালকের ২টি নকল আইডি কার্ড, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের নামের ৫০টি ভিজিটিং কার্ড ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের রিপোর্টারদের ১২টি ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।
গত শনিবার (২৩ মার্চ) খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।
ডিএমপির গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মশিউর রহমান বিপিএম-বার, পিপিএম-সেবা জানান, অনেক দিন ধরে কিছু লোক দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এ বিষয়ে দুদকেরর পক্ষ থেকে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলা তদন্তকালে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা সোশ্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কোন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারি, নির্বাচিত প্রতিনিধি যেমন- উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত কোন খবর ছাপা হলে তারা সে খবরের বিস্তারিত জেনে নিতো। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হতে যার বিরুদ্ধে নিউজ হয়েছে ওই ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে অভিযোগটি প্রতারকদের কাছে তদন্তাধীন আছে বলে জানাতো। বিষয়টি তারা সমাধান করে দিতে পারবে বলেও জানাতো। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের ভিতরে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করতো। তারা প্রতারকদের কথা বিশ্বাস করে তাদের প্রস্তাবে রাজী হয়ে সমঝোতার চেষ্টা করতো। প্রতারকরা এসব কাজের অর্থ ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিকাশ নম্বরে লেনদেন করতো।
মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা একাধিক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কমিশনার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কোন ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ কিছু পেলে নিউজ করবে না মর্মে টাকা দাবি করতো। প্রতারকরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হঠাৎ ধনী হওয়া ব্যক্তিদেরকে টার্গেট করে বাড়ি, খামার, গাড়ি ও জায়গা কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চেয়ে চাঁদাবাজি করতো।
জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা রমনা থনায় রুজুকৃত মামলায় পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ