বড় শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির সমমনাদের নিয়ে কাল রাজধানীতে প্রথম গণমিছিল

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা, আতঙ্ক

 

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ ১০ দফা দাবিতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে কাল ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীতে প্রথম গণমিছিল করবে বিএনপি। এই গণমিছিলের মাধ্যমে রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ জন্য সমমনা দলগুলোর সঙ্গে চলছে বিএনপির দফায় দফায় বৈঠক। গঠন করা হচ্ছে লিয়াজোঁ কমিটি। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিল শুরু হবে। এরপর কাকরাইল মোড়, শান্তিনগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার হয়ে বাংলামোটর গিয়ে শেষ হবে মিছিল। বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত গণমিছিল হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে চাপে রেখে প্রধানত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় করতে চায় বিএনপি।

সমমনা-১২ দলীয় জোট, ১১-দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ৭-দলীয় জোটের গণতন্ত্র মঞ্চ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই কর্মসূচি সফল করার ঘোষণাও দিয়েছে। এর বাইরে জামায়াতে ইসলামী ও এলডিপি ঘোষণা দিয়েছে এককভাবে রাজপথে থাকার। সব দল মাঠে নামার প্রস্তুতি নেওয়ায় ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীতে গণমিছিলকে কেন্দ্র করে বড় শোডাউনেরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

জানতে চাইলে ১২-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ৩০ ডিসেম্বর ১২-দলীয় জোট রাজধানীতে পৃথকভাবে গণমিছিল করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের যাত্রা শুরু হচ্ছে। আশা করি যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির মুক্তির বিজয়ের নিশান উড়বে। ইতিহাস সাক্ষী যুগপৎ আন্দোলনের ফল জনগণের পক্ষে আসে।’গণতন্ত্র মঞ্চের সদস্য ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘দেশে আজ গণতন্ত্র নেই, মানুষের কথা বলার অধিকার নেই, ভোটাধিকার নেই। তাই এদের ক্ষমতায় থাকারও কোনো অধিকার নেই। আমাদের দাবি, দ্রুত ক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’ ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, পুরানা পল্টন থেকে মিছিল নিয়ে তারা মালিবাগ যাবেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে ১০ দফা আদায়ে মাঠে থাকবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট।

জানা গেছে, বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ গ্রেফতার নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিসহ ১০ দফা বাস্তবায়নে এ গণমিছিল কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশে এককভাবে বড় শোডাউনের পর এবার যুগপৎভাবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ৩০ ডিসেম্বরকে কয়েক বছর ধরে ‘কালো দিবস’ পালন করে আসছে বিএনপি। এবার ওই দিন গণমিছিল থাকায় দিবসটি আলাদা গুরুত্ব বহন করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিলে রাজধানীতে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিএনপির থানা ও ওয়ার্ড নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর ঢাকার বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে সরকার পতনে ১০ দফা ও ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ওই দিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন থাকায় ঢাকার কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে রংপুরেও তা স্থগিত করে ঢাকার সঙ্গে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৩০ ডিসেম্বরের গণমিছিল থেকে পরবর্তী ঘোষণা আসবে বলে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। গণমিছিল সফল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিএনপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে। গণমিছিল বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিক প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘২৪ ডিসেম্বর পুলিশ সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দিয়েছে। পঞ্চগড়ে বিএনপির আবদুর রশিদকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবু কিন্তু গণমিছিল ঠেকাতে পারেনি। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায়ও গণমিছিল সফল হবে। সফলতা দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে জনগণ বিদায় করবে।’

সর্বশেষ