শ্রমিক নেতাদের নামে গোরিয়ং এর করা মিথ্যা মামলায় -বিজিএসএসএফের তীব্র নিন্দা

শ্রমিক নেতাদের নামে গোরিয়ং এর করা মিথ্যা মামলায় -বিজিএসএসএফের তীব্র নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গতকাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সম্পাদক, পারভিন আক্তারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শামীম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ও বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করারহীন প্রচেষ্টায় একটি কুচক্র মহলের যোগ সাজোসে মিথ্যা হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করেছেন

গোরিয়ং ফ্যাশন এর মালিকপক্ষ। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পন্থায় মিথ্যা মামলায় গত ৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে তার নিজ বাসা থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ গ্রেফতার করেন। শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর কে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে
অবিলম্বে জাহাঙ্গীরকে নিঃস্বার্থ মুক্তির দাবি জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে ।

সমস্যা সমাধানে কলকারখানায় একাধিক আপস মীমাংসার বৈঠক ডাকানো হয়েছে কিন্তু মালিকপক্ষ বৈঠকে বসতে রাজি না হওয়ার কারণে মালিকের বাসা ঘেরাও করেন শ্রমিকরা।

মালিক বাংলাদেশ শ্রম আইন না মানার কারণেই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর টঙ্গী গাজীপুরে ইন্সপেক্টর মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছেন বলে কাধিক সূত্রে জানাগেছে।

সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই একটি কুচক্রী মহলের যোগ সাজে শ্রমিক নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন গোরিয়ং ফ্যাশনের মালিক উক্ত ঘটনায় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাকে খতিয়ে দেখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ ১০/০১/২০২৩ ইং তারিখে টঙ্গী কলকারখানায় ত্রীপক্ষীয় মিটিং হওয়ার কথা ,মিটিং বাঞ্চাল করার জন্যই ৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাতে শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সুত্র:

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত গোরিয়ং ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার মালিক কর্তৃক কাজে বাধা দেওয়া শ্রমিকদের চাকরিতে পূর্ণবহালের দাবিতে শ্রমিকদের পাশে থাকার কারণে প্রতিহিংসার বেশে মামলা করেছে মালিক।

মালিকপক্ষ কতৃক বেআইনিভাবে চাকুরী চ্যু্তিসহ কারখানায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে মালিকের বাসা ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা দাবি করে বলেন ১০ নভেম্বর বেতন যাওয়ার কারণেই প্রথমে ১৩ এর (১) ধারায় নোটিশ টা নিয়ে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে কারখানা খুলে দিয়ে ১০০ জন শ্রমিককে কারখানার ভিতরে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করলে অসন্তোষ তৈরি হয়। শ্রমিকরা দাবি করে বলেন প্রতি মাসেই বেতন ভাতা নিয়ে তালবাহানা করেন মালিকপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইনে(৭) সাত কর্ম দিবসের মধ্যে বেতন ভাতা পরিশোধের বিধান থাকলেও কোন মাসেই তা সময় মতো পরিশোধ করেন না বরঞ্চ একাধিক তারিখ দিয়ে শ্রমিকদেরকে আন্দোলন মুখী করেন মালিকপক্ষ।

চাকরিতে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে শ্রমিকরা কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিজিএমইএ,শিল্প পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন শ্রমিকরা।
সমস্যার সমাধানে মালিকপক্ষ এগিয়ে না আসায় গত ১৭ ই ডিসেম্বর ধানমন্ডি এলাকায় মালিকের বাসভবন ঘেরাও করলে কলাবাগা থানা পুলিশ এবং স্থানীয়নাগরিক সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের অনুরোধে ২৪ ডিসেম্বর পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দিলে ঘরে ফিরে যান শ্রমিকরা। কিন্তু সেই তারিখ ও ছিল প্রতারণার শামিল মালিক কথা দিয়ে কথা না রাখা এবং সমাধানে এগিয়ে না আসার কারণে আবারও ধানমন্ডি এলাকায় মালিকের বাড়ি ঘেরাও করলে মালিকপক্ষ এবং ধানমন্ডি থানা পুলিশের অনুরোধে আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে চূড়ান্ত বৈঠকের আশ্বাসে আবারো ঘরে ফিরে জান শ্রমিকরা। ৩ তারিখ ও মালিক উপস্থিত হন নাই।
উক্ত শ্রমিকরা ১০ থেকে ২৮ বছর পর্যন্ত ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন। শ্রমিকরা দাবি করে বলেন ২৮ বছর ধরে জীবন যৌবন শেষ করে দিয়েছি শেষ সময় এসে খালি হাতে বিদায় করে দিতে চায় মালিক বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে মনে করছেন শ্রমিকরা।
টানা ২৮ বছর ধরে কাজ করা এক নারী শ্রমিক বলেন ২৮ বছরে মালিক আমাকে কোন অপরাধে অভিযুক্ত করে নোটিশ প্রদান করতে পারেন নাই আর এখন ২৮ বছরে এসে আমাকে আন্দোলন করার অভিযোগ দিয়ে পাওনা থেকে বঞ্চিত করার পায়তারা করছেন মালিক। কোথায় গেলে বিচার পাবো আমি বললেন শ্রমিক।

শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানানোর কারণে শ্রমিক নেতাদের নামে মামলা করেছে মালিক।

সর্বশেষ