কে এই ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি এন্ড্রিক সুজা?

কে এই ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি এন্ড্রিক সুজা?

এন্ড্রিক সুজা! নামটার সাথে হয়তো অনেকে পরিচিত নেই তবে যারা ফুটবল ভালোবাসে তাদের বোধয় নামটি খুব পরিচিত। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত নাম এন্ড্রিক। মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের গতি ক্ষিপ্রতার সাথে স্কিল আর ড্রিবলিং দিয়ে ইতিমধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন ফুটবল প্রেমীদের মনে। শুধু তাই নয় এন্ড্রিকের খেলার ধরণ দেখে এই তরুণ তুর্কিকে ইতিমধ্যে দলে ভিড়িয়েছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তবে তাকে দলে পেতে রিয়ালকে লড়াই করতে হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা, ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড (ম্যান ইউ), ম্যানচেস্টার সিটি (ম্যান সিটি) কিংবা লিভারপুলের মতো বড় ক্লাবগুলোর সাথে…তবে কে এই এন্ড্রিক? কিভাবে উঠে এলো ফুটবল জগতে? কে বা করেছিলো সাহায্য? কাকে অনুসরণ করে ফুটবল জগতে পা এই তরুণ এই বিস্ময় বালকের? এন্ড্রিক সুজার সম্পূর্ণ জীবনী তুলে ধরেছেন আকাশ দাশের লিখিত প্রতিবেদনে… এন্ড্রিক সুজা! পুরো নাম এন্ড্রিক ফিলিপে মরেইরা ডি সুজা! মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের স্কিল আর গতি দিয়ে জাত চিনিয়েছেন ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়াতে জন্ম নেওয়া তরুণ এই তুর্কি। মাত্র চার বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি এই ফুটবলারের।

যেখানে তার শিক্ষা গুরু তার বাবা, ডগলাস সুসা যিনি ইউটিউবে নিজের ছেলের দুর্দান্ত গোলগুলি প্রকাশ করতেন এবং ব্রাজিলের বড় ক্লাবগুলির মধ্যে এন্ড্রিককে কিনতে আগ্রহী এমন দলের সন্ধান করেছিলেন। কারণ বেকার বাবাকে সাহায্য করতে এন্ড্রিক একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যদিও তার বাবা পরে ব্রাজিলের জনপ্রিয় ক্লাব পালমেইরাসের ক্লিনার হিসেবে চাকরি পেয়েছেন। এন্ড্রিক সাও পাওলোতে সাইন করার পর, তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে ব্রাজিলের ঘরোয়া পালমেইরাস যুব দলে যোগ দেন। মাত্র পাঁচ বছরে তিনি পালমেইরাস যুব দলটির হয়ে ১৬৯টি ম্যাচে ১৬৫গোল করেছেন। ম্যাচ প্রতি প্রায় একটি করে গোল আছে এই তরুণের। তিনি চলতি বছর কোপা সাও পাওলো ডি ফুটবল জুনিয়রে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেখানে তিনি সাতটি খেলায় সাতটি গোল করেছিলেন এবং পালমেইরাসকে তাদের প্রথম শিরোপা নিয়ে যাওয়ার পরে সমর্থকদের দ্বারা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। টুর্নামেন্টের পর, তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং প্রধান ইউরোপীয় ক্লাবগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

চলতি বছরের ৬ অক্টোবর তিনি প্রথমবারের মতো সকলের নজরে আসেন একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে পালমেইরাসের সিরি-এ তে কোরিটিবার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের বিকল্প হিসেবে ১৬ বছর, দুই মাস এবং ১৬ দিন বয়সে, তিনি পালমেইরাসের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছিলেন যেটা ছিলো তার অভিষেক ম্যাচ। এরপর তিনি তার প্রথম দুটি গোল করেন ২৫ অক্টোবর, অ্যাথলেটিকো পারানেন্সের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয়ে, ব্রাজিলের প্রথম বিভাগের ইতিহাসে টোনিনহো দে মাতোসের পরে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। এন্ড্রিকের নজরকাড়া পারফরম্যান্সে চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ঘোষণা করেছে যে তারা পালমেইরাস, এন্ড্রিক এবং তার পরিবারের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, কিন্তু ব্রাজিল ফুটবল ফেভারেশনের নিয়ম অনুযায়ী বয়স ১৮ না হলে বাইরের লিগে খেলতে পারবে না কোন ফুটবলার। ফলে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এন্ড্রিক তার আইনি বয়সে পৌঁছানোর পরে তালিকাভুক্ত হবে রিয়াল মাদ্রিদ দলে। তো বন্ধুরা ঘরোয়া লিগে দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা এই তরুণ ফুটবলারকে ইতিমধ্যেই তুলনা করা হচ্ছে অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারের সাথে এমনকি বা-পায়ের দুর্দান্ত শটের কারণে অনেকে তাকে কিংবদন্তি ব্রাজিলের স্ট্রাইকার রোনালদো এবং রোমারিওর সাথে তুলনা করেছেন। তবে যখন এন্ড্রিককে একটি সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয় তার খেলার ধরণ সম্পর্কে বলতে, তখন উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমি সবসময় লড়াই করব।

আমি অবিচল থাকব এবং খেলায় শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করব। আমি কখনই হাল ছাড়ি না, আমি ডিফেন্ডারদের চাপ দিই, আমি পিচে অন্য কারও চেয়ে বেশি রান করি”। নিজের আর্দশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই ফুটবলার বলেন তার আদর্শ রোনালদো। যদি এন্ড্রিক এখন থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর নিজের গতির সাথে স্কিল ধরে রাখতে পারে তাহলে আগামী ২০২৬ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের সবচেয়ে আলোচিত নাম হতে পারে তিনি। দেখা যেতে পারে ভিনিসিয়র-নেইমার আর অ্যান্থনির সাথে এন্ড্রিকের পারফরম্যান্সটা।

সর্বশেষ