যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সাত স্পটে গণমিছিলের আত্মপ্রকাশ আরেকটি জোটের

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা, আতঙ্ক

 

বিএনপিসহ সমমনা দল ও জোটের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন, শিগগিরই বৈঠক * কর্মসূচি সফলে দফায় দফায় বৈঠক *  আত্মপ্রকাশ আরেকটি জোটের

 সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী শুক্রবার ফের মাঠে নামছে যুগপৎ আন্দোলনে শরিক রাজনৈতিক দলগুলো। এদিন ঢাকা ও রংপুরে গণমিছিল করবে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। বড় ধরনের জমায়েত করে গণমিছিল সফলে দফায় দফায় বৈঠক করছেন নেতারা। রাজধানীর ৭টি স্পট থেকে বের করা হবে গণমিছিল। এদিকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও তা সমন্বয়ে বিএনপিসহ সব দল ও জোট আলাদাভাবে গঠন করেছে লিয়াজোঁ কমিটি। দু-একদিনের মধ্যে তাদের বৈঠক হওয়ার কথাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সোমবারের বৈঠকেও ৩০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল ওই বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিল করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে লিয়াজোঁ কমিটি নিয়ে কথা বলেন নেতারা। যুগপৎ আন্দোলনে কর্মসূচি নির্ধারণসহ নানা পরিকল্পনা ঠিক করতে বিএনপিসহ সব দল ও জোটের গঠন করা লিয়াজোঁ কমিটির একত্রে বৈঠকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। শুক্রবারের আগেই এ বৈঠক করার বিষয়ে একমত হন নেতারা। এছাড়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা ও রংপুর ছাড়া সব জেলা ও মহানগরে গণমিছিল কর্মসূচি সফলে স্থানীয় নেতাদের ধন্যবাদ জানানো হয়। পঞ্চগড়ে নিহত বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ আরেফিনের পরিবারের খোঁজ নেওয়ার জন্য এক সিনিয়র নেতার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোরও সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ২৪ ডিসেম্বর পুলিশ সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় বাধা দিয়েছে। পঞ্চগড়ে বিএনপির আবদুর রশিদকে গুলি করে হত্যা করেছে। তবুও কিন্তু গণমিছিল ঠেকাতে পারেনি। ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায়ও গণমিছিল সফল হবে। সফলতা দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এই সরকারকে জনগণ বিদায় করবে। বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ঢাকায় গণমিছিল নয়াপল্টন থেকে শুরু হবে। আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।

সূত্রমতে, আজ অথবা আগামীকাল গণমিছিলের অনুমতির জন্য বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠি দেবে। দলগুলোর নেতারা আশা করছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে না।

শুক্রবারের কর্মসূচিকে সফল করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপির পাশাপাশি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথকভাবে বৈঠক করছে। গণমিছিল যাতে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে হয় সে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর ৭টি স্পটে গণমিছিল করার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপিসহ অন্তত ৩০টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে বিএনপি নয়াপল্টনে, ১২ দলীয় জোট বিজয়নগরে, সাতদলীয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি-এলডিপি পূর্বপান্থপথ থেকে গণমিছিল বের করবে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা দুটি স্পটে মিছিল করবে। তবে কোন কোন স্পটে হবে তা এখনো চূড়ান্ত করেনি দলটি।

বিলুপ্ত ২০ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়ে ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ হয়েছে ১২ দলীয় জোট। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির নেতৃত্বে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্যজোট’ নামে আরও একটি জোটের আগামীকাল আত্মপ্রকাশ করার কথা রয়েছে। এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দল নিয়ে হবে এ জোট। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে। আমরা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকব। শুক্রবার রাজধানীর একটি স্পট থেকে গণমিছিল বের করব। স্পটের নাম সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হবে।

বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চসহ সব দলের লিয়াজোঁ কমিটি : রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের সমন্বয় সাত সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। কমিটির সদস্যরা হলেন-দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে থাকবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাই হচ্ছে লিয়াজোঁ কমিটির কাজ। অর্থাৎ কখন কী করা যায়, সুবিধা-অসুবিধা, কর্মসূচি কী হবে ইত্যাদি নির্ধারণ করা।

গণতন্ত্র মঞ্চও সাত সদস্যের লিয়াজোঁ কমিটির গঠন করেছে বলে জানান জোটের অন্যতম শরিক ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। কমিটির সদস্যরা হলেন-জেএসডির সভাপতি আসম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু ও গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর।

লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করেছে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি)। এতে দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদকে আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল আলমকে সদস্য সচিব করা হয়। সেই সঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল ও অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদকে করা হয়েছে সদস্য।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের যুগান্তরকে বলেন, লিয়াজোঁ কমিটি গঠনে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই থেকে তিন সদস্যের হতে পারে।

১২ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, মঙ্গলবার (আজ) তোপখানা রোডের শিশু-কিশোর মিলনায়তনে জোটের বৈঠক রয়েছে। সেখানে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এমনিতে তো ১২ দলের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ আছেই। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এর রূপ দেব।

সর্বশেষ