বিএনপির আন্দোলনে শর্ত ছাড়াই রাজি সমমনা দল

এবার কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে রাজি সরকারবিরোধী সমমনা সব রাজনৈতিক দল। তারা বলেছেন, আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, তারপর পাওয়া-না পাওয়া বা অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা। তবে সরকার ব্যবস্থা ও সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আনতে হবে- যাতে করে পরবর্তীতে আর কখনো দেশে একক কর্তৃত্ববাদী সরকারের উদ্ভব না হয়। দেশ ও মানুষ বাঁচানোর স্বার্থে এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য- ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটানো। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই সংকটে বিএনপি একা নয়, তাদের সঙ্গে সবাই আছে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদেরকে মন্ত্রী বানাতে হবে না। এসব এখন বড় কোনো ইস্যু নয়। সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোটাই এখন বড় ইস্যু। আগে পরিবর্তনটা আনুন। দেশের মানুষকে বাঁচতে দিন। দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার একটি ক্ষেত্র তৈরি করে দিন। জনগণ রাজপথে নামা শুরু করেছে। তাই এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু হচ্ছে- এই অবৈধ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশ ও জনগণকে রক্ষা করা। এ বিষয়ে আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে তারা (নাগরিক ঐক্য ও বিএনপি) আলাপ-আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা যুগপৎ আন্দোলন করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছি। সেগুলো নিয়ে দ্রুতই আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হব। যদি আমরা একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যাই, তাহলে অবশ্যই জয়ী হব ইনশাআল্লাহ।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অব. ড. অলি আহমদ এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এটা আমরা বছর তিনেক আগে থেকেই বলে আসছি যে- এই নিশিরাতের অবৈধ সরকারকে ক্ষমতায় রাখা যাবে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে হটিয়ে অবৈধ সংসদ বিলুপ্তসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে। যে সরকার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করে অবাধ, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। কাজেই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানো। গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশকে বাঁচানোর জন্যই সবার আগে এই সরকারের পতন দরকার। এ জন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে একমত হয়েছি। আগামী ১০ ডিসেম্বর কিংবা তারপর থেকেই ইনশাআল্লাহ আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামব। কারণ, জনগণ ইতোমধ্যে রাজপথে নামা শুরু করেছে। তারা আমাদের জন্য আর বসে থাকবে না। এমনকি আমরা নেতারা যদি না-ও নামি, তবুও আমাদের কর্মী-সমর্থকরাও আর বসে থাকবে না। কারণ, দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। যা কল্পনাও করতে পারছেন না অনেকে। সাধারণ মানুষ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। সরকারের মুখ থেকেই এখন দুর্ভিক্ষের কথা বের হচ্ছে। জ্বালানি উপদেষ্টা বলে দিয়েছেন, তারা আর বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না। জ্বালানি কিনতে পারবেন না। বুঝতেই পারছেন দেশের কী অবস্থা! কাজেই এই সরকারের পতন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে- ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।

এই সরকারকে হটানোই এখন প্রধান বিষয়। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বাস্তবতা বাংলাদেশে নেই। সরকারের পদত্যাগ, এই সংসদ বিলুপ্তি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনসহ সংবিধানে বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এখন আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করার পরই আমরা যুগপৎ আন্দোলন শুরু করতে পারব। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানো। জাতীয় পার্টির (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীম বলেন, রাষ্ট্রের এই ক্রান্তিকালে সবার আগে দরকার বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামীতে জাতীয় নির্বাচন। বিএনপির সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকব। এ বিষয়ে আমাদের কোনো শর্ত নেই। এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপির কাছে আমাদের কোনো শর্ত নেই। কারণ ইতোমধ্যে আমাদের শরিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে- আন্দোলনে সরকার পতনের পর আমাদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিষয়ে কোনো শর্ত নেই। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে- যারাই আন্দোলনে মাঠে থাকবেন- তাদের সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। তাছাড়া মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন ছাড়া উপায় নেই।

সর্বশেষ