গাজীপুরে শ্মশান থেকে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল উধাও

এম এইচ শাহীন, গাজীপুর প্রতিনিধি ঃগাজীপুর মহানগরীর বাসনের কালাকৈর নয়াপাড়া এলাকার ‘ইসলামপুর মরগাটা মহাশ্মশান’ থেকে কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা৷ এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

কঙ্কাল চুরির ঘটনায় শনিবার (২৩ মার্চ) সকালে ‘ইসলামপুর মরগাটা মহাশ্মশানে’ কবর খুঁড়া দেখে জানতে পারে এলাকাবাসী। তবে চুরির ঘটনার নিদিষ্ট সময় কেউ বলতে পারেনি।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাসনের কড্ডা কালাকৈর এলাকার স্থায়ীয় বাসিন্দা শ্রী দুর্গাচরণের ছেলে মৃত শ্রী মরণ চন্দ্র সরকার (৭৫)। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি গত ৮ জানুয়ারি মারা যান। অর্থের অভাবে তার লাশ দাহ করতে না পেরে কবর দেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘কঙ্কালটা তুলে নিছে ২ দিন হয়ছে। এখনো উদ্ধার করতে পারেনাই। এটা বড় মানুষের লাশ ছিলো। এটা নেওয়ার জন্য আগেও চেষ্টা করা হয়েছিলো।’

নয়াপাড়া এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান মন্ডল বলেন, ‘আমরা দেখেছি শুধু লাশটা এখানে পুঁতে রেখে গেছে। রোজার আগেও এই লাশ নেওয়ার জন্য কয়েকবার চেষ্টা। তবে কোনো কারনে নিতে পারেনাই। আজকে সকালে শুনি এই ঘটনা। শ্মশান বা কবরস্থান থেকে লাশ নিয়ে যাওয়া খুবই খারাপ ঘটনা।’

মরণ চন্দ্র সরকারের প্রতিবেশী কাকা ফটিক সরকার বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে বিছানায় পড়ে ছিলো। একেবারে অসুস্থ ছিলো। মরার দুইদিন আগেও আমার সাথে এসে কথা বলে গেছে। গরীব মানুষ তাই মানুষের থেকে সহায়তা নিয়ে কবর দেওয়া হয়ছে। মৃত দেহ দাহ করার মতো আর্থিক সচ্ছলতা ছিলো না। মরা কঙ্কাল নিয়ে গিয়ে কি করবে কে জানে।’

মৃতের ছেলে বাবু লাল সরকার বলেন, ‘মানুষের একটা শেষ স্মৃতি এটাও নিয়ে গেলো। কোনো স্মৃতি চিহ্নও নেই এখন একটা ছবি ছাড়া। প্রত্যেক মানুষের এটা শেষ স্মৃতি। আমি শুক্রবারেও পাড়ার লোকদের কাছে শুনেছি কবর খুঁড়ার বিষয়ে। তখন গুরুত্ব দেই নি। আজ সকাল থেকে বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনতেছি কবর খুঁড়ে কঙ্কাল নিয়ে চলে গেছে। মরেও লোকটার শান্তি নাই।’

‘‘উনি চলে যাওয়ার আগের দিনও টনটনা কথা বলছে। কতো হাসি-খুশি ছিলো মানুষটা। চলে যাওয়ার আগে বুঝা যায়নি যে উনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। আমাদের মেয়ে ভারতে থাকে। মারা যাওয়ার দুদিন আগেও মেয়ের সাথেও কথা বলছে। আমরা আগেরদিনও গেছিলাম কবর খুড়ার বিষয়ে জেনে। কবর থেকে কঙ্কাল নেওয়ার আগেও চেষ্টা করা হয়েছিলো। অর্ধেকটা খুঁড়েছিলো আমরা ডেকে দিয়ে আসছি। শ্মশানে মোমবাতি আগরবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে আসছি। আজকে শুনতেছি তুলে নিয়ে গেছে।’’ কান্না করতে করতে মৃতের স্ত্রী শ্রীমতি কল্যাণী কথা গুলো বলছিলেন।

বাসন থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনা আমাদের নলেজে নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে।’

সর্বশেষ