নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং হচ্ছে: প্রতিমন্ত্রী
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু) জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সারাদেশে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ‘১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৬ মাসে ৫ হাজার ৩৭৪টি বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময়ে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে বিভিন্ন অপরাধে ১১ হাজার ৬৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্বে অধিবেশনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, চালের দাম স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় চালের মিল ও পাইকারি বাজারে বাজার মনিটরিং করছে। আলু, পেঁয়াজ ও ডিম সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিতকরার জন্য দেশব্যাপী কোল্ড স্টোরেজ, পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকির কাজ পরিচালনা করছে। এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অধিদপ্তর দেশব্যাপী পাইকারি ও খুচরা বাজারে মনিটরিং করছে। এছাড়া কাঁচামরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক ও অভিযান পরিচালনাসহ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।

একই প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, মাংসের দাম কমানোর জন্য ভোক্তাদের ক্রয়সীমার মধ্যে আনার জন্য বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসহ অংশীজনের অংশগ্রহণে কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার মনিটরিং পরিচালনা করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ইতিবাচক রিপোর্টের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ভোজ্যতেল, চিনি, এলপি গ্যাস, গরম মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রেখেছে।

গত এক দশকে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিবুর রহমান। বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মো. মুজিবুল হকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর নিমিত্ত জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌরসভা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বজ্রপাত হতে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলো প্রচারের জন্য পোস্টার-ব্যানার প্রস্তুত করে জেলা, উপজেলা সদর, স্কুল, কলেজ, হাট বাজার ও জনসমাগম হয়, এমন স্থানে লাগানো এবং মসজিদ, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম-পুরোহিতদের মাধ্যমে প্রচার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ অবকাঠামো সস্কার (কাবিখা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় গত ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের অধিক বজ্রপাত প্রবণ ১৫টি জেলায় ৩৩৫টি বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫ জেলায় বজ্রপাতের ফলে সৃস্ট প্রাণহানি রোধে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৭৯৩টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে বজ্রপাত হতে সুরক্ষার জন্য ৬ হাজার ৭৯৩টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হবে। 

সূত্র: কালেরকন্ঠ 

সর্বশেষ