জঙ্গি ছিনতাইয়ে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি শনাক্ত: সিটিটিসি

রাজধানীর আদালতপাড়ায় দিনে-দুপুরে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি আসামিকে ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তির নাম জানতে পেরেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তবে আপাতত তদন্তের স্বার্থে তার এবং সহযোগীদের নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসির ইউনিট প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।

সিটিটিসির কর্মকর্তা বলেন, নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তির নাম আমরা জেনেছি। তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সহযোগী বেশ কয়েকজনকেও শনাক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা কীভাবে হয়েছে তাও আমরা গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আপাতত তদন্তের স্বার্থে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করছি না।

আসাদুজ্জামান বলেন, জঙ্গিরা যাতে সীমান্ত পাড়ি দিতে না পারে, তারা যাতে কোনোভাবে বের হতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে কোনোভাবে আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁক গলে বের হয়ে যেতে না পারে। দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকালের জঙ্গি ছিনতাই অপারেশনে নতুন জঙ্গি সংগঠনের কোনো হাত নেই। তবে নতুন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে আনসার আল ইসলাম, জেএমবি, নিউ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোক নিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ আমরা পেয়েছি। তবে এই ঘটনায় তাদের হাত নেই। গতকালের অপারেশনে জড়িত কমপক্ষে ১০/১২ জন আনসার আল ইসলামের সদস্য।

আসাদুজ্জামান বলেন, আলোচিত এই ঘটনায় জঙ্গি মেজর (বরখাস্ত) জিয়া নেতৃত্ব দেননি, তিনি মাস্টারমাইন্ড। তবে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন তাকে আমরা শনাক্ত করেছি। নামটা আপাতত বলতে চাচ্ছি না।

রাজধানীর মোহাম্মাদপুর থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গতকাল রোববার (২০ নভেম্বর) আসামিদের হাজিরা ছিল। দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রধান ফটকের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে করে এসে দুই আসামিকে ফিল্মি স্টাইলে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে হাজিরা শেষে হাজতখানায় নেওয়ার সময় চার আসামির মধ্যে দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। এসময় পুলিশের এক সদস্য আহত হন।

ছিনিয়ে নেওয়া দুই আসামি হচ্ছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুরের মইনুল হাসান শামীম ও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেটশ্বর গ্রামের আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব।

পুলিশ ইতোমধ্যে তাদের ধরতে সারাদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। সীমান্ত এলাকায় আরোপ করা হয়েছে বাড়তি নজরদারি। ঢাকাসহ সারাদেশে চেকপোস্ট বসিয়ে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে দোষ পাওয়ায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিরা নজরদারিতে রয়েছে, যেকোনো সময় তারা গ্রেফতার হতে পারে।

সর্বশেষ