দেশ বাঁচলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বাঁচবে
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেছেন, দেশটা আমাদের সবার। আমাদের ভাবনা দেশ নিয়ে। দেশ বাঁচলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বাঁচবে। দেশ না বাঁচলে আমরা সবাই আস্তাকুঁড়ে পতিত হব। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম। বাংলাদেশ প্রতিদিন কার্যালয়ে তিনটি সেশনে এর আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক ও কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী।সারা দেশ থেকে ব্যুরোপ্রধান, নিজস্ব প্রতিবেদক, জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে যোগ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আকবর সোবহান আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশের সাংবাদিকতার ধারা বদলে দিয়েছে। একসময় শুধু মনে করা হতো নেতিবাচক ঘটনাই বড় খবর। কিন্তু এখন সেই রাহু থেকে মুক্তি মিলেছে। এখন ভালোকে ভালো, খারাপকে খারাপ বলা হয়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সম্মেলনে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি বলেন, গত ১৪ বছরে দেশের উন্নয়ন নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি যে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সহকারী মন্ত্রী ডোনাল্ড লু বাংলাদেশের প্রশংসা করে গেছেন। সবাই বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী। ১৪ বছর আগের চেয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক সবাই ভালো অবস্থানে আছেন। শুধু গুটিকয় মানুষ হতাশার কথা বলে। তারা ব্যস্ত থাকে কীভাবে দেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা যায়। কভিডের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করেছি। কিন্তু কভিড শেষ হতেই কিছু সাইবারসন্ত্রাসী দেশকে ধ্বংস করতে তৎপর হয়েছে। বসুন্ধরা চেয়ারম্যান বলেন, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা সেতু নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। এগুলো নিয়ে আমরা ব্র্যান্ডিং করতে পারি। অথচ ব্র্যান্ডিং হয় বাংলাদেশে ডলার নেই, ব্যবসা-বাণিজ্য নেই- এ গুজবগুলো। সেই সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির দেশদ্রোহী ডলার নিয়ে ফটকাবাজি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিছু ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। দেশকে ধ্বংস করতে নীলনকশা হয়েছিল। কিছু গণমাধ্যম সে সুযোগ কাজে লাগায়। তাই আমাদের কাজ করতে হবে ২০ কোটি মানুষের জন্য। রাজনীতি হবে রাজনীতির জায়গায়। রাজনীতির জন্য যেন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। প্রতিটি জেলায় মিছিল-মিটিংয়ের জন্য একটা জায়গা নির্দিষ্ট করা উচিত বলেও মত দেন তিনি।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, এ দেশে যে কোনো ভালোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নষ্ট করা যাবে না। ব্যাংক নষ্ট করার জন্য কেউ কেউ নির্লজ্জভাবে ষড়যন্ত্র করেছে। ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার সাপোর্ট ছাড়া ব্যাংকগুলো রক্ষা করা কঠিন হতো। এ ষড়যন্ত্র রুখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে আমাদের মিডিয়াগুলো। আমাদের শুধু একটাই স্বপ্ন- বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। এ দেশের ২০ কোটি মানুষের পক্ষে আমরা। এজন্য বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্লোগান- আমরা জনগণের পক্ষে। আর বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম শক্ত হাতে এ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসেবে অবস্থান ধরে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের কাছে কৃতজ্ঞ। জনপ্রিয় এ দৈনিক এখন অনলাইনে ইংরেজি ভার্সনেও চালু রয়েছে। এখন ডিজিটাল মাধ্যমেও অনেক এগিয়ে এই পত্রিকা।

তিনি আরও বলেন, দেশ পেরিয়ে লন্ডন এবং নিউইয়র্ক থেকে সপ্তাহে এক দিন প্রকাশিত হচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন একটা আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র। দেশের সংবিধান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আমাদের অঙ্গীকার আছে। সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, এসব অঙ্গীকার থেকে কখনো বিচ্যুত হবেন না।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক প্রয়াত পীর হাবিবুর রহমানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক আবু তাহের। বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে সারা দেশের প্রতিনিধিদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। করোনাকালে মিডিয়ায় কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিদিনে কাউকে ছাঁটাই করা হয়নি। কালের কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বক্তব্যে বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সুনাম যেন অক্ষুণ্ন থাকে সেদিকে নজর রাখবেন আপনারা। এ পত্রিকা দেশের সব থেকে বেশি প্রচারিত দৈনিক। বসুন্ধরা গ্রুপ যেখানেই হাত দেয় তা আকাশ স্পর্শ করে।

ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিদিন আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করি। সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে প্রতিনিধিদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এ পর্বে বক্তব্য দেন ‘পরিপ্রেক্ষিত’-এর নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিয়মিত কলামিস্ট সৈয়দ বোরহান কবীর, কালের কণ্ঠের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, নিউজ টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী সম্পাদক রাহুল রাহা। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের উপ-সম্পাদক মাহমুদ হাসান, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামাল মাহমুদ, বার্তা সম্পাদক নাহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রতিবেদক মন্জুরুল ইসলাম, মফস্বল সম্পাদক মোস্তফা কাজল, অনলাইন ইনচার্জ শামছুল হক রাসেল, ফিচার এডিটর রণক ইকরাম, সার্কুলেশন বিভাগের প্রধান বিল্লাল হোসেন মন্টু, বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। সারা দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন- চট্টগ্রামের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক কাজী শাহেদ, সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহ দিদার আলম নবেল, বরিশালের নিজস্ব প্রতিবেদক রাহাত খান, খুলনার নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শাহীন, রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক নজরুল মৃধা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি সৈয়দ নোমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন মোল্লা, নোয়াখালী প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জহুরুল আলম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি রেজাউল করিম, বাগেরহাট প্রতিনিধি শেখ আহসানুল করিম, শেরপুর প্রতিনিধি মাসুদ হাসান বাদল, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি লাভলু মোল্লা, বেনাপোল প্রতিনিধি বকুল মাহবুব, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি দীপঙ্কর ভট্টাচার্য লিটন প্রমুখ।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বশেষ