এমবাপ্পে দ্যা ট্র্যাজিক হিরো

আকাশ দাশ/ক্রীড়া প্রতিবেদক সবাই স্বপ্ন দেখে আবার কেউ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে কারো স্বপ্ন পূরণ হয় আবার কারো বা রাতের দেখা সেই স্বপ্নটা স্বপ্ন হয়ে থেকে যায় আজীবন। প্রতিদিন রাত হয় তবে কিছু কিছু রাত হয় স্বপ্ন ভঙ্গের আবার কিছু রাত স্বপ্ন জয়ের। তবে স্বপ্ন জয় কিংবা স্বপ্নভঙ্গের রাত ক্যারিয়ারের উড়তি সময়ে দুইটি দেখেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে….. কিলিয়ান এমবাপ্পে! জাতীয় দলের হয়ে যখন অভিষেক ঘটেছিলো ততক্ষণে অবশ্য নিজের ক্ষপ্রিতা আর অসম্ভ গতির কারণে জায়গা করে নিয়েছিলেন বিশ্বফুটবলে। দলটির হয়ে খেলেছেন গোল করেছেন কতখনো দুর্দান্ত গতির জন্য ফুটবল প্রেমীদের মন কেড়েছেন। সর্বশেষ আর্জেন্টিনারের বিপক্ষে যখন নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে মাঠে নেমেছিলেন ঠিক তখনি কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে মাত্র তিন মিনিটের মাথায় এক ভয়ঙ্কর ঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন রক্ষণ।

খেলেছেন হ্যাট্রিক করেছেন হয়তো ট্র্যাজিক হিরো পদবিটা তাকে বেশি মানায়। লুসাইল স্টেডিয়ামে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে যখন ফ্রান্স মাঠে নেমেছিলো তখন ম্যাচের প্রথমার্ধেই অনেকেই হার মেনে নিয়েছিলো লরিস-এমবাপ্পেদের। প্রথমার্ধেই দুই আর্জেন্টাইন ফুটবলার নিকোলাস ওতামেন্দি আর ম্যাক অ্যালিস্টারের কড়া রক্ষণের কারণে এইদিন নিজের ছায়া হিসেবে মাঠে লড়েছিলেন এমবাপ্পে। তবে যত সময় গড়িয়েছে ততই যেন নিজেকে ফিরে পেয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। এর মাঝে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম দেম্বেলে আর জিরুদকে তুলে নিলে সবচেয়ে বেশী দায়িত্ব পড়ে এমবাপ্পের কাঁধে…. সেই দায়িত্ব নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের দ্বারা বাড়াতে থাকে ফ্রান্স। তবে কাঙ্খিত সাফল্য পেতে সময় লাগে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত। এমবাপ্পের পেনাল্টি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ফেরাতে ব্যর্থ হলে গোল পায় ফ্রান্স।

সেখান থেকে শুরু এবার আর এমবাপ্পেকে থামায় কে এর তিন মিনিট বাদে দুর্দান্ত আরেক শটে এমবাপ্পের বল জালে খুঁজে নিলে নিশ্চিত হারা ম্যাচটা ড্রয়ে পরিণত করে ফ্রান্স। তবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আবারো আর্জেন্টিনা গোল করলে এবার ও ফরাসিদের রক্ষণকর্তা তরুণ এমবাপ্পে গোল করে সমতায় ফিরিয়ে ম্যাচ নিয়ে যা য় ট্রাইব্রেকারে আর সেইখানে কপাল পুড়ে ফরাসিদের আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিনিয়ানো মার্টিনেসের দুর্দান্ত কিপিংয়ে ৪-২ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

এমবাপ্পে গোল করলেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় তীরে এসে তৈরি ডুবে গেছে ফ্রান্সের……… তাইতো ব্যালন ডি অর জয়ী সময়ে সেরা ফুটবলার করিম বেনজেমা মিডফিল্ডার পল পগবা, কন্তে কিংবা এনকোকুর মতো তারকা ফুটবলাররা বিশ্বকাপের আগেই ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়ে স্কোয়াডের বাহিরে থেকে দিয়েছিলেন ধাক্কা। তবুও এমন স্কোয়াড় নিয়ে ফাইনালে পা রাখা এমবাপ্পের জন্য ছিলো অবিশ্বাস্য। এক বিশ্বকাপে রোনালদো লিমার সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসালেন, ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওএফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ফাইনালে হ্যাট্রিক করলেন, জিতলেন গোল্ডেন বুটের পুরষ্কার টাও। এতোকিছুর পরেও বিশ্বকাপ জিততে পারেননি টাইব্রেকার ভাগ্যে। ভাগ্যের কাছে হেরে গেলেন কিন্তু ২৩ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ১২ গোলের মালিক এখন তিনি। হয়তো এখনো সময় আছে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কিংবা সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে নিজের নাম লেখার……..

সর্বশেষ