মাগুরা জেলাকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়-নবাগত জেলা প্রশাসক

হাসানুজ্জামান সুমন,বিশেষ-প্রতিনিধি: দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে বলেন, মাগুরা জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ,উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দুর্নীতি রূখতে মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সকালকে নির্দেশ দিবেন তিনি। গত বুধবার(১৪.১২.২২) একান্ত সাক্ষাতে তিনি বলেন। মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকদ্রব্য যাতে দেশের প্রাণশক্তি যুব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেয় সে দিকেও সকল কর্মকর্তাকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

আমার বিশ্বাস, সবার মেধা ও দক্ষতা জনকল্যাণের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে যথাযথ অবদান রাখবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশাত্মবোধ ও একাগ্রতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব। জেলা প্রশাসক বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্ক অতি গুরুত্বপূর্ণ। যারা মাঠ পর্যায়ে সরকারের বিভিন্নমুখী কার্যক্রমের সমন্বয় ও তত্ত্বাবধানকারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা সামগ্রিকভাবে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমি জনগণের সেবকমাত্র।

তাই জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করব। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সকল সেবা পৌঁছে দিব। জনগণকে সেবা দান কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য বা বদান্যতার বিষয় নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায়ই আমাদের সংসার চলে। তাই সেবা পাওয়াটা জনগণের অধিকার। দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব গ্রাম উন্নয়নের দিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, যা বিগত বছরগুলো থেকে আলাদা। শহরের ন্যায় গ্রামগুলোতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

মফস্বল এলাকাগুলোতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা, কৃষি নির্ভর শিল্পের প্রসার, চিকিৎসা সেবা, বিদ্যুৎ,পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে উপজেলা সদর ও আধুনিক শহর-উপশহর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগী হব। তিনি আরও বলেন, ভূমি রেকর্ডের সময় এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্রের সহযোগিতায় অনেক অনিয়ম করছে এবং অবৈধ সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে এছাড়াও পাসপোর্ট অফিস ও বিআরটিএ অফিস,এতে জনভোগান্তি বেড়েছে। তাই আমি এসব ব্যাপারে কঠোর হব। সরকার তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে, সরকারি তথ্য ও সেবা নাগরিকের জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জেলা ই-সার্ভিস সেন্টার, পৌর ডিজিটাল সেন্টার ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে। এ সেবা কেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সকলকে জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে এবং সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা আশা করছি।

সর্বশেষ