আজ পৌষ সংক্রান্তি: পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব

লিয়ন সরকার, জবি প্রতিনিধি:

পুরান ঢাকাসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে সাকরাইনের আমেজ। মূলত বাঙালি মুসলমানদের পৌষসংক্রান্তির উৎসব হিসেবে এর পরিচিতি। বর্তমানে সাকরাইন উৎসব ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত৷

সংস্কৃত শব্দ ‘সংক্রান্তি’ ঢাকাইয়া অপভ্রংশে সাকরাইন রূপ নিয়েছে। পৌষ ও মাঘ মাসের সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ পৌষ মাসের শেষদিন সারা ভারতবর্ষে সংক্রান্তি হিসাবে উদযাপিত হয়। তবে পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি বা সাকরাইন সার্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসবের রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দিনভর ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি সন্ধ্যায় বর্ণিল আতশবাজি ও রঙবেরঙের ফানুশে ছেয়ে যায় বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী শহরের আকাশ। এক কথায় বলা যায় সাকরাইন হচ্ছে এক ধরনের ঘুড়ি উৎসব।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস বা পৌষ মাসের শেষ দিনে আয়োজিত হয় সাকরাইন। যা গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিকার হিসেবে জানুয়ারি মাসের ১৪ অথবা ১৫ তারিখে পড়ে। বাংলায় দিনটি পৌষ সংক্রান্তি এবং ভারতীয় উপমহাদেশে মকর সংক্রান্তি নামে পরিচিত। বাংলাদেশের প্রাচীন উৎসব সমূহের মধ্যে পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসব অন্যতম। যদিও এটা সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী পালিত হয় না কিন্তু খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশি সংস্কৃতি। সাকরাইনকে ঐক্য এবং বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

ঢাকা শহরে উৎসব মুখর পরিবেশে সাকরাইন উৎসব পালন করা হয়। মূলত পুরান ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতে বেশি জমজমাট ভাবে উদযাপিত হয় পৌষসংক্রান্তি তথা সাকরাইন। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, গোয়ালনগর, লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, গেণ্ডারিয়া, লালবাগ ও এর আশেপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে ছোট, বড় সকলেই মেতে উঠে এ উৎসবে। বিকেল বেলা এই সব এলাকায় আকাশে রঙ বেরঙের ঘুড়ি ওড়ে। ছাদে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়ানো হয়। অধিকাংশ সময়ে ভোঁ কাট্টা’র (ঘুড়ি কাটাকাটি) প্রতিযোগিতা চলে। একজন অপরজনের ঘুড়ির সুতা কাটার কসরৎ করে।

এদিন রাতে পুরান ঢাকার আতশবাজির আলোয় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। আগুন মুখে নিয়ে খেলা দেখানো কসরৎবিদগণ ছাদে দাঁড়িয়ে দর্শকদের তাদের কারুকাজ দেখায়। সন্ধ্যার পর আকাশে ওড়ে রঙবেরঙের ফানুশ ও ঘরে ঘরে চলে পিঠাপুলির আয়োজন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সাকরাইন উৎসব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেকেই ধর্মীয় ও পরিবেশগত আপত্তির কারণে সাকরাইন পালন করে না। যে সময়ে পুরান ঢাকায় সাকরাইন পালন হয় অর্থাৎ ১৪ বা ১৫ জানুয়ারি সে সময়ে ভারতের হরিয়ানা,পাঞ্জাব,উত্তরপ্রদেশ,গুজরাট এবং তার আশপাশের প্রদেশগুলোর অধিকাংশ এলাকায় মকর সংক্রান্তি এবং পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে তিরমুরি ও জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে লাহোর ও সিয়ালকোট সহ পাঞ্জাব প্রদেশের অনেক এলাকায় বসন্ত মেলা বা বসন্ত পঞ্চমী পালন করে অনেকেই। এই মকর সংক্রান্তি ও বসন্ত মেলা এগুলো হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বীদের সাংস্কৃতিক উৎসব যেকারণে পুরান ঢাকার অনেক মুসলিমরা এসব পালন করা থেকে বিরত থাকেন।

সর্বশেষ