রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মানববন্ধব ও বানোয়াট সংবাদের প্রতিবাদে: জাজিরার ডা. মোসলেম উদ্দিন খান কলেজের প্রেস ব্রিফিং

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার ডা. মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আলীম বেপারী ও অধ্যক্ষ মো.দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের লক্ষ্যে মিথ্যা ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ নভেম্বর তারিখের সাজানো মানববন্ধব এবং নানান মাধ্যমে প্রকাশিত বানোয়াট সংবাদের প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট কলেজের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে কলেজের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আলীম বেপারীর শরীয়তপুরের জাজিরার জয়নগরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিং এ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবদেন সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আলীম বেপারী ও অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে আয়োজিত ঐ মানববন্ধন কলেজের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আলীম বেপারী’কে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে এবং অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন এর সামাজিক ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বিশেষ করে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আলীম বেপারী দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে সুপরিচিত। মহামারী করোনাকালীন সময়েও সে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে তিনি সর্বমহলের সুনজর কেড়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা অবান্তর এবং হাস্যকর। একটি কুচক্রীমহল তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ঐ উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যে, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করার জন্য উৎসাহী করেছে।
অপর দিকে কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন সুদীর্ঘ ২৬ বছর যাবৎ যথারীতি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই দীর্ঘ চাকুরীজীবনে তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বহেরাতলা আদর্শ কলেজের বিতর্কিত অধ্যক্ষ জনৈক মোস্তফিজুর রহমান শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার ডাঃ মোসলেম উদ্দিন খান কলেজে চাকুরীরত থাকার মিথ্যে পরিচয় দিয়ে বেতন-ভাতা অবৈধভাবে উত্তোলন ও আত্মসাতের ষড়যন্ত্র করে আসছিলো। কিন্তু অত্র কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন ঐ মোস্তাফিজুরের সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঐ বে-আইনী কাজে বাধা দেয়ায় সে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত ষড়যন্ত্র করে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০/০৭/২০২২ ইং তারিখে মোস্তাফিজুর নিজ শ্বশুর গোত্রীয় লোকজন নিয়ে অধ্যক্ষের জীবন নাশের প্রচেষ্টা চালায়। ফলে অধ্যক্ষ গত ০৭/০৮/২০২২ ইং তারিখে এব্যাপারে জাজিরা থানায় জিডি নং ৩১৭ এন্ট্রি করলেই মোস্তাফিজ আরো চরমভাবে ক্ষীপ্ত হয় এবং এই আক্রোশেই স্বীয় শ্বশুর গোত্রীয় লোকজন সঙ্গে নিয়ে বর্ণিত বে-আইনী মানব বন্ধনসহ মনগড়া, মিথ্যে ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারে উৎসাহী করে।
এছড়াও বর্ণিত প্রেস ব্রিফিং এ কলেজ অথরিটির পক্ষ হতে জানানো হয় যে, উক্ত মানব বন্ধন ও পরিবেশিত উদ্দেশ্য প্রণোদিত বানোয়াট সংবাদে অনৈতিক ভাবে কলেজ পরিচালনাসহ স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যে, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়। অসৎ উদ্দেশ্যে প্রনোদিত আনীত সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তার অনুকূলে অকাট্য তথ্যাদি পেশ করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কলেজের পক্ষ থেকে প্রামাণ্য তথ্যাদিসহ জানানো যে, লেলিহান অর্থলোভী ধুরন্ধর মোস্তাফিজুর রহমানই বরং প্রচলিত জনবল কাঠামো ও এমপিওনীতিমালা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিধি লঙ্ঘন করে একই সাথে একাধিক কলেজে ও পদে কর্মরত থেকে তার তথ্য গোপন রেখে, সংশ্লিষ্ট দপ্তর-অধিদপ্তরের অসাধু কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে দিনের পর দিন অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে তাকে বে-আইনীভাবে আত্মসাৎকৃত প্রায় ৮ লক্ষ টাকা সরকারি কোশাগারে ফেরত প্রদানের নির্দেশনা পত্র জারী করেছে।

এছাড়াও এ তারা বলেন, ঐ মোস্তাফিজুর রহমান বিগত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অবৈধভাবে ডা. মোসলেম উদ্দিন খান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে প্রতারণা করে কলেজের হিসাব নম্বর থেকে, নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে, কলেজের বৃক্ষ-সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে প্রায় লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছে।
অতএব, ডা. মোসলেম উদ্দিন খান কলেজের পক্ষ হতে আমরা এই হীনউদ্দেশ্য প্রণোদিত অনৈতিক মানব বন্ধন ও অবান্তর মিথ্যে সংবাদ পরিবেশনের জোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সর্বশেষ