জিএমপি’র ট্রাফিক পুলিশের ঘুষিতে দাঁত ভাঙ্গলো রিকশাচালকের

এম এইচ শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের এক ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলের বিরুদ্ধে রিকশা চালককে রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উল্টোপথে আসায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

শনিবার (১৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তার রওশন সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার রিকশাচালক হাফিজ উদ্দিন (৪৮) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বরতলী গ্রামের মৃত মারফত আলীর ছেলে। তিনি মহানগরের ইটাহাটা এলাকায় এক যুগের বেশি সময় বাসা ভাড়া থেকে গাজীপুর শহরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক কনস্টেবল।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি ১০ বছর ধরে এই সড়কে রিকশা চালাই। এর আগে এরকম কখনও হয়নি। প্যাডেল রিকশা হওয়ায় যেকোনো জায়গায় ঘোরানো যায় না। ইফতার করতে বাসায় ফিরবো বলে চান্দনা চৌরাস্তায় রিকশা ঘুরিয়ে ছিলাম। এ সময় কনস্টেবল সিদ্দিকুর রিকশা আটকে গালিগালাজ শুরু করেন। তাকে বলেছি, বাবা রোজার দিন গালিগালাজ করিও না। আমি চলে যাচ্ছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে দুটি থাপ্পড় মারেন। তখন তাকে বলি আমার পাশ দিয়ে অটোরিকশা যাচ্ছে। আপনি তাদের না ধরে আমার প্যাডেল রিকশা আটকাচ্ছেন কেন? আবার থাপ্পড় মেরেছেন। আইনের লোক হয়ে বেআইনি কাজ করছেন। আইনের লোক আমারও আত্মীয় আছে। এটা বলার পর আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করেন। এতে আহত হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ওই চালক উল্টোপথে ঢুকে রিকশা ঘুরিয়েছেন। এ সময় ট্রাফিক কনস্টেবল রিকশা আটকে চালককে গালিগালাজ শুরু করেন। তখন চালক বলেন তিনি রোজা আছেন, গালিগালাজ না করতে। এতে রেগে গিয়ে তাকে কয়েকটা থাপ্পড় দেন কনস্টেবল। সেই সঙ্গে লাথি মেরে রিকশা সড়ক ভবনের গেটে ফেলে দেন। এ নিয়ে দুজনের বাগবিতণ্ডা হয়। তখনই চালককে পিটিয়ে আহত করেন কনস্টেবল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রাফিক কনস্টেবল সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ওই রিকশাচালক উল্টোপথে আসতেছিল। আমি বলেছি রিকশা ঘোরানোর জন্য। সে রিকশা না ঘুরিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাকে মারধর করিনি। এর বেশি কিছু জানার থাকলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। আমি আর কিছু বলতে চাই না।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আলমগীর হোসেন বলেন, কোনও চালককে মারধরের সুযোগ নেই। চাইলে গাড়ি ডাম্পিং করতে পারে, মামলা দিতে পারে, জরিমানা করতে পারে। কোনও অবস্থায় চালককে মারধর করতে পারে না পুলিশ। এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি।

সর্বশেষ