বিএনপি-সমমনা ৫৩ দল ও সংগঠন ঢাকায় সাত স্থানে গণঅবস্থান আজ

 

একই কর্মসূচি সব বিভাগীয় শহরে * ঘোষণা হতে পারে ২ দিনের কর্মসূচি

 সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় কর্মসূচি গণঅবস্থান আজ। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সব বিভাগীয় শহরে একযোগে ৪ ঘণ্টার এ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি এবং সমমনা ৫৩ রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। রাজধানী ঢাকায় ৭ স্থানে গণঅবস্থান করবে সরকারবিরোধী এসব দল ও সংগঠন। গণঅবস্থান কর্মসূচি থেকে বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে ১৬ জানুয়ারি এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল গঠনের দিন ২৫ জানুয়ারি কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ছিল গণমিছিল। বিএনপিসহ গণমিছিল কর্মসূচি পালন করে সাত দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১২ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জামায়াতে ইসলামী ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ। এসব দল ও জোটের পাশাপাশি এবার গণঅবস্থান কর্মসূচিতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে চারদলীয় জোট বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য, মোস্তফা মহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম এবং ইয়ুথ ফোরাম, জিয়া নাগরিক সংসদ, বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি, জাতীয়তাবাদী চালকদলসহ ১৫টি সংগঠন।

রাজধানীতে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সাতটি স্পটে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গণঅবস্থান করবে বিএনপি। একই সময়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅবস্থান করবে সাতদলীয় গণতন্ত্র মঞ্চ, পূর্ব পান্থপথের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ১২ দলীয় জোট, পুরানা পল্টন মোড়ে ১২ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে (পূর্ব প্রান্তে) চারদলীয় বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য এবং আরামবাগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মোস্তফা মহসীন মন্টু নেতৃত্বাধীন গণফোরাম।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘মামলা-হামলা ও আদালতের রায়ের মাধ্যমে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার। কিন্তু মানুষ সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছে। এর চূড়ান্ত পরিণতি না দেখে তারা ঘরে ফিরবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার পতনসহ আমরা ১০ দফা দাবি দিয়েছি। তাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থন দিয়ে রাজপথে পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও চায় এ সরকারের পতন। সে লক্ষ্যে তারা আমাদের কর্মসূচিতে অংশও নিচ্ছে। আশা করি, গণঅবস্থান কর্মসূচিতেও সবাই অংশ নেবে।’

নয়াপল্টনে গণঅবস্থানের অনুমতির জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যান বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৈঠক শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, ‘আমরা ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সফল আলোচনা করেছি। বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচি করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর বাধা নেই। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফকিরাপুল থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত হবে এ কর্মসূচি।’

ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা অনুমতি চেয়েছেন তাদের আমরা বলেছি-ফুটপাতে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। বুধবার (আজ) একটি অফিসিয়াল ডে (কর্মদিবস)। লাখ লাখ লোক অফিসে যাতায়াত করবেন। তাই তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি, রাস্তা বন্ধ করে যেন জনগণের দুর্ভোগ না হয়, গাড়ি বন্ধ না হয়। সেই শর্তে তাদের অনুমতি দিয়েছি। আশা করি তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। তাহলে আমাদের তরফ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সহযোগিতা পাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমি বলেছি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। যদি কোনো দল যান চলাচল স্বাভাবিক না রাখতে পারে, তাহলে দায়-দায়িত্ব তারা বহন করবেন।’

এদিকে ঢাকাসহ দশ বিভাগীয় শহরের গণঅবস্থান কর্মসূচি সফল করতে আন্দোলনের মূল দল বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। বিভাগভিত্তিক টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলা, মহানগর ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ করতে নানা দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ৪ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ দিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দশ বিভাগীয় গণঅবস্থান কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিট গণসংযোগ, কর্মিসভা, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। পাশাপাশি মঙ্গলবার পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা সম্পর্কে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তুলে ধরতে জেলা ও মহানগরে সিনিয়র নেতারা আলোচনা সভা করেন।

এদিকে বিএনপির ঢাকা বিভাগের (নয়াপল্টন) গণঅবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা আব্বাস। সিলেটে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রাজশাহীতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ময়মনসিংহে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

চট্টগ্রামে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরিশালে স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, রংপুরে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কুমিল্লায় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। খুলনায় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও ফরিদপুরে ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান। এছাড়াও কেন্দ্র গঠিত সমন্বয় টিমের দল নেতা, সমন্বয়কারী, সমন্বয় সহযোগীসহ বিভাগের অন্তর্গত জেলাগুলোর অধিবাসী কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম

মহাসচিব, সম্পাদক, সদস্য, জেলা, উপজেলা ও মহানগরসহ অন্যান্য নেতারা নিজ নিজ বিভাগীয় সদরের কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

৩০ ডিসেম্বর যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি গণমিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ওইদিন গণঅবস্থানের একই কর্মসূচি ঘোষণা করে সমমনা দলগুলোও।

সর্বশেষ