শীতের ভরা মৌসুমেও সবজির দাম চড়া

 

রাজধানীতে শীতের সবজির ভরপুর থাকায় দামও অনেক কম ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। বাজারে আমন ধানের নতুন চাল আসায় চালের দামও কিছুটা কমেছে। এতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চালের দাম কমতে থাকে। নতুন বছরের জানুয়ারিতেও দাম কমার এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে সেটা স্বস্তির পর্যায়ে পৌঁছেনি। বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ার পরও কেজিতে দাম কমছে মাত্র দু-তিন টাকা। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে চালের বাজার এখনো অনেক চড়া। তবে নতুন করে বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। অন্যদিকে এখনো কাটেনি চিনির সংকট। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে চিনির সংকট। পাইকারি বাজারে পাওয়া গেলেও কিনতে হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা চিনির কেজি ১০২ এবং মোড়কজাত চিনির কেজি ১০৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপরও বেশিরভাগ জায়গায় চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে। একই দরে বিত্রিক্র হচ্ছে খোলা চিনিও। তবে এর চেয়ে অনেক বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে আখের লাল চিনি। মোড়কজাত এ ধরনের চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা। বাজারে এখন এক কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে। যা সপ্তাহখানেক আগে ৮০ টাকা ছিল।
রাজধানীর কলতাবাজারের মরিচ বিক্রেতা সাদ্দাম বলেন, পাইকারিতে ১০ থেক ১৫ দিন ধরে কাঁচা মরিচের দাম বাড়ছে। সরবরাহ কম সেজন্য দাম উঠছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়তি।
তবে আমন ধান উঠায় মোটা চালের দাম আরও কেজিতে দুই-তিন টাকা করে কমেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরেই চালের দাম নি¤œমুখী। এখন বাজারে গুটি স্বর্ণা জাতের চালের কেজি ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। মাঝারি আকারের চালের দামও কমেছে এক থেকে দুই টাকা করে। পায়জাম ও বিআর-২৮ জাতের চাল মাঝারি আকারের চালের কেজি কেনা যাবে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে। মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। মিনিকেট চাল এখন ৬৮ থেকে ৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
লক্ষিবাজারের চাল ব্যবসায়ী আলী বলেন, আমাদের বেশিরভাগ মিনিকেট চালের ক্রেতা এখন বিআর-২৮ জাতের চাল কিনছেন। খরচ কমানোর জন্যই চালের কেনার ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছেন ক্রেতারা।
এদিকে শীত মৌসুমের বেশিরভাগ সবিজির দাম কমেছে। দু-তিনটি ছাড়া বেশিরভাগ সবজির দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে সিম, শালগম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেপে, মুলা ও নতুন আলু কেনা যাচ্ছে এ দামে। অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে।
এছাড়া আগের মতোই ডিম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির কেজি ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। প্রতি কেজি ৭০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম।
এছাড়া প্যাকেট আটায় ৫ টাকা কমে প্রতি কেজি ৭০ টাকায়। খোলা আটা ৫ টাকা কমে কেনা যাচ্ছে ৬৫ টাকায়, ভোজ্যতেল বাড়তি দাম বিক্রি হচ্ছে। নতুন দামে এক লিটারের বোতল সয়াবিন তেল ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ লিটারের বোতল সয়াবিন তেলের নতুন দাম ৯২৫ টাকা। খোলা সয়াবিন দামে প্রতি লিটার ১৭২ টাকা।
সবজির মতো মাছের দামও কিছুটা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৫০-১৬০ টাকা, রুই ২২০ টাকা ৩২০টাকা, পাঙাশ ১৪০-১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১২০-১৫০ টাকা, শিং মাছ আকার ভেদে ৩০০-৪০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৫০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছ কেজি বড় আকাড়ে ১৫০০ টাকা মাঝারি ১২০০ টাকা ছোট ৪০০-৬০০ টাকা। বাড়তি দামের থেকে তুলনামূলক কম প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমায় খুশি নন রাজধানীর সান্তিনগরে বাজারে আসা বেসরকারি কোম্পানির চাকরিজীবী সুমন বলেন। সবজি দাম কমায় কিছু যায় আসে না। যে চাল-ডাল-তেল বেশি লাগে সেগুলোর তো আগুন দাম। যেটা কমেছে, সেগুলো আর কত লাগে।

সর্বশেষ