প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে একদিন

সমুদ্র একরাশ জলের বেদনা লিখে, সমুদ্রের নীল জলে মানুষ তার দুঃখ ভূলে। সমুদ্রের নিকট মানুষের যে কত মিনতি, আর মানুষের নিকট সমুদ্রের যে কত আকুতি। চারিদিকে নীল আর নীল, মাঝখানে জেগে আছে সবুজের দ্বীপ। বলছি ৮ বর্গকিলোমিটারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কথা, এখানে আমার দ্বিতীয়বার ভ্রমণ, অভিজ্ঞতাটাও পুরনো।

ঢাকা থেকে ট্রেন এ করে চট্রগ্রাম, সেখান থেকে কক্সবাজার তারপর জাহাজে করে বঙ্গোপসাগরের স্রোতকে অতিক্রম করে আমার পৌঁছে যাই কায়সারের নীল দ্বীপে। কায়সার হলো একজন এই দ্বীপের বাসিন্দা, যার সঙ্গে ২০২১ সালে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব। সে আমাদের গ্রহণ করে জেটিঘাট থেকে, নিয়ে যায় “দ্যা বিচ ক্যাম্প ” রিসোর্টে। যাওয়ার পথে প্রচুর নারিকেল গাছ দেখতে পাই এই নারিকেল জিঞ্জিরাতে। শেষ করে নেই দুপুরের খাবার, তারপর কেউ ঘুমায় কেউ আবার নীল জল দেখে আবেগে দ্রুত সমুদ্রস্নানে নেমে যায়। বিকালে সমুদ্রের উপর লেগে থাকা শেষ আলোর সূযাস্ত দেখায় ব্যস্ত আমরা, মুঠোফোনে বারবার সূর্যের ছবিধারণ নানা ভঙ্গিমায়।

শেষ হয় একটি বিকেল, রাত্রি তে শুরু হয় সমুদ্রের ভয়ংকর গর্জন আর রাত্রি গভীর হতে হতে পূর্ণিমার চাঁদ আমাদের দিকে হাত বাড়ায়। আমরা সমুদ্র পাড়ে বারবিকিউ করি, তারপর শুরু হয় ফায়ার ক্যাম্পিং প্রায় দু’ঘন্টা ধরে চলে। একেকবার সমুদ্রের একেকটা ভয়ানক গর্জন আমাদের দিকে এসে আঁচড়ে পড়ে, তার কতো শক্তি তার রূপ না বুঝা দায়। যাদের কল্পনার চোখ আছে তারা এই দ্বীপে দাড়িয়ে কতোকিছুই না হয় ভাবে, আমিও অন্ধকার  সমুদ্র, রাতের আকাশ, পূর্ণিমার চাঁদের দিকে দাড়িয়ে নিঃশব্দের শব্দ শুনতে থাকি। দারুচিনি দ্বীপের কান্না শুনি, গল্প শুনি, জলীর শরীরে দাড়িয়ে থেকে নারীর কথা ভাবি।ঝাউবন থেকে হুহু বাতা এসে শরীরে দোল খায়, আহা কতো মায়াবী কতো অপরূপ দৃশ্য। এভাবে শেষ হয় আমার সারারাত, পরদিন ভোর বেলায় উঠে চলে যাই সূর্যোদয় দেখতে, অনেকেই আসে।

আমরা দ্বীপ এর একপাশে দাড়িয়ে অপেক্ষারত হঠাৎ দেখি সমুদ্রের উপর থেকে জেগে উঠছে লাল আভা পৃথিবীর উপরে, আবিররাঙা হয়ে উঠেছে আকাশ, আর নীরবে সৈকতে আঁচড়ে পড়ছে ঢেউ আমরা সূযোদয় দেখা শেষ করে সকালের খাবার খেয়ে রওনা করি গভীর সমুদ্রে। মাঝি সাহেব আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আমরা তার সঙ্গে করে চলে যাই ডিপ সি তে সে আর ভয়ংকর অভিজ্ঞতা যেন বেঁচে ফিরলে ঢাকা পড়ে গেলে নিরুদ্দেশ। একেকবার একেকটা ঢেউয়ে আমাদের মাছ ধরার নৌকা উড়িয়ে নিয়ে চলে যাবে। আমি প্রচন্ড ভয় পাচ্ছিলাম মনে হচ্ছে মৃত্যু কাছে কিন্তু এটাও ভাবছিলাম এতো অকালে কি আর মারা যাবো আশেপাশে আবার নৌবাহিনী কোস্টগার্ড এর জাহাজ ঘুরছিলো পড়ে গেলে ওরা হয়তো বাঁচাবে। যাক আমরা সারাদিন সমুদ্রের মিতালি আর মাছ ধরি, মাঝি আমাদের ভয়ংকর সমুদ্রের অভিজ্ঞতা দেখান ঝড় হলে কি হয় সেই বর্ণনাও শুনান।

সমুদ্রের মাঝিদের কতোটা ভয়ংকর সেখানে না গেলে হয়তো বুঝা হতো না। বিকাল বেলে আমরা সেখান থেকে সূর্যাস্ত দেখি ছবিতেও ধারণ করি।তারপর কিছুটা বিদঘুটে  অন্ধকার হয় তখন আমরা তীরে ফিরে আসি। এভাবেই আমাদের কেটে যায় কয়েকটা দিন।

লেখকঃ আজহারুল ইসলাম শুভ্র
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
পরিসংখ্যান বিভাগ

সর্বশেষ