চাল-আটার সঙ্গে আদাও চড়া ডিম-মুরগি-সবজি কমেছে

 

সপ্তাহের ব্যবধানের রাজধানীর বাজারে চাল, আটা, ময়দা ও আদার দাম বেড়েছে। চাল কেজিতে বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা। চীন থেকে আমদানি করা আদা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আটা ও ময়দার সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে খোলা আটা ৬৫ টাকা এবং খোলা ময়দা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন।

সব ধরনের মুরগি কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে। দাম কমে ডিমের ডজন হয়েছে ১২৫ টাকা এবং বাজারে সরবরাহ প্রচুর থাকায় শীতকালীন সবজির দামও কমেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, জোয়ারসাহারা বাজার ও বাড্ডার বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

চাল-আটার সঙ্গে আদাও চড়া ডিম-মুরগি-সবজি পড়তি

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস ধরে দেশের বাজারে চিনির তীব্র সংকট চলছে। খোলা চিনি কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরকার ৯০ টাকা দাম বেঁধে দিলেও বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। প্যাকেট চিনি কেজি ৯৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকে তা বাজার থেকে উধাও।

দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে বোতলজাত ভোজ্য তেলেরও সংকট চলছে। খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের সরবরাহ থাকলেও দাম বেশি। ক্রেতারা এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পারছে না।

গতকাল রাজধানীর মধ্য বাড্ডার বাজারে পাঁচ থেকে ছয়টি দোকান ঘুরেও বোতলের সয়াবিন পাননি আব্দুর রশিদবলেন, ‘কিছুদিন পর পর এভাবে তেলের সংকট তৈরি করে কম্পানিগুলো দাম বাড়ায়। অথচ খোলা সয়াবিন তেলের সংকট নেই, সেটির দাম বাড়িয়ে দোকানিরা বিক্রি করছে। ’

গতকাল জোয়ারসাহারা বাজারে কথা হয় মো. রিপনের সঙ্গে  তিনি বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে বাজারে প্যাকেট চিনি পাচ্ছি না। খোলা চিনি পেলেও ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এখন ব্যবসায়ীরা যেভাবে পারছে দাম নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার তদারক করার কোনো উদ্যোগও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে। ’

ক্রেতাদের অভিযোগের সত্যতা জানতে গত বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পরিবদর্শনে যান জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তিনি দেখতে পান, তেল ও চিনি দুটিরই সংকট রয়েছে খুচরা পর্যায়ে। শুধু খুচরা বাজারেই নয়, ডিলারদের কাছেও নেই চিনি।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে নিয়ে নতুন করে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম বাড়িয়েছে সরকার। তা না হলে সামনে এই সংকট আরো বাড়ত।

আটা-ময়দায় সংকট : বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আটা, ময়দার সংকট তৈরি হচ্ছে। দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। খোলা আটা কেজি ৬৫ টাকা, ময়দা কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্যাকেট আটা ও ময়দার সংকট।

রাজধানীর গুলশান কালাচাঁদপুর আশরাফি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে অর্ডার দিয়ে রেখেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কম্পানির প্যাকেট আটা ও ময়দা পাচ্ছি না। ’

আদার দামে আগুন : পেঁয়াজ ও রসুনের দাম না বাড়লেও হঠাৎ করে আদার দাম বেড়ে গেছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১২০ টাকা ও দেশি রসুন ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ করে বাজারে আদার দাম বেড়ে গেছে। আজ (গতকাল) চায়না আদা পাইকারিতে কেজি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। ’

চালের দাম বেড়েছে : রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরায় চালের দাম কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম  বলেন, পাইকারিতে সব ধরনের চাল বস্তায় ১০০ টাকা বেড়ে গেছে। এতে খুচরা বাজারেও দাম বেশি। মোটা চাল ব্রি-২৮ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, চিকন চাল মিনিকেট কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় এবং নাজিরশাইল কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কমেছে মুরগির দাম : রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স মা আয়েশা ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন  বলেন, ‘বাজারে এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় মুরগির দাম কমেছে। ব্রয়লার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়।

সবজির দামও পড়তি : রাজধানীর বাজারগুলোতে এখন শীতের পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটু কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লম্বা বেগুন কেজি ৫০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জোয়ারসাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল আওয়াল  বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও শিম ও কাঁচা টমেটো কেজি ছিল ১০০ টাকা, দাম কমে সেটা এখন ৬০ টাকায় চলে এসেছে। ’

মাছের দামে হেরফের নেই : মুরগি, ডিম ও সবজির দাম কমলেও মাছ আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া আকারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। দেড় কেজি ওজনের রুই ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, বড় রুই কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

সর্বশেষ