আজ আরও ৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন

আজ আরও ৫০ মডেল মসজিদ উদ্বোধন

 

ইসলামের প্রচার ও প্রসার এবং মসজিদকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে বর্তমান সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে নির্মিত ৫০টি মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১১টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজশাহী ও গাজীপুরে যুক্ত হয়ে এই মডেল মসজিদ উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের ১০ জুন প্রথম ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করেন। একসঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণের ঘটনা বিশ্বে বিরল বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আজ যেসব জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে- ফরিদপুরের ভাঙ্গা, নগরকান্দা, শেরপুরের সদর উপজেলা, গাজীপুরের কাপাসিয়া, গোপালগঞ্জের সদর উপজেলা, কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলা, কটিয়াদী, মানিকগঞ্জের ঘিওর, সাটুরিয়া, নরসিংদীর সদর উপজেলা, মনোহরদী, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, শরীয়তপুরের জেলা সদর, ভেদরগঞ্জ, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলা, বগুড়ার ধুনট, নন্দীগ্রাম, নওগাঁর নিয়ামতপুর, নাটোরের বড়াইগ্রাম, পাবনার ভাঙ্গুড়া, সুজানগর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলা, জামালপুরের জেলা সদর, বকশীগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী, ভোলার লালমোহন, তজুমদ্দিন, পিরোজপুরের জেলা সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলা, কসবা, খাগড়াছড়ির সদর উপজেলা, মানিকছড়ি, কুমিল্লার চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, খুলনার রূপসা, কুষ্টিয়ার খোকসা, ভেড়ামারা, মেহেরপুরের জেলা সদর, গাংনী, সাতক্ষীরার দেবহাটা, সিলেটের গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জের জেলা সদর, জগন্নাথপুর, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট। জানা গেছে, এ-ক্যাটাগরিতে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ৬৯টি, বি-ক্যাটাগরিতে উপজেলা সদরে ৪৭৫টি ও সি-ক্যাটাগরিতে উপকূলীয় এলাকায় ১৬টিসহ মোট ৫৬৪টি মডেল মসজিদ প্রকল্প চলমান। শুধু নামাজ আদায় নয়, এসব মসজিদ হবে গবেষণা ইসলামী সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চা কেন্দ্র। ইসলামের চিরায়ত এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে দৃষ্টিনন্দন এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুসলিম বিশ্বে এই প্রথম কোনো দেশের সরকারপ্রধান একসঙ্গে ৫৬৪টি মসজিদ নির্মাণ করছেন। এর আগে কোনো মুসলিম শাসক বা সরকারপ্রধান একসঙ্গে এতগুলো মসজিদ নির্মাণ করেননি। এটি একটি অনন্য এবং যুগান্তকারী ঘটনা। ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে উন্নত মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে নিজস্ব অর্থায়নে ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করছে সরকার।আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক অজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কোরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, অটিজম কেন্দ্র, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থাকবে। এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। মডেল মসজিদগুলোতে দীনি দাওয়াত কার্যক্রম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মডেল মসজিদগুলো শুধু নামাজ পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা সুযোগ থাকবে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এটাই হচ্ছে বিশ্বে প্রথম কোনো সরকারের একই সময়ে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মসজিদ নির্মাণের ঘটনা। যা বিশ্বে বিরল।

৫৬৪টি মডেল মসজিদে সারা দেশে প্রতিদিন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ ও ৩১ হাজার ৪০০ জন নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

লাইব্রেরি সুবিধার আওতায় প্রতিদিন ৩৪ হাজার পাঠক একসঙ্গে কোরআন ও ইসলামিক বই পড়তে পারবেন। ইসলামিক বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকবে ৬ হাজার ৮০০ জনের। ৫৬ হাজার মুসল্লি সবসময় দোয়া, মোনাজাতসহ তসবিহ পড়তে পারবেন। মসজিদগুলো থেকে প্রতি বছর ১৪ হাজার হাফেজ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। আরও থাকবে ইসলামিক নানা বিষয়সহ প্রতি বছর ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা। ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথির আবাসন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে প্রকল্পের আওতায়। কেন্দ্রগুলোতে পবিত্র হজ পালনের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর তিন ক্যাটাগরিতে মসজিদগুলো নির্মিত হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে চার তলা, উপজেলার জন্য তিন তলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চার তলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৬৪টি জেলা শহরে এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬৯টি চার তলাবিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এ মসজিদগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ২ হাজার ৩৬০ দশমিক ০৯ বর্গমিটার। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৫টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪ বর্গমিটার। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে উপকূলীয় এলাকায় ১৬টি মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোর প্রতি ফ্লোরের আয়তন ২ হাজার ৫২ দশমিক ১২ বর্গমিটার। উপকূলীয় এলাকার মসজিদগুলোতে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে নিচতলা ফাঁকা থাকবে। একেকটি মসজিদ নির্মাণ করতে ব্যয় হচ্ছে জেলা শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫ কোটি ৬১ লাখ ৮১ হাজার টাকা; উপজেলা পর্যায়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উপকূলীয় এলাকায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা। জেলা সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ১২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। অপরপক্ষে উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ৯০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।

সর্বশেষ