স্বতন্ত্র সাত্তারের ডানে বিএনপি বামে আওয়ামী লীগ
বিএনপি থেকে পদত্যাগের পর দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভুঞার নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। বাম পাশে আওয়ামী লীগ ও ডানে বিএনপি নেতাকে বসিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সভা করেছেন তিনি। মতবিনিময় করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে। দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলী আজাদের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাত্তার ভুঞা তার ছেলে মাইনুল ইসলাম তুষারকে নিয়ে শিউলী আজাদের কুট্টাপাড়ার বাসভবনে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিউলী আজাদের মোবাইল ফোন নম্বরে কল দেওয়া হলে শংকর রায় নামের এক ব্যক্তি রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘স্যার তো মিটিংয়ে আছেন।’ আবদুস সাত্তার ভুঞার সঙ্গে সভা শেষ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘কিছু নেতাকর্মী স্যারের বাসভবনে আছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। যে কারণে ব্যক্তিগতভাবে কেউ কাউকে সমর্থন করতে পারে। দল থেকে এ বিষয়ে কোনো বাধা নেই।’

এদিকে আবদুস সাত্তার বৃহস্পতিবার দিনভর গণসংযোগ, নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন, মিছিল করেন। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকে দেখা যায়। একটি সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির এক সাবেক নেতা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার উপজেলার অরুয়াইলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা করেন আবদুস সাত্তার। পরমানন্দপুর হাজি মকসুদ আলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সচেতন নাগরিক সমাজ ও সুধীসমাজের ব্যানারে সভায় সভাপতিত্ব করেন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজ খান। ওই সভায় আওয়ামী লীগের উল্লেখ্যযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব। এর মধ্যে সিরাজ খান বসেন আবদুস সাত্তারের ডান পাশে একটু দূরে। বাম দিকে পাশাপাশি বসেন আওয়ামী লীগ নেতা আবু তালেব। বিকেলে উপজেলা সদরের দেওয়ান মোকারম আলী মার্কেটে সাত্তারের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গগসংগঠনের নেতাদের মধ্যে মাহফুজ আলী, ইকবাল হোসেন, রোকেয়া বেগম, আসমা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সাদেকুর রহমান, এম কামাল হকসহ কয়েকজন উপস্থিত থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে শহীদ মিনার চত্বর থেকে সাত্তারের কলার ছড়া প্রতীকের পক্ষে মিছিল বের হয়।

অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব একটি সভায় উপস্থিত ও সাত্তারের পক্ষে কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। এ ছাড়া আবদুস সাত্তার ভালো মানুষ। তিনি জয়ী হতে পারলে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারবেন। যে কারণে আমরা দল-মত-নির্বিশেষে তার পক্ষে কাজ করছি। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি নেতারাও ওনার হয়ে মাঠে নেমেছেন।’

তবে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুজ্জামান লস্কর তপু জানান, আবদুস সাত্তার দল থেকে পদত্যাগ করায় বিএনপির কেউ তার পক্ষে কাজ করবে না। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নেবে না।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তারকে জয়ী করে দিতেই সরকারি দল আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। আওয়ামী লীগ চায় সাত্তারের জয়ের মধ্য দিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। বিএনপির কেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয়ভাবেও এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

রাত পৌনে ৯টার দিকে আবার ফোন করা হলে শিউলী আজাদ বলেন, ‘উনি আমার পাড়া বেড়াচ্ছেন। সবার কাছেই তিনি ভোট চাইছেন। আমার কাছে আসার বিষয়টা এত হাইলাইটসের কিছু না।’ তিনি এসেছিলেন―এমন বিষয়টি জোর দিয়ে বলার পর বলেন, ‘তিনি আমার বাড়ির সামনে দিয়ে গেছেন। তখন আমি মাত্র বাড়িতে ঢুকি।’

একটু পরই ফোন করা হলে আবদুস সাত্তারের ছেলে মাইনুল ইসলাম তুষার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এমপির বাসায় গিয়েছিলাম। ওনার কাছে দোয়া চেয়েছি। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে সেভাবে কাজ করব।

সূক্র: কালেরকন্ঠ

সর্বশেষ