নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে আরও কঠিন হয়ে এলো রমজান

 

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কম ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষকে বিপাকে ফেলেছে- এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে চিনি, পিয়াজ, খেজুর ও সয়াবিন তেলের মতো কয়েকটি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে নির্ধারিত দাম বাজারে কার্যকর করা যায়নি। উল্টো কিছু পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু দাম বেঁধে দিলেই হবে না। নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হলে তদারকি বাড়াতে হবে। অপরাধীদেরকে শাস্তি দিতে হবে।

খেজুরের দাম সহনীয় করতে ইফতারের অন্যতম এই উপকরণের দুটি ধরনের দাম মঙ্গলবার বেঁধে দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, খুচরা বাজারে অতি সাধারণ ও নিম্নমানের খেজুরের কেজিপ্রতি দাম হবে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা এবং বহুল ব্যবহৃত জাইদি খেজুরের প্রতি কেজির দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু গতকাল কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি জাইদি খেজুরের দাম ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে অতি সাধারণ ও নিম্নমানের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার আশপাশে। এ ছাড়া সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার বাজারে কেজিপ্রতি সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হয়েছে ২৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়।

বাজারে সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ার বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে তারা যে খেজুর কিনেছেন, তার দাম বাড়তি ছিল।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকার খুচরা বাজারের জন্য যে দাম বেঁধে দিয়েছে, পাইকারি বাজারেই তার কাছাকাছি দামে তাদেরকে খেজুর কিনতে হয়েছে। ফলে সরকারের নির্ধারিত দামে খেজুর বিক্রি করতে হলে তারা লোকসানে পড়বেন।

তালতলা বাজারের খেজুর বিক্রেতা ইউসুফ বলেন, পাইকারিতেই ১৭০ টাকার বেশি দামে কিনতে হয়েছে, তাহলে এই দামে কীভাবে বিক্রি করবো। আমরা যদি কম দামে কিনতে পারি তাহলে কম দামে বিক্রি করতে অসুবিধা নাই।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রপ্তানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, খেজুর আমদানি করতে হলে ১৪০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। সঙ্গে অন্যান্য আরও খরচ আছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামে খেজুর বিক্রি করা সম্ভব না। সরকার যদি শুল্ক ফ্রি করে দেয়, তাহলে এই দামে খেজুর বিক্রি করতে পারবো।

এদিকে খেজুরের মতো চিনির দামও নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পরিশোধিত খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১৪০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনির সর্বোচ্চ দর ধার্য করা হয়েছে ১৪৫ টাকা। তবে এই দামে কোথাও মিলছে না চিনি। বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকায়। ওদিকে বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম ১লা মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও দুই সপ্তাহেও তা কার্যকর হয়নি। টিসিবি’র হিসেবে গতকাল ঢাকার বিভিন্ন বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। আর বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৬৮ থেকে ১৭০ টাকায়। যদিও খোলা সয়াবিন তেল ১৪৯ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৩ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০ টাকারও বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে পিয়াজও। বাজারে পণ্যটির কেজি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। যদিও দেশি পিয়াজের দাম ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই অবস্থা ডিমসহ অন্যান্য পণ্যের দামেও।

কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার থেকে শুধুমাত্র দাম বেঁধে দিলেই হবে না। নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির জন্য বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাছাড়া বেঁধে দেয়া দামে কখনো জিনিস বিক্রি হবে না। খেজুরের শুল্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন তাদেরকে ১০০ টাকার বেশি ডিউটি ফি দিতে হচ্ছে। আসলেই এত টাকা ফি দিতে হচ্ছে কিনা এনবিআরকে ক্লিয়ার করতে হবে।

সর্বশেষ