বিএনপি ৩০০ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন চূড়ান্ত করছে ৩৬ দল নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা, আতঙ্ক

তলে তলে ভোটের প্রস্তুতি
মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সারা দেশে ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রার্থী বাছাই কাজও শুরু করেছে দলটি। ২০১৮ সালের মতো এবার আর একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেবে না বিএনপি। চূড়ান্ত প্রার্থীর হাতেই মনোনয়নপত্র দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ চলছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় হওয়া না হওয়ার ওপর। বিএনপির ঘোষণা অনুসারে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে দলটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না। অন্যদিকে ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণমিছিল করার মাধ্যমে যুগপৎ কর্মসূচি শুরু করবে বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপির বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এসব তথ্য দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি শুধু বিএনপিরই নয়। এটা এখন দেশবাসীর দাবি। সব গণতান্ত্রিক দল ও সংগঠনের দাবি। আর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময়ই নির্বাচন তথা মানুষের ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। সেই ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই দলটি জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার আজকে প্রতিষ্ঠিত হলে বিএনপি কালকেই নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত।
ভোটের প্রস্তুতি : জানা গেছে, সর্বোচ্চ ফোরামের সিদ্ধান্ত অনুসারে দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি দুটোই একসঙ্গে চালাচ্ছে দলটি। আন্দোলনের পাশাপাশি ভিতরে ভিতরে পুরোদমেই চলছে ভোটের প্রস্তুতি, যাতে যে কোনো মুহূর্তে বিনা চাপে ভোটে অংশ নিতে পারে। এ জন্য ৩০০ আসনেই প্রাথমিক মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে গোপনে কাজ চলছে। নানা মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে প্রতি আসনে দুজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করছে হাইকমান্ড। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা ধরে দলীয় কর্মসূচি পালনসহ নানা ইস্যুতে নিজ নিজ এলাকায় থাকার মৌখিক নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচনী বড় ‘প্ল্যান’ নিয়েই এবার আটঘাট বেঁধে মাঠে নামছে বিএনপি। চূড়ান্ত করা হচ্ছে আগাম প্রস্তুতি। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে যুগপৎ আন্দোলন ও নির্বাচনোত্তর জবাবদিহিমূলক কর্মসূচির রূপরেখাও ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে দলটি। সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের হলরুমে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নির্দেশনা দেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘রাষ্ট্র রূপান্তরমূলক সংস্কার’ শিরোনামে ঘোষিত এই রূপরেখার মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা এবং টানা দুই মেয়াদের বেশি এসব পদে না থাকা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রচলন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সব মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন ‘রেইনবো নেশন’ প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় সমঝোতা কমিশন গঠন, বিতর্কিত সংশোধনী বাতিলে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন ও নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনাসহ নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিএনপি যে কোনো মুহূর্তেই প্রস্তুত আছে। আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে- আমাদের আস্থা হলো জনগণের ওপর। বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে ইনশা আল্লাহ।

যুগপৎ-এ চার প্ল্যাটফরমে সক্রিয় ৩৬ দল : বিএনপির আহ্বানে ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন। সেদিন বিএনপি ছাড়াও আরও ৩৬টি রাজনৈতিক দল যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থাকবে। তারা চারটি প্ল্যাটফরমে আলাদা মোর্চা গঠন করে বিএনপির সঙ্গে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। মোর্চাগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এই সাতটি সমমনা দল নিয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। অন্যদিকে ১২টি দলের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয়তাবাদী ঐক্যজোট’। এ ছাড়া জোটের বাইরে থাকা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ৩০ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎভাবে গণমিছিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার  বলেন, আমরা বিএনপির দেওয়া কর্মসূচিগুলো অভিন্নভাবে আলাদা প্ল্যাটফরমে পালন করব। এগুলো দেশে নতুন কিছু নয়। আমরা ১২টি দল এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ঐকমত্য পোষণ করেছি। জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু  বলেন, আমাদের প্রধান দাবি আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। এই দাবি আদায় হলে বিএনপি সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমরা ২৭ দফা ঘোষণা করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যে ২৭ দফাকে দেশবাসী স্বাগত জানিয়েছে।

সর্বশেষ