মশার জ্বালায় জ্বলছে গাজীপুর বাসি

এম এইচ শাহীন, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ শীতের মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুরে বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। দিনে-রাতে ঘরে বাহিরে সব খানেই মশা। কোনো ভাবেই মশার উপদ্রব কমছেই না। কয়েল-মশারি দিয়েও কিছু হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষও তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না! যেন মশার দখলে বাস করছে! শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিদিষ্ট ডাস্টবিন না থাকার কারণে জন্ম নিচ্ছে মশা। তবে মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সিটি করপোরেশনকে। সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার একটি চা দোকানে চা পান করতে করতে কথাগুলো বলছিলেনন করিম মিয়া নামের এক ব্যক্তি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী, বাসন ও কোনাবাড়ি সহ বেশ কয়েকটি থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে ও ফ্লাইওভারের নিচে ফেলা হচ্ছে বাজারের ময়লা আবর্জনা। যার ফলে বাড়ছে মশার উপদ্রব। এসব এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লার অলি-গলিতে দেখা গেছে বাসা বাড়ির সামনে ময়লা ফেলার জন্য রাখা ড্রাম থাকলেও ময়লা ফেলা হয় নিদিষ্ট ড্যাম্পিং স্টেশনের বাইরে। তেমনি সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নং ওয়ার্ডের দিঘিরচালা, বারবৈকা, আউটপাড়া ও চান্দনা। ১৩ নং ওয়ার্ডের কড্ডা বাজার, টান কড্ডা, কাঠালিয়াপাড়া, নাওজোড়, ইটাহাটা। ১৭ নং ওয়ার্ডের ভোগড়া ও রওশন সড়ক এলাকা ঘুরে ও মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক মাসের বেশি সময় তাঁরা এলাকায় মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখেননি। নালায় কোনো কীটনাশক দেওয়া হয়নি। ফগার মেশিনের শব্দও কেউ শুনতে পাননি।

ছুটির দিনগুলোয় নগরের ইসলামপুর ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকায় ভিড় করেন নগরবাসী। একটু প্রশস্তি পেতে তুরাগ নদের ধারে গড়ে ওঠা রিভার ভিউ পার্কে মশার কারণে সন্ধ্যার পর কেউ টিকতে পারে না। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন পোশাক শ্রমিক সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর আর থাকতে পারলাম না। হাজার হাজার মশা, সব মশা যেন ভিড় করেছে নদীর ধারে। কতক্ষণ মশা তাড়িয়ে পারা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কামড়ে হাত ফুলিয়ে ফেলেছে।’

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কোনাবাড়ি নসের মার্কেট এলাকার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষিকা জান্নাতুল জেরিন বলেন, ‘পড়ানোর সময় মশার কামড়ের কারনে বাচ্চারা পড়তেই চায় না। একটু বৃষ্টি হলে তো কথাই নাই। মরার উপর খারার ঘা এর মতো অবস্থা হয়ে যায়। মশা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। একসাথে ৮ থেকে ১০ টা মশা কামড়ায়। মশার কামড়ের কারনে যেকোনো সময় অসুখ হতে পারে।’

কলেজ শিক্ষক ও পরিবেশকর্মী এজি কায়কোবাদ বলেন, ‘‘এডিস মশা প্রতিকূল পরিবেশেও ডিম ছাড়তে পারে। ডিমগুলো অনেক দিন টিকে থাকতে পারে। পানির স্পর্শ পেলেই এগুলো থেকে লার্ভা হয়। শুধু মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করলেই হবে না। যত্রতত্র যেন ময়লা আবর্জনা না ফেলা হয় সেদিকেও যেন সিটি করপোরেশনের নজরদারি থাকে এই অনুরোধ করবো।’’

অল্প বৃষ্টিতেই যত্রতত্র সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে মশার প্রকোপ যেমন বাড়ছে, তেমনি ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নগরীর টঙ্গী চান্দনা পয়নিষ্কাশনের বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। পানিতে ময়লা-আবর্জনা ভেসে বেড়ায়। এর ফলে সৃষ্টি হয় দুর্গন্ধ। স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে মশার প্রকোপও বাড়ছে। মশার অতিষ্ঠে কোথায় দাঁড়ানোও যায় না।

নগরীর ব্যস্ততম এলাকা টঙ্গী পূর্ব থানার স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল বলেন, তাঁরা গত দুই মাসের মধ্যে সিটি করপোরেশনের কাউকে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি। সন্ধ্যার পর সড়কের পাশের দোকানগুলোয় বসা যায় না। আমাদের এলাকায় মশা মারার ওষুধ যদি দেওয়া হতো তাহলে এত দিনে এর সুফল পাওয়া যেত। বরং অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, মশা উল্টো বাড়ছে। তাঁরা এ থেকে নিস্তার চান।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, ‘নগর ভবন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের অফিসে চাহিদামতো মশার ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। এখন ওষুধ ছিটানোর দায়িত্বটা তাদের ওপর। বেশ কয়েকটি জায়গায় ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’

সর্বশেষ