ইবি ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বন্ধ বেতন ভাতা চালুর দাবিতে মানববন্ধন

ইবি ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের বন্ধ বেতন ভাতা চালুর দাবিতে মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি-

শিক্ষকদের বন্ধ বেতন ভাতা চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা । শনিবার (২৭ জানুয়ারী) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই মানববন্ধন করেন তারা।

এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কমর্চারী ছাড়াও প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিক্ষাথীদের হাতে ‘শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’, ‘আমার শিক্ষক রাস্তায় কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ এবং ‘শিক্ষকের বেতন নিয়ে টালবাহানা বন্ধ করো’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্লেকার্ড দেখা যায়।

জানা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের। বিষয়টি সমাধানে ১৭ জানুয়ারি তারা রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বরাবর স্মারকলিপি দেন। তবে কোনো সমাধান না আসায় মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন তারা।

মানববন্ধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মিল হক মোল্লাহ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আন্দোলন হলেও বেতন ভাতার জন্য আন্দোলন এই প্রথম যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জার। ১৯৯৬ সালে চালু হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ২৮ বছরে এই প্রথম বেতন ভাতা বন্ধ হয়েছে।’

এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। আজকে আমাদের থাকার কথা ছিলো ক্লাসে আজকে কেন আমরা রাজপথে থাকবো? আমরা কোন অন্যায় দাবি নিয়ে এখানে আসিনি। আমরা ইতিপূর্বে উপাচার্য স্যার কে লিখিতভাবে জানালে সে প্রথম আশ্বাস দিয়ে বিলম্ব করায় দ্বিতীয় বার গেলে তিনি আমাদের বলেন, আপনাদের কে কি আমি নিয়োগ দিয়েছি? এমন আচরণ প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছে আমরা আশা করিনি। আমরা আশা করবো আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রশাসন আমাদের বেতন ভাতা পরিশোধ করবেন।

ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আইআইইআর) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মামুনুর রহমান বলেন, ‘আইআইইআর ম্যানেজিং কমিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে পরিচালনা করে থাকে। ইউজিসি ওনাদের ফান্ড পর্যাপ্ত দেয়নি। আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখের মধ্যে শুধু ২০ লাখ দিয়েছে। এজন্য আইআইইআরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে ধার হিসেবে নিয়ে তাদের বেতন দেয়া হতো। তবে প্রশাসন ধার নেয়ার পর আর পরিশোধ করা হয় না। আমাদের আইআইইআর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচ আছে। হিসাব-নিকাশ করলে দেখা যায় ওই খাতে অর্থ ধার দেয়ার জন্য আমাদের এখানে অর্থের সংকট পড়ে যায়।’

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘এক মাসের বেতন বন্ধ থাকায় তারা মানববন্ধন করেছে। তাদের বেতন এক থেকে দেড় বছর আগে ইউজিসি থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে বেতন দেয়া হতো। আমরা বিষয়টা নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করেছি। আশা করছি দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।’

সর্বশেষ