তিন বছর ইঞ্জুরড! এটা কি সত্য নাকি কাল্পনিক?

আকাশ দাশ সৈকত
সময়টা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০২০ ফাইনাল! প্রতিপক্ষ ভারত, যে ভারতের বিপক্ষে বয়সভিত্তিক দল কিংবা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে কোন সাফল্য নেই বাংলাদেশ। এমন এক তথ্য নিয়ে সেইদিন সাউথ আফ্রিকার পচেফস্টুমে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তবে অচেনা এক বাংলাদেশী তরুণের আগ্রাসনে দিনটা নিজেদের বলে মনে করিয়ে দিয়েছিলো টিম টাইগার্স। একের পর এক উইকেট নিয়ে আফ্রিকার গ্যালারিকে এক টুকরো বাংলাদেশের লাল-সবুজের উল্লাসে মাতিয়েছিলেন পেস অলরাউন্ডার অভিষেক দাশ অরণ্য। ম্যাচে চারটা উইকেট নিয়ে একাই ভেঙ্গে দেন ভারতীয় টপঅর্ডার। ফলে বৃষ্টি আইনে ম্যাচটা জিতে বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর সাথে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলে বাংলাদেশ জুনিয়ররা।

ইঞ্জুরির কবলে বিশ্বকাপে সবকটা ম্যাচ মাঠে নামা হয়নি অভিষেকের। তবে আরেক পেস অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ইঞ্জুরিতে ফাইনালের মঞ্চে ফিরেন অভিষেক। তবে দিন যায়, বয়স বাড়ে অভিষেকরাও বড়দের সারিতে জায়গা করে, কিন্তু অভিষেকের চোট তো সারে না। বিশ্বকাপে আগুন পারফরম্যান্সের চার বছর পর ঘরোয়া ম্যাচ খেলেছেন কেবল একটি সেটা আবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল)। কিন্তু কেন? যেখানে তার বয়সভিত্তিক দলের সদস্য শরিফুল ইসলাম, তানজিদ সাকিব, তানজিম তামিম আর তৌহিদ হৃদয়ের সাথে শামীম হোসেন পটোয়ারী জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন টেস্টে অভিষেক হয়ে গেলো শাহাদাত হোসেন দীপু কিংবা অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা রাকিবুল এবং মৃত্যুঞ্জয়ের সেখানে কেন অভিষেকে হারিয়ে যাওয়া তারার মতো মিরপুরে একাডেমি মাঠে, কখনো জিমনেসিয়ামে। খেলার সময় তাঁকে গ্যালারিতে পাওয়া যায়? এমন প্রশ্ন মনের ভিতরে নিয়ে বসে আছে হাজারো সমর্থক? তবে একটাই কারণ চোটের কারণে যে খেলাটা থেকে তিনি প্রায় চার বছর ধরে দূরে, সেই খেলাটা অন্যদের খেলতে দেখাটাই যে আপাতত কাজ অভিষেকের!

সাধারণ সমর্থকদের মতো গত কয়েকমাস আগে ২২ বছর বয়সী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে দেখে জাতীয় দলের এক খেলোয়াড় ও সাধারণ সমর্থকদের মতো বিস্ময়মাখা প্রশ্ন করেন ‘তিন বছর কেউ ইনজুরড থাকে? এটা কীভাবে সম্ভব!’ তবে অভিষেকের তখন তো কিছু বলার ছিল না। কারণ পিঠের সেই ব্যথার কথা আর কতবারই–বা বলা যায়! তিনি শুধু হাসেন। যেই হাসির পেছনে তিনি লুকিয়ে রেখেছেন এক গভীর হতাশার সমুদ্র।

তবে বিসিবি? বিসিবি নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছে দেশের চিকিৎসা শেষ করে ইংল্যান্ডে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়েও অবস্থার উন্নতি না হলে গত বছর কাতারের ‘এসপেটার’ নামে এক স্পোর্টস মেডিসিন হাসপাতালে পাঠানো হয় অভিষেককে। কিন্তু অভিষেকের চোটের রহস্য ভেদই হয়নি এখনো। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী তাঁর অবস্থার উন্নতি না দেখে বলেন, ‘আমরা ছেলেটার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছি।’ অস্ত্রোপচার একটা উপায় হলেও তাতে কতটা কাজ হবে, তার নিশ্চয়তা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

নড়াইলের ছেলে অভিষেক বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার পরামর্শে গত মাসে নিজ খরচে যান চেন্নাইয়ের শ্রী রামাচন্দ্র ইনস্টিটিউটে। মাশরাফিও সেখানে হাঁটুর চিকিৎসা করিয়েছিলেন। সেখানকার অভিজ্ঞ চিকিৎসক কার্তিক কৈলাস মাশরাফিকে দেখেছেন, এবার দেখলেন অভিষেককে। চেন্নাইয়ে তাঁর পরামর্শে এক মাস রিহ্যাব করে অবস্থার উন্নতিও হয়েছে কিছুটা।

তবে এই লড়াইটা অভিষেকের নিজের শুধু অভিষেকের, জয়টা তার ফিরে আসার গল্পটা অবশ্য এই তরুণ অলরাউন্ডারের। সুস্থ হয়ে উঠো অভিষেক এগিয়ে এসো লড়াই করো বাঁচতে শিখো, গল্পটা যে তোমারই..!

সর্বশেষ