ঢাকাস্থ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাগণ কে সংবর্ধনা-ডিএমপি কমিশনার

ঢাকাস্থ বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাগণ কে সংবর্ধনা-ডিএমপি কমিশনার

হাসানুজ্জামান সুমন বিশেষ প্রতিনিধি
শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ‘মহান বিজয় দিবস ২০২২’ উপলক্ষে বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন,বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ইতিহাস সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন।
বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যে পুলিশের সূচনা ১৯৭১ সালে আপনারা করে দিয়েছিলেন ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন, জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। সেই পুলিশের সদস্য হিসেবে গর্ব করে বলতে পারি যে, ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আপনারা সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১-২০২২ পর্যন্ত ধরে রেখেছি।’
তিনি আরও বলেন, জাতির সব ক্রান্তিকালে ডিএমপি সর্বদা জাতির পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আপনারা যেভাবে একাত্তরে বুকের রক্ত বিলিয়ে দিয়ে যুদ্ধ করেছেন, আপনাদের পরবর্তী প্রজন্ম তারাও জাতির সব ক্রান্তিলগ্নে জাতির পাশে ছিল। ২০১২-১৩ সালে অগ্নিসন্ত্রাসীরা পুলিশকে পুড়িয়ে মেরেছিল। কিন্তু পুলিশ দমে যায়নি, মনোবল হারায়নি। ২০১৫-১৬ সালে জঙ্গিবাদের সময় অনেক পুলিশ সদস্য মারা গেছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধের যুদ্ধে আমরা হেরে যায়নি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধের যুদ্ধে পুলিশ জয়ী হয়েছে।
১৯৭১ সালে পুলিশ যেমন জীবন দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য, বিজয়ের জন্য যুদ্ধ করেছেন, আমরাও পরবর্তীতে বাঙালি জাতির জন্য সব সময় পাশে ছিলাম ও আছি। অগ্নিসন্ত্রাসীদের যেমন আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি, তেমন জঙ্গিবাদকেও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলতে চায়, বাংলাদেশ পুলিশ তা হতে দেবে না।
বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে কমিশনার বলেন, আপনারা এ বয়সেও লাঠি হাতে যুদ্ধের জন্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আমাদের সহকর্মীদের শরীরে টগবগে রক্ত, তারা কেন পারবে না? আপনাদের সাহসে এ তরুণ পুলিশ সদস্যরাই এ দেশকে সন্ত্রাস-জঙ্গিদের থেকে মুক্ত রাখবে ইনশাআল্লাহ।
সাহিত্যিক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ছোট-ছোট বাচ্চা আমাকে বলে- স্যার আমরা কেন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারলাম না। এখনকার প্রজন্ম নোবেল পাবে, বিশ্ব রেকর্ড করবে, ওয়ার্ল্ড কাপ খেলবে কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা হতে পারবে না। যারা ১৯৭১ দেখেনি, তারা কল্পনাও করতেও পারবে না।
তিনি বলেন, আমার একজন আমেরিকান বন্ধু ছিলেন। তিনি সেই সময় বলেছিলেন- তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে মেয়েদের রেপ করা হয়েছিল, যারা শহীদ হয়েছিলেন, একটা সময় এসব অনেকে বিশ্বাস করবে না। এখন এসে দেখছি, আমার বন্ধুর কথা ঠিক। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আমার বন্ধুরা যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মারা গেছেন, তারা অন্তত শান্তিতে দেখতে পারছেন রাজাকারদের শাস্তি হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা তোমাদের (নতুন প্রজন্ম) হাতে একটি স্বাধীন দেশের পতাকা দিয়ে গেছেন। এটি রক্ষা করবে।
সাবেক পুলিশ সুপার বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের যে কৃতিত্বময় গৌরবগাথা তা স্মরণ করতে হবে। এ কৃতিত্ব সৃষ্টি করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যেসব কুলাঙ্গাররা জাতির পিতাকে বিশ্বাস করতে চায় না, যারা বলে এ দেশ বাঙালিদের নয়; তাদের এ দেশে থাকার অধিকার নেই। তাদের দেশ থেকে উৎখাত করতে হবে।
সাবেক পুলিশ সুপার বীর বিক্রম মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের যে কৃতিত্বময় গৌরবগাথা তা স্মরণ করতে হবে। এ কৃতিত্ব সৃষ্টি করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যেসব কুলাঙ্গাররা জাতির পিতাকে বিশ্বাস করতে চায় না, যারা বলে এ দেশ বাঙালিদের নয়; তাদের এ দেশে থাকার অধিকার নেই। তাদের দেশ থেকে উৎখাত করতে হবে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন,সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা,পুলিশ সদস্যবৃন্দ বীর মুক্তিযোদ্ধা,তারা সেই সময়কার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরো বেশি বেশি জানানোর আহ্বান জানান। এরপর ডিএমপি কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেয় দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ