জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত এক বার্তায় বলা হয়, বুধবার অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। ১০৯টি রাষ্ট্র প্রস্তাবটির সহ-উত্থাপক। ২০১৭ সালের পর, এই প্রথম জাতিসংঘের কোনো প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিল সর্বোচ্চ সংখ্যক রাষ্ট্র।

জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশের পর ধানক্ষেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার ফাইল ছবি

 

প্রস্তাবটিতে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করা হয়। এতে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বের করে, রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজভূমি মিয়ানমারের স্বপ্রণোদিত হয়ে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সাথে ফিরে যেতে পারে- সেজন্য রাখাইনে সেই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা আহ্বান জানানো হয়। 

প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার সময় বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায়, তারা শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংহতি পাওয়া উচিত। মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় পর্যাপ্ত তহবিল প্রয়োজন।’

বিবৃতিতে তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা উপস্থিতি দীর্ঘায়িত না করতে এই গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যুটি উত্থাপনের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ায় ওআইসি ও ইইউ’র প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। হোসেন বলেন, ‘আমরা মানবিক বিবেচনায় নিজ ভূমি থেকে বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় প্রদান করেছি। তাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।’

এ ব্যাপারে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের পরিস্থিতির উত্তরণ এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বপ্রণোদিত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বহুমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবটিতে মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ও জাতিসংঘের সকল মানবাধিকার ম্যাকানিজমের সাথে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটিতে মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট সমাধানে প্রতিবেশী দেশ ও আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে, এ ব্যাপারে আসিয়ানের ৫ দফা প্রস্তাব দ্রুত বাস্তাবনের আহ্বান জানানো হয়। এতে চলমান বিচার ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা ও প্রোসিকিউশন অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের তদন্তের অগ্রগতিকে স্বাগত জানানো হয়।

প্রস্তাবটিতে বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশের মানবিক উদ্যোগ এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আইসিসি, আইআইএমএম ও অন্যান্য মেকানিজমের সাথে অব্যাহত সহযোগিতাকে স্বাধুবাদ জানানো হয়। এতে দায়িত্বশীল ও দায় ভাগাভাগির চেতনা নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র : বাসস

সর্বশেষ