ইসির ডাকে সাড়া দেয়নি ১৬ দল  সময় চেয়েছে বিএনপিসহ চার দল

 

নির্বাচন কমিশনের ডাকে সাড়া দেয়নি নিবন্ধিত ১৬টি রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত ৩৯ রাজনৈতিক দলের কাছে নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালনের বিষয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। সেই তথ্য দেওয়ার সময় গতকাল শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাপাসহ ১৯টি দল জবাব দিয়েছে। আর জবাব দেওয়ার জন্য বিএনপিসহ চারটি দল সময় চেয়েছে। আওয়ামী লীগসহ ১৬টি দল গতকাল বিকাল পর্যন্ত ইসির কাছে কোনো তথ্য দেয়নি। এদিকে কোনো দল শর্ত প্রতিপালন না করলে কমিশন চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। অতীতে নিবন্ধন শর্ত ভঙ্গ করার কারণে দলের নিবন্ধনও বাতিল করেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি।

ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, নিবন্ধিত ৩৯ দলের চিঠিতে দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে অফিস; নির্বাচিত কমিটি ও সব স্তরে ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না তার হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছিল। ৩০ কার্যদিবস অর্থাৎ ২৪ নভেম্বরের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ইসির এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ ১৬টি দল জবাব দেয়নি। জবাব দেওয়ার জন্য ৩১ ডিসেম্বর সময় চেয়ে আবেদন করেছে বিএনপি এবং আরও তিনটি দল ইসির কাছে সময় চেয়েছে।

ইসির জবাব দেওয়ার দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামী এক্যজোট (আইওজে), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, মুক্তিজোট, গণফোরাম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি জেপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। 

সময় চেয়েছে যে চার দল : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেস। ২০০৮ সাল থেকে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে দলের নিবন্ধন প্রথা চালুর পর ৪৪টি দল নিবন্ধন পায়। এর মধ্যে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় বর্তমানে নিবন্ধিত রয়েছে ৩৯টি দল। শর্তসাপেক্ষে নিবন্ধন পেলেও স্থায়ী সংশোধিত গঠনতন্ত্র দিতে না পারায় ২০০৯ সালে ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয়। দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালত অবৈধ ঘোষণা করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন বাতিলের গেজেট প্রকাশ করে ইসি; তাতে বলা হয়, আদালত জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করায় আরপিও অনুযায়ী দলটির নিবন্ধন বাতিল করা হলো। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নিবন্ধন শর্ত প্রতিপালন না করায় ২০১৮ সালে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন এবং ভোটের পরে ২০২০ সালে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিডিপি, ২০২১ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার নিবন্ধন বাতিল করে ইসি।

সর্বশেষ