মনোনয়ন পেতে হলে এলাকায় যেতে হবে

দলীয় সংসদ-সদস্যদের আরও বেশি করে এলাকামুখী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজ এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। দলীয় সংসদ-সদস্যদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় আসনগুলোতে ছয় মাস পরপর জরিপ করি। এতে একেকটা সংসদ-সদস্যের পেছনে ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। কে এলাকায় যান, কে যান না- সব তথ্য আমার কাছে আছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে এলাকায় যেতে হবে। দলের দুঃসময়ের কর্মীদের সঙ্গে রাখতে হবে। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের ষষ্ঠ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের লেভেল ৯-এ সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৮টায় শুরু হয়ে সভা চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এতে সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অধিকাংশ সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। সভায় বেগম মতিয়া চৌধুরীকে দলের সংসদ উপনেতা করার সিদ্ধান্ত হয়। সভার শুরুতে কয়েকজন সংসদ-সদস্য বক্তব্য দেন। তারা হলেন- শাজাহান খান, মেহের আফরোজ চুমকি, মোতাহার হোসেন, আ স ম ফিরোজ, আতিউর রহমান আতিক, সাদেক খান, অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা, খোদেজা নাসরিন, তাহজিব আলম সিদ্দিকী, হোসেন আরা, উম্মে ফাতেমা নাজমা, জাকিয়া পারভীন মনি, আবিদা আনজুম মিতা প্রমুখ। তাদের অধিকাংশই এলাকার সমস্যা, বরাদ্দ বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ ও কোন্দল নিয়ে কথা বলেন। একাধিক নারী সংসদ-সদস্য নারীর ক্ষমতায়ন এবং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর সহযোগিতা কামনা করেন।

এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন জাতীয় রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। হুইপ আতিউর রহমান আতিক জেলা প্রশাসকদের ত্রাণসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণে এমপিদের রাখা হয় না বলে অভিযোগ করেন।

জাকিয়া পারভীন মনি ইউপি চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে ভিজিডিসহ বিভিন্ন কাজে দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি দলের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের নারী সংগঠনগুলোতে তাদের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবার কথা শুনেছি। আপনারা এলাকার কথা, গ্রুপিংয়ের কথা এবং জাতীয় রাজনীতির কথাও বললেন। কিন্তু একজনও বিগত ১৪ বছর যে উন্নয়ন করেছি, সে কথা বলেননি। বিএনপি জামায়াতের অপকর্মের কথা বললেন না। সভায় আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বিএনপি-জামায়াতের অপকর্ম তুলে ধরে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৪ বছর যে উন্নয়ন-অর্জন করেছি, আগামীতে ক্ষমতায় আসার জন্য যথেষ্ট। এই উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। এলাকার গ্রুপিং না করে দলীয় সংসদ-সদস্যদের বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিভাবে বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলা করলাম, সারাবিশ্বে কী অবস্থা সেগুলো জনগণকে জানতে হবে। বর্তমানে ইউক্রোন-রাশিয়ার যুদ্ধে জিনিসপত্রের দাম যে বেড়ে যাচ্ছে, সেগুলো মানুষকে জানাতে হবে। ২০১৩-২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানো এবং সরকার পতনের নামে বিএনপি-জামায়াত কী কী করেছে, সেগুলো তুলে ধরতে হবে। এসব বিষয়ে যাদের অনুভূতি নেই তাদের সংসদে আসার প্রয়োজন নেই।

সূত্র: যুগান্তর

সর্বশেষ