ইজতেমা শুরু হওয়ার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ ইজতেমা ময়দান

মেহেদী হাসান শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার:

মঙ্গলবার সকাল থেকে টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে আসতে শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

আগামী শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে ৫৬ তম বিশ্ব ইজতেমার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ইজতেমা ময়দান। ইজতেমায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন দেশ বিদেশের হাজারো মুসল্লিরা।

টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ইতোমধ্যেই ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ সহ আশেপাশের কয়েকটি জেলার নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন আগত মুসল্লিরা। প্রতি বছরের মতো এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানের তাবলিগ জামায়াতের সদস্যরা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিল্প কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ করেছেন।

ইজতেমার ১৬০ একর জায়গার বিশাল ময়দানে শামিয়ানা টানানোর কাজ শেষ। বৈদ্যুতিক বাতি, মাইক, জেনারেটর সংযোগ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক কাজও সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তুরাগ নদে পাঁচটি ভাসমান পন্টুন ব্রিজসহ র‌্যাব-পুলিশের জন্য পর্যবেক্ষণ টাওয়ার তৈরি করা হয়েছে। এবং বিশ্ব এজতেমাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ইজতেমা ময়দানকে তিনটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানের আশপাশে ৭ হাজার ৫৩৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
আইনশৃঙ্খলা পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইউনিফর্ম ডিউটি, স্থির পিকেট ডিউটি, ফুট পেট্রোল ডিউটি, মোবাইল ডিউটি, ওয়াচ টাওয়ার, রুফটপ ডিউটি। এ ছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি সার্ভিল্যান্স, এরিয়া সার্ভিল্যান্স, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব, এন্টি টেরোরিজম ইউনিট-এটিইউ, ডিবি, কুইক রেসপন্স টিম-কিউআরটি, ফায়ার সার্ভিস, বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট, নৌ-পেট্রোল টিম, ফরেনসিক টিম, সাইবার পেট্রোলিং, এলআইসি, পিএইচকিউ, এপিসি, জলকামান, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স টিম, অনুসন্ধান ডেস্ক, হারানো ও প্রাপ্তি কক্ষ, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও মোবাইল কোর্ট দায়িত্ব পালন করবে।

প্রসঙ্গগত, শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তবে বুধবার সকাল থেকেই ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাবলীগ জামাতের মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। অবস্থান নিয়েছেন তাদের নিজ নিজ খিত্তায়। আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন ও বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ময়দানের পশ্চিম পাশে তুরাগ নদীর পূর্ব পাড়ে নামাজের মিম্বার এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে বিদেশি মেহমানদের জন্য নির্ধারিত কামরার পাশে মূল বয়ান মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলার পাশাপাশি উর্দু ও হিন্দি ভাষায় বয়ান করা হবে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বয়ানের সঙ্গে সঙ্গে তরজমা করা হবে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুরো ময়দানে প্রায় ৩০০ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও সাইবার নিরাপত্তা দেওয়া হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইজতেমায় বিদ্যমান দুই পক্ষ সহযোগিতা করবে। তাদের মধ্যে কোন সমস্যা হবে না।
প্রথম পর্ব ১৩ জানুয়ারি শুরু হবে। রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এর আনুষ্ঠানিকতা। চারদিন বিরতির পর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। তবে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইজতেমার আয়োজনের দাবি সাধারণ মুসল্লিদের।

সর্বশেষ