পাড়ায় পাড়ায় মাদক যুব সমাজ ধ্বংশের মুখে

এম আরওয়াসিম, ভৈরব ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরঞ্জের ভৈরবে শহরে ও গ্রামে সমান তালে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। পৌর শহরের আনাচে-কানাচে প্রকাশ্যই বেচাকেনা হচ্ছে মদ,গাঁজা,ফেনসিডিল,ইয়াবাসহ হিরোইন। মাদককারবারিদের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মাদক সেবনকারির সংখ্যা।তারা এতোই বেপরোয়া যে আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের দমন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গেল এক বছরে মাদক কারবারি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশসহ এলাকাবাসী। হামলায় ৫ পুলিশ সদস্যসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। মাদক সেবনকারি টাকা না পেয়ে নিজ সন্তানকে হত্যাসহ স্ত্রী, মা-বাবা কাউকেই রেহাই দিচ্ছেনা। অনেকে আবার মাদক সেবনকারী সন্তানকে আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করছে নিস্তার পাওয়ার জন্য। খোজঁ নিয়ে জানাগেছে,পৌর শহরের আমলাপাড়া ও নিউটাউন এলাকায় রয়েছে প্রায় ২৫ মাদক কারবারি। থানা থেকে মাত্র ১৫ শত গজ দুরে এর অবস্থান। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক বেচা কেনা। প্রকাশ্য চলছে মাদক সেবন ও বিক্রি। মাদক বিক্রেতা ও সেবন কারীদের কাছে এলাকাবাসী অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদের ধরতে পুলিশ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা। গত ১৬ আগষ্ট আমলাপাড়া এলাকার সুশীলসমাজ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার সর্বস্থরের মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে সভা করেছে\ সভায় ঘোষনা দেয়া হয় যেহেতু মাদকের কালো থাবায় এলাকার যুবসমাজ ধংস হচ্ছে তাই এলাকাবাসী মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিকে পুলিশ খুজে না পেলেও র্যাব ৬শত বোতল ফেনসিডিলসহ তার একসহযোগি সহ আটক করে। পড়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারও মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে এলাকায়। তার ছয়টি স্পটে চলছে মাদক কারবার। ভৈরব থানার দেয়ালের পাশে রয়েছে তার আন্ডার গ্রাউন মাদকের গুদাম। আমলাপাড়া এলাকা এখন মাদকের ডিপো বলে খ্যাত। এলাকার বাঘা উজ্জল, ভোলা, রাসেল সহ ২৫ মাদক কারবারি প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে।

ভৈরব থানা পুলিশের কিছু সদস্যকে এ সকল মাদক কারবারিদের সাথে নিয়মিত উঠবস করতে দেখা যায় বলে জানান এলাকাবাসী। ভৈরব বাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা ও ফেনসিডিলের প্রকাশ্য বেচা কেনা চলছে। গত মাসে মাদক আটক নিয়ে ভৈরবপুর দক্ষিনপাড়ায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। শহরের কালিকাপ্রাসাদ এলাকার আতকাপাড়া,বাসস্টেন্ড,সিদ্দিরচর,এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে মাদকের আসর। এলাকার যুবসমাজ মাদকের নেশায় ধংশ হলেও দেখার কেউ নেই। গিয়ে মাদক ব্যবসা করতে হচ্ছে। আগানগর,শিমুলকান্দি,শ্রীনগর ও গজারিয়া এলাকায় মাদকের পাশাপাশি চলছে জুয়া খেলা। কেউ তাদের বাধা দিতে পারেনা। এলাকার কেউ মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে সেই ব্যাক্তিকেই মাদক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এ কারনে কেউ মাদক নিয়ে কথা বলে না। গত জুলাই মাসে শিমুলকান্দির তুলাকান্দি ও বাঘাইকান্দি এলাকায় দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জন আহতসহ ভাংচুর হয়। থানায় মামলাও হয়। কিন্তু মাদক ব্যবসা বন্ধ হচ্ছেনা। মাদককারবারিরা তাদের ব্যবসা প্রসার করতে অন্য মাদক কারবারিদের সাথে দফায় দফায় সংর্ঘয়ে জড়িয়ে পড়ছে। গেল ৬ মাসে মাদক বিক্রি নিয়ে ৫টি সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকায় মাদক বিক্রেতার হাতে নাইট গার্ড খুন হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ভৈরবপুর দক্ষিনপাড়া এলাকায় মাদক রেখে দেয়ায় কসাইপট্টি ও দক্ষিনপাড়ায় দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিমুলকান্দির তুলাকান্দি ও চানপুর এলাকায় মাদক বিক্রি নিয়ে সংর্ঘষর ঘটনায় ১০ জন আহত হয়।

শহরের ভৈরবপুর দক্ষিনপাড়ায় মাদক সেবন কারি স্ত্রীর কাছে মাদকের টাকা চেয়ে না পেয়ে তার পেটে বটি দা দিয়ে আঘাত করে। এতে স্ত্রীর গর্ভের সন্তান মারা যায়। জগনাথ পুরে মাদক সেবনকারি টাকা না পেয়ে মাকে আহত করে। মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদফতর ভৈরব সার্কেলের পরির্দশক সেন্টু রঞ্জন জানান, এলাকার মাদক কারবারিদের ধরতে পুলিশের রিকুজেশন চাইলে সময় মত পাওয়া যায়না। আমাদের অস্ত্র নেই ,গাড়ি নেই, লোক বল কম তাই সব জায়গায় অভিযান চালানো সম্ভব হয়ে উঠেনা। তবু ভৈরব সার্কেল বছরে বিপুল পরিমান মাদক ইয়াবা,ফেনসিডিল,গাজা আটকসহ বেশ কিছু মাদককারবারি গ্রেফতার করেছে। ভৈরবের কালিপুরে সবচেয়ে বেশী মাদক কারবারি মাদক ব্যবসা নির্দ্বিধায় রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী যুব সমাজ কে ধ্বংশের হাত থেকে বাচাতে আইন শৃখংলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভৈরবের সচেতন মহল। অন্য দিকে ভৈরব থানা পুলিশ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের আটক না করলেও মহাসড়কে যানবাহনে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করলেও পুলিশের চেকপোষ্ট নিয়ে মাদক পাচার ও গায়েব করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কে যানবাহন তল্লাশী করে মাদক আত্মসাতের অভিযোগে চলতি জানুয়ারি থেকে আগষ্ট পর্যন্ত ভৈরব থানার ৯ জন এসআইকে অনত্র বদলী করেছে জেলা পুলিশ সুপার ।

এ বিষয়ে ভৈরব মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সেন্টু রঞ্জন নাথের সাথে ভৈরবে মাদকের বিস্তার নিয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে পার না। উক্ত বিষয়ে বক্তব্য নিতে হলে কিশোরগঞ্জ মাদকদ্রব্য কর্ম কর্তার নিকট থেকে বক্তব্য নিতে হবে। এমন অভিযাগও পাওয়া যায় যে, ভৈরবে পাড়ায় মহল্লা গলোতে মাদক বিক্রয়চলে কতিপয় প্রভাব শালী ব্যক্তিদের ছত্র ছায়ায়। মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাবে কিনা এমনি দঃচিন্তায় রয়েছে ভৈরবের প্রতিটি অভিভাবক। ভৈরবে পাড়ায় পাড়ায় মাদক৷ আস্তানা গড়ে উঠায় আজ ভৈরবের ছাত্র ও যুব সমাজ ধংশের মুখে ।এলাকার প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় মাদকের ছড়াছড়ি ভৈরব বাজারের অলিগলি গুলো এখন মাদক কেন্দ্র রুপে পরিনত হচ্ছে। ভৈরবেএমন কোন গ্রাম বা পাড়া নেই যেখানে মাদকের কালো থাবা পড়েনি। একই চিত্র পরিলক্ষিত হয় ভৈরবের ৭ টি ইউনিয়নেও। সীমান্তএলাকা গুলো থেকে মাদক খুব সহজে বহন করে নিয়ে আসতে পারে ভৈরবে। মূলত সড়ক রেল ও নদী পথের জংশন বলা চলে ভৈরবকে। এজন্যই ভৈরব কে বলা যায় মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট। এই সুবাদে সারাদেশে মাদক পাচার কালে ভৈরব ট্রানজিন পয়েন্ট হওয়ায় ভৈরে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া নৌপথ ও সড়ক পথ গুলোতে ঢিলে ঢালা চেকপোষ্ট থাকায় পাচারের সুযোগ পায় মাদক ব্যবসায়ীরা অবাধে। এতে করে ভৈরবে দিন দিন বৃদ।

সর্বশেষ