‘আ.লীগের আনন্দ একদিন পরাজয়ে পরিণত হবে’

সরকারের স্মার্টযাত্রা তাদের ‘মরণযাত্রায়’পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অবৈধ সত্ত্বা নিয়ে তারা (আওয়ামী লীগ) যে আনন্দ করছে, তা একদিন পরাজয়ে পরিণত হবে। যখন তাদের পতন ঘটবে তখন জনগণ উৎসব করবে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ নির্বাচন শুধু দেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ডামি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ডামি সরকার গঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ডামি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘুমিয়ে থেকে নির্বাচনের নামে যে সংসদের জš§ দিয়েছেন, আগামীতে দেশে জনগণের ভোটে সরকার গঠিত হলে প্রতিটি টাকার হিসাব দিতে হবে।

রিজভী বলেন, কারাবন্দি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী অসুস্থ। চিকিৎসা না পেয়ে তারা অমানবিক জীবনযাপন করছেন। গণতন্ত্রকামী বিরোধী দলসহ আন্তর্জাতিক অধিকার গ্রুপ এবং গণতান্ত্রিক বিশ্ব বাংলাদেশে বিরোধীদের ওপর সরকারি নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট সরকার সেগুলোয় ভ্রুক্ষেপ করছে না। কয়েক সপ্তাহে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ। হিটলারের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের দুর্বিষহ উৎপীড়নের সঙ্গেই কেবল শেখ হাসিনার কারাগারের মিল পাওয়া যায়। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

আরও পাঁচ বছর সরকার টিকে যাবে কিনা-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্দোলনের পরিপূর্ণতায় স্রোত আমরা যত বয়ে দেব, স্রোতের ধারা যত আসবে, ততই আন্দোলন পরিপূর্ণ হবে এবং তারা (সরকার) পরাজিত হবে। আর কখন পরিস্থিতি হবে, সেটা বলা যায় না। শুধু একটা বলা যায়, জনগণের আন্দোলন যদি আদর্শ, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পক্ষের হয়, সেই আন্দোলন কখনো বৃথা যাবে না। এটাই হচ্ছে-ইতিহাসের রেকর্ড। এখানে জনগণ পরাজিত না। অপশক্তি কিছুদিন বাধা দিয়ে রাখতে পারে। কিন্তু তার স্রোতকে আটকে রাখা যাবে না। কোনো না কোনো দিক থেকে এটা প্রতিহত করে এগোবে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, একদফা দাবিতে সরকারের পতনের পরবর্তী আন্দোলনের ধারা ঠিক করতে আমাদের শীর্ষ নেতারা প্রতিদিন প্রায় বসছেন। কর্মসূচি ঠিক করে তারা জানাবেন। আমরা কর্মসূচি ও আন্দোলনের মধ্যে আছি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে ডামি সরকার অবৈধ ক্ষমতার উষ্ণতা অনুভব করছে। অন্যদিকে বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতে কাঁপছে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর নিু আয়ের মানুষ। জনগণ যেখানে একবেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে কিভাবে শীতবস্ত্র জোগাড় করবে? ডামি মন্ত্রীরা কি খেয়ে মন্ত্রিত্ব উদযাপন করবেন, পত্রপত্রিকায় সেই তালিকা প্রকাশ করছে। বর্তমানে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো-দেশের অধিকাংশ মানুষ এখন অর্ধাহারে-অনাহারে আছে। বিএনপি নেতাকর্মীসহ বিত্তবানদের অসহায় শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, আমিনুল ইসলাম, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আরিফা সুলতানা রুমা, কৃষক দলের ভিপি ইব্রাহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইয়াসীন আলী প্রমুখ।

সর্বশেষ