রংপুরের ভোটে নজর রাখবে ১৮০৭ সিসি ক্যামেরা!

রাত পোহালেই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আড়াই মাস আগে অনিয়মের অভিযোগে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতে রংপুরের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সতর্ক রয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে। অনিয়ম ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসহ সব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। এর পাশাপাশি দূর থেকে মনিটরিং করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে এক হাজার ৮০৭টি সিসি ক্যামেরা।

মঙ্গলবারের ভোট সিটি ক্যামেরার মাধ্যমে ঢাকায় বসে মনিটরিং করবে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে বলা হয়েছে, সিসিটিভিতে রসিক ভোটের কোনো অনিয়ম হলেই নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সিসিটিভির বিষয়টি জানিয়ে ইসির আইডিইএ প্রকল্পের ডিপিডি কমিউনিকেশন স্কোয়াড্রন লিডার মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ২২৯টি কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এক্ষেত্রে এক হাজার ৮০৭টি সিসি ক্যামেরা থাকবে।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উত্তরের এই সিটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণ নেওয়া হবে।

নির্বাচনে মেয়র পদে নয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, আওয়ামী লীগের হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) শফিয়ার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, জাকের পার্টির খোরশেদ আলম খোকন, বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর আবু রায়হান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান বনি ও লতিফুর রহমান মিলন।

তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বর্তমান মেয়র জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও আওয়ামী লীগের হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার মধ্যে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যুগ্ম সচিব এসএম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ভোট পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরায় ব্যবহার ছাড়া মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক্ষেত্রে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সমন্বয়ে সাধারণ কেন্দ্রে ১৫ জনের এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৮৬টি কেন্দ্রে ১৬ জনের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ করা হয়েছে ৪৯ জন। এদের মধ্যে নির্বাহী হাকিম ৩৩ জন ও বিচারিক হাকিম রয়েছেন ১৬ জন। তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সংক্ষিপ্ত বিচার কাজ সম্পন্ন করবেন। এদিকে র‌্যাব, বিজিবির একাধিক টিম ভোটার এলাকায় রয়েছে ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।

নির্বাচনে দুই লাখ ১২ হাজার ৩০২ জন পুরুষ এবং দুই লাখ ১৪ হাজার ১৬৭ জন নারী ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

সর্বশেষ