নির্বাচন করতে এমপিদের পদত্যাগের দরকার নেই : ইসি

 

জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ৩৬টি আসন ছাড় দেওয়ার আলোচনা আছে আওয়ামী লীগে। একই সঙ্গে জোটসঙ্গী ১৪ দলের নেতাদের ৬টি আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। শরিক দলের নেতারা নৌকা নিয়ে ভোট করবেন। জাতীয় পার্টি নিজস্ব প্রতীক লাঙল নিয়ে ভোটে যাবে। ক্ষমতাসীন দল, জাতীয় পার্টি ও শরিক দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

জাতীয় পার্টি ৩৬ শরিকরা ৬

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর আলোচনা শুরু হয়েছে। গত সোমবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে জোটবদ্ধভাবেই ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জোটের নেতারা কে কোথায় আসন পাবেন তা শরিকদের সঙ্গে আলাপ করার জন্য আওয়ামী লীগের চার নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গতকাল বিকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর ইস্কাটনের বাসায় বৈঠক করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার। আজ জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন নিয়ে বৈঠক করা হবে। এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরসহ তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকের গুঞ্জন শোনা যায়। জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এজন্য নেতারা আরও সময় প্রয়োজন বলে মনে করছেন। ফলে ১৪ দলের প্রার্র্থীদের পুরোপুরি ভোটে নামতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছেন, এর বাইরে দুই বারের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আজ আমির হোসেন আমুর বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ১৪-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, ‘১৪ দলের শরিকদের আসন ভাগাভাগির বিষয়টি জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে। নির্বাচন জোটগতভাবে হবে। কাল (আজ) জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা করবে আওয়ামী লীগ। জোটের আসন বিন্যাস ও প্রার্থী চূডান্ত করতে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

আসন সমঝোতার বিষয়ে আমু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সব আনসার্টেন (অনিশ্চিত)। কারণ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই তো আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছে। ফলে কে থাকবে, কে থাকবে না, কে প্রত্যাহার করবে, কে করবে না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আসন বিন্যাসের ঘোষণা হয়তো আগে হতে পারে। কিন্তু সব বিষয়ের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। এরপর জাতীয় পার্টি আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে। তাদের আসন বিন্যাস হবে।’ আওয়ামী লীগের এক সূত্র জানিয়েছেন, ১৪ দলের শীর্ষ ছয় নেতাকে এবার নৌকা দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামকে আসন ছাড় দেওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা নিজস্ব প্রতীক বাইসাইকেল নিয়ে নির্বাচন করবেন।জাতীয় পার্টির এক সূত্র জানিয়েছেন, ভোটের আগেই জয়ের নিশ্চয়তা চায় জাতীয় পার্টি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে তারা কমপক্ষে ৫০টি আসন চায়। এ আসনগুলোয় নৌকার প্রার্থীকে বসে যাওয়া এবং তাদের পক্ষে কাজ করার জন্য সরাসরি ও নানা মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত কোনো কিছুই জানায়নি জাতীয় পার্টিকে। চাহিদামতো আসন না পেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে জাতীয় পার্টির। কারণ হিসেবে দলটির নেতাদের ব্যাখ্যা হচ্ছে, মাঠে নৌকার প্রার্থী থাকলে লাঙল নিয়ে বিজয়ী হওয়া কঠিন হবে। সে কারণে এখনই আসন নিয়ে নিশ্চিত হতে চান প্রার্থীরা।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির একজন কো-চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত তিনটি নির্বাচন আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট ও সমঝোতায় করেছি। আগামী নির্বাচনও জোটগতভাবে করতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫০টি আসনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। যেখানে নৌকা প্রতীকের কোনো প্রার্র্থী থাকবে না। আশা করি অন্য বারের মতোই প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রত্যাশিত আসনে ছাড় দেবেন।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের দুজন নেতা জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টিকে আসন ছেড়ে দেওয়া হলেও নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করা হবে না। কারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন চান ক্ষমতাসীনরা। জাতীয় পার্টি যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়ে আসতে পারে সেজন্য জাতীয় পার্টির যেসব আসনে ভোট আছে, সেখানে তুলনামূলক দুর্বল প্রার্থী বা একেবারেই নতুন মুখকে নৌকা দেওয়া হয়েছে। আসন ভাগাভাগি হলে জাতীয় পার্টিকে সর্বমোট ৩৬টি আসন ছেড়ে দেওয়ার আভাস মিলেছে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে। গতকাল ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর বাসা থেকে বের হয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেনন বলেন, ‘জোটের পক্ষ থেকে একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে। আগের চেয়ে কিছু আসন বেশি চেয়েছে ১৪ দল। জোটের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করে যেন আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হয় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আসন ভাগাভাগি যেন জোটের জন্য সম্মানজনক হয় সেটাই প্রত্যাশা। আমাদের এখন ১০ জন সংসদ সদস্য আছেন, প্রত্যাশা ২০ জনের। তিনি বলেন, যেখানে জোটের প্রার্থী আসবেন, সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উঠে যাবেন। জোটের প্রার্থীরা নৌকা মার্কায় নির্বাচন করবেন।’

১৪-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু আসনে আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করব। আর কিছু আসনে শরিক দলগুলো নিজেদের মতো নির্বাচন করবে। একসঙ্গে নির্বাচন করা আসনগুলোয় শরিকরা নৌকা প্রতীক ব্যবহার করবে। বাকি আসনগুলোয় তাদের নিজেদের প্রতীক ব্যবহার করবে। এদিকে গতকাল দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘১৪ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটা সমঝোতা অবশ্যই হবে। আজকালের মধ্যেই আসন বণ্টনের বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় স্বতন্ত্র মিলিয়ে অনেক প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেছেন। ১৪-দলীয় জোটের প্রত্যাশা কত আর তারা পাবে তার বাস্তবতা কতটা, দুটি বিষয় মিলেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তাদের কিছু হয়তো নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবেন, কিন্তু তাদের অন্য প্রার্থীরা তাদের নিজেদের মার্কায় নির্বাচন করবেন।’

সর্বশেষ