মাসা আমিনির মৃত্যুর জের তেহরানেই ৪০০ বিক্ষোভকারীর কারাদণ্ড

 

বিক্ষোভ যাতে ছড়াতে না পারে, এ জন্য দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি ভিন্নমত দমনে আদালতের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তা প্রচার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

গত সোমবার ইরানের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাশহাদ শহরে ২৩ বছর বয়সী মাজিদ রেজা রাহনাভার্দের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যকে ছুরিকাঘাত ও হত্যার ঘটনায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাজিদ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বাসিজের দুই সদস্যকে হত্যা এবং চারজনকে আহত করেছেন। রেভল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাসিজ বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানে চলমান ধরপাকড় অভিযানের সম্মুখসারিতে আছে।

ইরানে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় গত বৃহস্পতিবার। তখন মহসেন সেকারি নামের একজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তেহরানে এক নিরাপত্তাকর্মীকে ছুরিকাঘাত ও রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করার অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ইরান সরকার ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়ে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক ডেপুটি ডিরেক্টর ডায়ানা এলতাহাওয়ি বলেছেন, তরুণ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তাঁদের মধ্যে ভীতি ছড়ানো এবং বিক্ষোভ দমনের একটি হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যামনেস্টি বলছে, ইরানে বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে আরও ২০ জনের মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন, যে হারে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে, তাতে দেশটিতে গণহত্যার গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ