রমজানজুড়ে নানা কর্মকাণ্ড সাংগঠনিক কাজে গতি আনতে চায় বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি ও সমমনা দল এবং জোটগুলো। এবার দলগতভাবে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও সমর্থন দেবে না তারা। যেহেতু এবার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নেই তাই নিজ উদ্যোগে কেউ প্রার্থী হলে সেক্ষেত্রে কঠোর নাও হতে পারে তারা। যদিও এ বিষয়ে এখন পরিষ্কার কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকে।
শিগগিরই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে বিএনপি’র দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তটা বিএনপি’র একা নয়। কারণ বিএনপি’র সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের অন্য দলগুলোও রয়েছে। তাই নির্বাচনে যাবো, এই কথা শুধু আমরা বললেই হবে না। সমমনা দল এবং জোটের সঙ্গেও কথা বলে উনাদের সিদ্ধান্ত জানতে হবে। এরপরে বিএনপি’র পক্ষ থেকে জানানো হবে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু মানবজমিনকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দলগতভাবে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নাই। তখন মার্কা দিয়েছিল, সেজন্য ওই সময় দলগতভাবে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখন তো মার্কা নাই।

এখন সব ওপেন। সুতরাং এখানে দলের কোনো ভূমিকা আছে বলে আমি মনে করি না। নির্বাচনে বিএনপি’র কোনো নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না এই প্রশ্নের জবাবে টুকু বলেন, এ ব্যাপারে এখনো বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী ফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই।

তবে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। দলীয় এই সিদ্ধান্ত যারা অমান্য করবে, অতীতের মতোই ওইসব নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মানবজমিনকে বলেন, দুই বছর আগে বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর অধীনে বিএনপি জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচনসহ কোনো ভোটেই অংশগ্রহণ করবে না। এই সিদ্ধান্তের এখনো কোনো পরিবর্তন হয়নি। আর দলের এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তাদের আগের মতোই দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলনসহ যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোটগুলোও উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নিয়েছে। তবে দল ও জোটগুলোর নেতারা স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মানবজমিনকে বলেন, দলগতভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। গণতন্ত্র মঞ্চ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি যাচ্ছে না। তবে নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি মানবজমিনকে বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি না। তবে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলেই আপনাদের (সাংবাদিক) জানিয়ে দেয়া হবে।

প্রথম ধাপে ১৫২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৮ই মে এসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। গতকাল ইসি’র বৈঠকে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত করা হয়। চারটি ধাপে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। এরমধ্যে প্রথম ধাপে যেসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে সেগুলোর তফসিল ঘোষণা করা হয়। বৈঠক শেষে ইসি’র অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ এই তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া যাবে আগামী ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত। মনোনয়ন ফরম যাচাই-বাছাই হবে ১৭ই এপ্রিল। মনোনয়ন ফরম প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২২শে এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩শে এপ্রিল। আর ভোটগ্রহণ ৮ই মে।

১৫২টি উপজেলার মধ্যে ৯টি জেলার ২২টি উপজেলায় ভোট হবে ইভিএমে। জেলাগুলো হলো কক্সবাজার, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, জামালপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, যশোর, পিরোজপুর ও মানিকগঞ্জ। প্রথম ধাপে এসব জেলার ২২টি উপজেলায় ভোট হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২৩শে মে, তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ২৯শে মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ৫ই জুন।

 

সর্বশেষ