যেসব প্রিয় মুখ আর কখনোই দেখা যাবে না ক্যাম্পাসে

রিয়াদ, ইবি প্রতিনিধি- বিদায় নিতে যাচ্ছে ঘটনাবহুল ২০২৩ সাল। একদিন পরেই অস্তমিত হবে এ বছরের শেষ সূর্যটা। এরপর আসবে নতুন বছর ২০২৪। গেল বছরে কিছু গুণী মানুষদের হারিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। যাদের আর কখনোই দেখা যাবে না প্রিয় ১৭৫ একরের ইবি ক্যাম্পাসে। হৃদরোগ আর সড়ক দুর্ঘটনার মতো অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গত এক বছরে না ফেরার দেশে চলে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী, কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব ও একজন কর্মকর্তা। চলতি বছরের ১০ জুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব ড. আ স ম শোয়াইব আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ৬ জুন ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে মাগুরার অদূরে বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ড. শোয়াইব। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে আইসিইউতে রাখা হয়। ১০ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। ড. শোয়াইব আহমেদ ইবির দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ২৬ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইবির আল হাদিস বিভাগের প্রয়াত প্রফেসর ড. খোন্দকার আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) এর সহচর ও আস-সুন্নাহ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ইমামতির পাশাপাশি তিনি ধর্ম প্রচার, অর্থসহ আল কোরআন ও সালাত শিক্ষা, হিফযুল কোরআন কোর্স, ইংরেজি ও আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করতেন।

এ বছর ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় হারায় গুণী শিক্ষার্থী নওরীন নুসরাত স্নিগ্ধাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন নওরীন। ৮ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী নামাবাজারের একটি ভাড়া বাসার ছয়তলা থেকে পড়ে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। ক্যাম্পাসের সেরা বিতার্কিক ছিলেন নওরীন। এ ছাড়া আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সবার পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনেও দায়িত্ব পালন করেছেন নওরীন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক হয়েছিলেন তার পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। তার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেই রহস্য উন্মোচনে কয়েক দফায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে রহস্যের জট খুলেনি আজও। নওরীন টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার ইসলামবাগ গ্রামের খন্দকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। ২১ জুলাই চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার কলাকান্দা গ্রামের মৃত জহিরুল আলমের ছেলে ইব্রাহিম খলিলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নওরীন। এরপর স্বামীর সঙ্গে ঢাকা সাভারের আশুলিয়ার বিজয়নগর রোডে আব্দুর রহিমের মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। ওই বাড়ির ছয়তলা থেকে পড়েই মৃত্যু হয় নওরীনের। চলতি বছরের ১৫ মার্চ স্ট্রোক জনিত কারণে না ফেরার দেশে চলে যান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র রাকিব উদ্দিন।

১৫ মার্চ দিবাগত রাতে খাবারের পর নিজবাড়িতে স্ট্রোক করেছিলেন রাকিব। সকালে কোচিং-এ ক্লাস নেওয়ার সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে ভেবে তাঁর মা ডাকতে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাকিবের গ্রামের বাড়ি শৈলকূপা উপজেলায় ১৭ মাইল এলাকায় কানাপুকুরিয়া গ্রামে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক রাশেদ চৌধুরী গত ২২ ডিসেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। রাশেদ চৌধুরীর বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার পদমদী গ্রামে। ২২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্ট্রোক করেন তিনি। পরে তাৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও সদালাপী মানুষ ছিলেন রাশেদ চৌধুরী। দেখা হলে মিষ্টি হেসে কুশলাদি বিনিময় করতেন সবার সঙ্গে। তার মৃত্যুঁতে শোক প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের মানুষরা।

সর্বশেষ