ভূয়া নির্বাহী সম্পাদক পরিচয় দানকারী ওবায়দুর ও তার ৩ সহযোগীর বিরুদ্ধে-জিডি

হাসানুজ্জামান সুমন,বিশেষ-প্রতিনিধি:
এবার খোদ জনতার বাংলার পক্ষে শঙ্কর রায় করলেন জিডি
দৈনিক জনতার বাংলা পত্রিকার স্বঘোষিত নির্বাহী সম্পাদক পল্লবী মিরপুর এলাকার কথিত সাংবাদিক চক্রের মূল হোতা চাঁদাবাজ সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান ফের গ্যাঁড়াকলে। তারসাথে এবার গ্যাঁড়াকলে পরেছেন তার অপর তিন সঙ্গী। এ নিয়ে এলাকায় বইছে নিন্দার ঝড়। সম্প্রতি ডিক্লেয়ারেশন স্থগিত হওয়া মিরপুর এলাকার পত্রিকা দৈনিক জনতার বাংলার নির্বাহী সম্পাদকের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে বৃহত্তর মিরপুর এলাকার সাত থানা এলাকায় ওবায়দুর গং বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কথিত ও চাঁদাবাজ নির্বাহী সম্পাদক শুধু নিজেই কার্ড গলায় ঝুলাননি।দল ভারি করার স্বার্থে একাধিক টাউট বাটপার, অস্ত্রমামলা ও ফেরারী আসামিদেরকেও তিনি ভূয়া কার্ড বানিয়ে দিয়ে তার কালেকশন টিমে নিয়ে যাবতীয় অপকর্ম অব্যহত রেখেছেন। এবার কথিত সাংবাদিক ওবায়দুর রহমানের সাথে যুক্ত থাকায় এবার কথিত সাংবাদিক হিসেবে মিরপুর এলাকায় সমালোচিত হলেন মনির হোসেন, আলতাফ হোসেন অমি সহ আরো একজন।
দৈনিক জনতার বাংলার প্রকাশক সম্পাদক সুমা রায় এর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সুমা রায়ের পিতা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শঙ্কর রায় গত ০২/১২/২০২২ তারিখে মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নং-১০১। জিডিতে শঙ্কর রায় উল্লেখ করেছেন যে, দৈনিক জনতার বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তাঁর কন্যা সুমা রায়, তিনি ঐ পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁদের জনতার বাংলা পত্রিকা ৩রা নভেম্বর ২০২২ ঢাকা জেলা প্রশাসক মো: শহীদুল ইসলাম এর দপ্তর থেকে প্রেরিত এক পত্রে পত্রিকাটি সরকার স্থগিত করেছে বলে জানান। শঙ্কর রায় তাঁর জিডিতে আরও উল্লেখ করেন যে, জনতার বাংলা স্থগিত হওয়ার পরও বিভিন্ন স্থান থেকে বিবাদীরা গোপনে জনতার বাংলা প্রিন্ট করে তাদের চাঁদাবাজী ও কালেকশন বাণিজ্য অব্যহত রেখেছে। একই সাথে ওবায়দুর গং গোপনে জনতার বাংলা অনলাইন চালু রেখে ভূয়া সংবাদ প্রচার করে সাধারণ মানুষকে ব্লাক মেইলিং করাসহ নানাবিধ অপকর্ম অব্যহত রেখে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শঙ্কর রায় আরও বলেছেন বারবার মোবাইলে ওবায়দুর, মনির, অমি ও জীবনদের সাথে কথা বলে অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকা না প্রকাশের অনুরোধ জানালেও তারা তা কর্ণপাত করেননি। এ কারণে তিনি যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নিতেও পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। পুলিশী সূত্র মতে ওবায়দুর গংদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রার্থনা করে মিরপুর মডেল থানা থেকে উক্ত জিডি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে কথিত সাংবাদিক ও সম্প্রতি স্থিগিত হওয়া দৈনিক জনতার বাংলার স্বঘোষিত নির্বাহী সম্পাদক কাজী ওবায়দুর রহমান ও তার তোলাবাজ টিমের ভূয়া সাংবাদিকদের নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর শুক্রবার মিডিয়া তালিকাভূক্ত জাতীয় দৈনিক খবরের আলো পত্রিকায় একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ছাপা হওয়ার পর ঐ চাঁদাবাজ চক্রের কথিত সাংবাদিকদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকেই আবার লোকাল থানায় সারেন্ডারের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা যায়।
এদিকে এই সংবাদ পাঠ করে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই আসেন খবরের আলো দপ্তরে, তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন যে, এই সিস্টেমবাজ কথিত সাংবাদিক ওবায়দুর এতটাই ধুরন্ধর যে, তারা শুধু চাঁদাবাজি বা ব্লাক মেইলিংয়েই সীমাবদ্ধ নেই। তারা মাদক ও কিশোর গ্যাং লালন, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি কার্ড, পাসপো্র্ট তৈরি করাতেও সিদ্ধহস্ত। সচেতন মহলের পক্ষে অপর এক ব্যক্তি বলেন, স্বার্থে আঘাত লাগলে এই ওবায়দুর গং যে কোনো ব্যক্তি এমন কি থানা পুলিশের বিরুদ্ধেও মানবন্ধন নামের নাটক সাজিয়ে যখন তখন অপদস্ত করতে পারে।এ কারণে মিরপুর পুলিশ বিভাগের অনেকেই এদের অকাম কূকাম দেখেও না দেখার ভান করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন। তিনি আরো বলেন, এরা টার্গেটকৃত মানুষকে ঘায়েল করতে মফস্বলের বিভিন্ন কোর্টে কাজের বুয়া, চাতালের মহিলা শ্রমিক ও দেহপসারিনী মার্কা বিতর্কীত মহিলাদের অপব্যবহার করে ভৈাতিক যৌন হয়রানি মতো মামলা দায়ের করেও সম্মানী মানুষজনকে নাজেহাল করে থাকে।
অপরদিকে আমাদের খবরেরর আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী টিমের নিবীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুরে একজন ডাকসাইটে নেতার বাসায় দেখা করে পত্রিকার নামে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন প্রার্থনাকালে গোপনে ভিডিও ধারণ করে। সেই ভিডিও ২০১৮ সালের ১৫ই ডিসেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ক্যাপশান লেখে, “একান্ত ঘরোয়া আলাপকালে আমাদের নিকটজন অমুক প্রতিমন্ত্রী” ভিডিওটি গোপনে ধারণ করার সময় কথিত সাংবাদিক ওবায়দুরের সিস্টেমবাজ স্ত্রী শামিমা আক্তারও সাথে ছিলেন। গোপনে ধারণকৃত এই ভিডিওর বিষয়টি অবহিত করতে খবরের আলোর আইটি বিভাগ থেকে ১৭ ডিসেম্বর বিকেল ৪ টা ৫২ মিনিট থেকে ৪টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে ৪বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় পরে ভিডিওর লিঙ্কটি এমপির ম্যাসেঞ্জারে ও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে খবরের আলোর ইনভেস্টিগেশন টিমের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি এই কথিত সাংবাদিক ওবায়দুর ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের মিডিয়া সেলের দায়িত্বরত এক নেতার ছত্রছায়ায় থাকার সুবাদে সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।
পাশাপাশি কথিত ও চাঁদাবাজ সাংবাদিক এবং কিশোরগ্যাং এর পরিচালক ও পরামর্শদাতা ওবায়দুর এবার খবরের আলো পত্রিকা হাউজে ও প্রধান সম্পাদক আমিরুজ্জামান(আমির) এবং তার পরিবারের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা, ভাড়াটে লোক দিয়ে মানববন্ধন করিয়ে সামাজিকভাবে অপদস্ত করার ব্যর্থ অপপ্রয়াস চালাতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এবং ওবায়দুরের নামে খবরের আলোয় সংবাদ প্রকাশের পর ওবায়দুরকে ত্যাগ করে চলে আসা এক ব্যক্তি এসব নীলনকশা ও জঘণ্য পরিকল্পনার কথা খবরের আলো পরিবারকে নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ