ঢাকার সড়ক প্রায় ফাঁকা, গণপরিবহন নেই

ঢাকার সড়ক প্রায় ফাঁকা, গণপরিবহন নেই

 

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো ঘুরে চোখে পড়েছে, পুলিশের টহল ও তল্লাশি চৌকি। রাজধানীর প্রবেশমুখেও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছে যাত্রীসাধারণ। দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিল সীমিত। গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনাল অনেকটা ফাঁকা ছিল। গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে দূরপাল্লার বাস ছেড়েছে হাতে গোনা। ওই অঞ্চল থেকেও রাজধানীতে বাস এসেছে কম।

অন্যদিকে গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত সদরঘাট থেকে কিছু লঞ্চ ছেড়ে গেলেও কোনো লঞ্চ ঘাটে ভেড়েনি। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

 

ঢাকার সড়ক প্রায় ফাঁকা, গণপরিবহন নেই

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে গতকাল গণপরিবহন প্রায় ছিলই না। দুপুরে মহাখালী এলাকা থেকে তোলা।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজধানীতে প্রবেশে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সড়কে। ছুটির দিন হিসেবে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকে। রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সড়কে তদারকি জোরদার করায় গতকাল আরেকটু বেশি ফাঁকা ছিল।

 

kalerkantho

 

রাজধানীর সঙ্গে লঞ্চ ও বাস চলাচল সীমিত থাকলেও মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যান চলাচল বন্ধের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে একাধিক মালিক জানিয়েছেন, বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে। আর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ঝুঁকিও রয়েছে। এ কারণে মালিকরা যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান  বলেন, ‘বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। ১৯১৪-১৫ সালের আগুন সন্ত্রাস শ্রমিক-মালিকরা ভুলে যাননি। ওই সময় বহু গাড়ি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শ্রমিকদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এগুলো মন থেকে দূর হয়ে যায়নি। আবার গত বৃহস্পতিবার পুলিশের ওপর আক্রমণ হয়েছে। সব কিছু বিবেচনা করে মালিকরা শুক্রবার (গতকাল) সড়কে তেমন বাস নামাননি। এখন সমাবেশ যেহেতু গোলাপবাগ হবে, তাই শনিবার (আজ) সড়কে আরো বেশি বাস নামানো হবে। ’

রাজধানীর সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল সীমিত কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো মালিক যদি তাঁর সম্পদ রক্ষায় সড়কে বাস না নামান, তাহলে তো আমরা জোর করতে পারি না। ভয় থেকে মানুষ রাজধানীতে আসতে চাচ্ছে না। ফলে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বাস চালালে তেলের খরচও উঠছে না। সে জন্য বাস চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ’

রাজধানীর সড়কের এ চিত্র সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রধান মো. মুনিবুর রহমান  বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শনিবারের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে চেকপোস্টগুলো বসানো হয়েছে। ’

কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বলছে, রংপুর থেকে আন্ত জেলা ও ঢাকাগামী বাস চলাচল কোনো ঘোষণা ছাড়াই গতকাল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীসাধারণ।

গতকাল সকালে রংপুর নগরের কামারপাড়ার ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সব বাসের টিকিট কাউন্টার খোলা। তবে কাউন্টার ম্যানেজাররা বলছেন, যাত্রীস্বল্পতার কারণে তাঁরা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গতকাল যান চলাচল ছিল সীমিত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঢাকামুখী যানবাহনে তল্লাশি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ আবদুল্লাপুর দিয়ে তল্লাশি ছাড়া দূরপাল্লার কোনো বাস প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ পথচারীদেরও তল্লাশি করা হয়েছে।

টঙ্গী-নরসিংদী পথে উত্তরা পরিবহনের ৪২টি বাস চলাচল করলেও গতকাল চলেছে মাত্র চারটি। একই অবস্থা এই পথে চলাচলকারী অন্য বাসগুলোরও।

সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নড়াইল, মেহেরপুর, বগুড়া থেকেও গতকাল রাজধানীতে বাস আসেনি। মালিকরা বলছেন, যাত্রীস্বল্পতার কথা। নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইল দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশপথের শতাধিক জায়গায় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে।

তবে গতকাল দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ছিল স্বাভাবিক। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। অন্যদিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে লঞ্চ।

এদিকে বরিশাল, বরগুনা ও পটুয়াখালী থেকে রাজধানীর উদ্দেশে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুরসহ পাঁচটি রুটে গতকাল লঞ্চ ও নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। মালিকরা জানান, কারো চাপে নয়, যাত্রী না থাকায় তাঁরা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

 

সর্বশেষ