জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশের জন্য কাল স্বরুপ

জাহিদুর রহমান জনি : প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে আজ সমাজ ব্যবস্থার মান উন্নয়ন ঘটেছে। প্রযুক্তি যেভাবে দিন দিন মানুষের জীবনটাকে সহজ থেকে সহজতর করে তুলেছে কিন্তু এর ফলস্বরূপ একটা বিপরীত প্রভাব পড়েছে আমাদের জীবনযাত্রায়। বর্তমান বিশ্বে মানুষ প্রযুক্তির উপর বড্ড বেশি নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছে যার ফলস্বরূপ আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করছি। মানব সমাজের প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম নিদর্শন বা উদাহরন গ্রীনহাউজ ব্যবহার, গ্রীনহাউজ বা সবুজ ঘর হল এমন একটি ঘর যার দেওয়াল এবং ছাদ প্রধানত স্বচ্ছ পদার্থ যেমন কাঁচ বা শক্ত পলিথিন দ্বারা তৈরি, যার ভিতর শাক-সবজী চাষাবাদের উপযুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈনি করা হয়। শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোতে গ্রীনহাউসের ব্যবহার অধিক লক্ষ্য করা যায় কারণ সেখানে ফল এবং খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভালো আবহাওয়া পাওয়া যায় না, ফলস্বরূপ খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনের জন্য গ্রীনহাউজ ব্যবহার করা হয়। মানবসমাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের ভালো বা উপকারী দিক এর সাথে সাথে অপকারী বা ক্ষতিকর দিক রয়েছে, নতুন মাত্রায় প্রযুক্তি ও ডিজাইনের উদ্ভাবনের ফলে মানুষের প্রযুক্তি পরিবর্তনের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অপচনশীল বর্জ্য উৎপাদন হয়ে থাকে এর কিছু ব্যবহার করা যায় আর এর বাকি অংশ মাটি বা পানির সাথে মিশে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। ফলস্বরূপ মাটি দূষণ পানি দূষণ এর মতো ভয়াবহ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় এবং ক্ষতিকর দিকগুলো হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি,ঋতু পরিবর্তন,প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৃষ্টিপাত কম, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক ভাবে বরফ গলা। এই সকল বিষয়ের জন্য মানব বৈচিত্র ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং জীববৈচিত্র্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অস্বাভাবিক ভাবে বরফ গলে যাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ, অস্বাভাবিক ভাবে বরফ গলায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে । এই বিষয়গুলো মোকাবেলার জন্য আমাদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে আমাদের প্রযুক্তিগুলো যাতে পরিবেশবিরোধী না হয়। ডিভাইস তৈরীর সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন ডিভাইসগুলো সহজে নষ্ট করা যায় এবং তা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। কলকারখানা থেকে দূষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং নির্গত দূষিত ধোয়া এবং তরল পদার্থ যাতে পরিবেশের কোন প্রকার ক্ষতিসাধন না করে সেদিকে খেয়াল রেখে আমাদের বিকল্প পন্থা অবলম্বন করতে হবে। যার ফলস্বরুপ মানব সমাজ নিজেদের জীবনযাপন প্রযুক্তি নির্ভর করে সহজে পরিচালনা করতে পারবে এবং জীববৈচিত্রের কোন প্রকার বিপর্যয় ঘটবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমাতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে হবে বা অভিযোজন করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় পরিবেশ দূষণ রোধে বিভিন্ন বিকল্প পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে কিংবা পরিবেশ দূষণকারী যে সকল পদার্থ রয়েছে সেগুলো ব্যবহার করা কমাতে হবে এবং সেগুলোর বিপরীতে বিকল্প ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হবে যাতে পরিবেশের দূষণ না হয়। যদি বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করা হয় এবং তা পৃথিবীর তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় অর্থাৎ যে সকল প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ব্যবহার কমিয়ে দেয়া কিংবা তার বিকল্প ব্যবস্থা অবলম্বন করলে পরিবেশের অস্বাভাবিক অবস্থা করলো এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করা যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের মানবিক কারণগুলো হলো জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, কৃষি, শিল্প বিপ্লব, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, বন উজাড়। এই বিষয়গুলো পরিবেশ দূষণের মূল কারণ বলে ধরা হয়। এই সকল কারণ এর ক্ষেত্রে পৃথিবীর তাপমাত্রা অধিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বরফ গলে যাচ্ছে, ফলস্বরূপ জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং সমুদ্রের লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের যথেষ্ট সচেতন হলে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার করলে পরিবেশের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তনের পিছনের মূল কারণ মানব সমাজ।

সর্বশেষ